রাখাইনে রোহিঙ্গা নির্যাতনের নতুন ভিডিও প্রকাশ (ভিডিও সহ)

rohingya-icj-genocide-photo.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৪ নভেম্বর) :: রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা নির্যাতনের নতুন তথ্যচিত্র প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।

আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরুর আগে নতুন এ ভিডিওচিত্রটি প্রকাশ করল কাতারভিত্তিক গণমাধ্যমটি।

এতে বলা হয়, জার্মানির নাৎসি বাহিনীর মতো বিশেষ বাহিনী দিয়ে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গা নৃশংসতায় মেতে ওঠে মিয়ানমার সরকার। আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরুর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে প্রকাশিত তথ্যচিত্রটি রোহিঙ্গা নির্যাতনের অন্যতম প্রমাণ হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

নদীতে পড়ে থাকা সন্তানদের মরদেহ তুলে আনছে তাদের পরিবার। বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় আরও অনেকের।

আলজাজিরার প্রকাশিত নতুন ভিডিওতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গাদের ওপর এভাবেই নৃশংস অত্যাচার নির্যাতনে মেতে উঠতে দেখা যায়। ভয়াবহ সেই নির্যাতনের বর্ণনা দেয় রোহিঙ্গারা।

তারা বলেন, মিয়ানমার সেনারা আমাদের সন্তানদের আগুনে ছুঁড়ে দেলে। আমাদের বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আমাদের মুখ এমন দিকে ঘুরিয়ে রাখতে বলা হয় যাতে আমরা আমাদের বাড়ি পুড়ে যাওয়ার দৃশ্য না দেখতে পারি তারা আমাকে একটা জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। অমানবিক নির্যাতন চালায়। পাঁচ মাস পর জানতে পারি আমি অন্তঃসত্ত্বা।

মিয়ানমারের শিক্ষাবিদ ড. মং জার্নি বলেন, মূলত ১৯৬৬ সালের দিক থেকে রোহিঙ্গাদের সমস্যা হিসেবে দেখতে শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। আর এই রোহিঙ্গাদের দমনে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর মতো নাসাকা থেকে শুরু করে এসএস বাহিনী গঠন করে মিয়ানমার।

মিয়ানমারের সাবেক গোয়েন্দা প্রধানের দাবি, ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এ সংকট চলে আসছে। মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ বন্ধেই নাসাকা গঠন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে রোহিঙ্গারা তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে, তারা যে মিয়ানমারের নাগরিক তার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

এক রোহিঙ্গা বলেন, আমরা বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী নই। বরং মিয়ানমারের এ বাড়িটিতে আমার জন্ম ১৮৯০ সালে যেটি আমার পিতামহ নির্মাণ করেছিলেন।

জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মিয়ানমারের বিচার শুরুর ঠিক দুই সপ্তাহ আগে তথ্যচিত্রটি প্রকাশ করল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা।

এটিকে রোহিঙ্গা নির্যাতনের প্রামাণ্য দলিল মনে করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গা ন্যায় বিচার পাবে বলেও আশা সংশ্লিষ্টদের।

দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই নিপীড়নের চিত্র বিশ্বসম্প্রদায়ের কাছে পরিষ্কার হয় ২০১৭ সালে, যখন থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নামে। দীর্ঘ এই সময় ধরে রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়নে মিয়ানমার সরকার আলাদা বাহিনী গঠন করে।আগস্ট মাসের ২৫ তারিয়ে মিয়ানমার সেনাদের নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri