পেকুয়ায় বন উজাড় করে নির্মিত হচ্ছে বসতবাড়ি

pekua-pic-20-08-19.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২৪ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন উজাড় করে নির্মিত হচ্ছে বসতবাড়ি। একটি প্রভাবশালী চক্র টইটং ইউনিয়নের পূর্ব ধনিয়াকাটা লেইনের শিরা নামক স্থানে ওই অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের অধীন বারবাকিয়া রেঞ্জের আওতাধীন টইটংয়ের পূর্ব ও দক্ষিণ সীমানায় গহীন অরণ্যে এ বসতি স্থাপন কাজ অব্যাহত রেখেছে। বনের জায়গায় ওই ব্যক্তি বসতি স্থাপন কাজ চলমান রাখায় বনের আধিপত্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্ধ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, লেইনের শিরায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসতি স্থাপন কাজ অব্যাহত রয়েছে। মোহাম্মদ সেলিম নামক এক ভূমিদস্যু ব্যক্তি সামাজিক বাগানে বসতবাড়ি স্থাপন করছে। ওই ব্যক্তি গত ১ সপ্তাহ আগে থেকে লেইনের শিরা নামক স্থানে বসতবাড়ি নির্মাণকাজ শুরু করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লেইনের শিরা পাহাড়ে বনবিভাগ ২০০৬ সালে সামাজিক বাগান সৃজন করে। অংশীদারিত্বমুলক বাগান সৃজনের জন্য বনবিভাগ উপকারভোগী চুড়ান্ত করে। সরকার ও ব্যক্তি পর্যায়ে ওই বাগান সৃজন করতে বিনিয়োগ করে। সে সময় সরকার উপকারভোগীদের মাঝে অংশীদারিত্ব বাগানের দলিল হস্তান্তর করে।

সুত্র জানায়, লেইনের শিরা নামক স্থানেও বনায়নের আওতায় সামাজিক বাগান রোপন করে। মোহাম্মদ সেলিম নামক ব্যক্তি লেইনের শিরায় অনুপ্রবেশ করে। কৌশলে পাহাড়ে ঢুকে পড়ে ওই ব্যক্তি। স্থানীয়রা জানায়, সেলিম বহিরাগত ব্যক্তি। তাকে অনেকে মায়ানমারে রোহিঙ্গা নাগরিকও বলছে। লেইনের শিরায় বসবাসরত লোকজন জানায়, সেলিম সম্প্রতি এ পাহাড়ে এসেছে।

আমরা যে টুকু জানি সেলিম এখানকার স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাকে আমরা বার্মাইয়া সেলিম বলে চিনি। তবে গত কয়েক বছর আগে সেলিম স্থানীয় এক মহিলাকে বিবাহ করে। ওই সুবাধে বার্মাইয়া সেলিম টইটংয়ে কয়েক বছর আগে থেকে অবস্থান করছে। স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতে তার দৃষ্টি এখন পাহাড় কেন্দ্রিক। সামাজিক বাগানের ওই অংশে এখন ঘর তৈরী করছেন বার্মাইয়া সেলিম।

ধনিয়াকাটা বাজারের নুরুচ্ছফা জানায়, সেলিম মায়ানমারের নাগরিক। পাহাড়ে ঘর তৈরী করছে লোকজন এ খবর আমাদেরকে জানিয়েছেন। তারা ক্যাম্প থেকে ছড়িয়ে পড়ছে। জায়গাটি আমার এক আত্মীয় রক্ষনাবেক্ষন করছিলেন। ফলজ, বনজ ও ঔষুধি গাছের বাগান আছে স্থানীয় ওই ব্যক্তির। এ সব সাবাড় করে এখন নিজের নিয়ন্ত্রন নিয়ে আসছে। স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতে সেখানে মাটির ঘর তৈরী করছে।

এ ব্যাপারে রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল গফুর মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হয়। মুঠোফোনে সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম দক্ষিন বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শওকত ইমরান আরাফাত জানায়, আমি নতুন যোগদান করেছি। রেঞ্জ অফিসে গিয়েছিলাম। নতুন করে কোন স্থাপনা নির্মিত না হওয়ার জন্য কড়াভাবে নির্দেশ দিয়েছি। যারা জবর দখলকারী তাদেরকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে। পেটের ভিতর থেকে জায়গা বের করে নিয়ে আসা হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri