পেকুয়ায় ঘরে আগুন, গ্রামবাসি বলছে নাটক

fire-21.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১ ডিসেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় আগুনে একটি রান্না ঘরের আংশিক ভষ্মিভুত হয়েছে। খড়ের ছাউনির ওই ছোট্ট বাশের রান্না ঘরটিতে আগুনের সুত্রপাত নিয়ে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

তবে অগ্নিকান্ডে ওই রান্না ঘরটি সম্পুর্ন পুড়ে যায়নি। আগুন লাগার মুহুর্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই স্থানে এসে আগুন নিভাতে সক্ষম হয়েছে। আগুনের সুত্রপাত নিয়ে গ্রামবাসিরা বিষ্মিত হয়েছেন।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রান্না ঘরটি দুই দফা অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। আগুনের ধরন একই রকম। দুই বারেই ভেতর থেকে আগুনের সুত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন প্রতিবারেই আগুন লাগানোর সময় রান্না ঘরের বাহিরের দরজা তালা ঝুলানো ছিল। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

গ্রামবাসি জানায়, আগুন লাগা ও নিয়ন্ত্রনের মাত্র ১০-১২ মিনিটের মধ্যে পুলিশ আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আগুন নিয়ে রহস্যের দানা আরো বেড়ে যায়।

গ্রামবাসি জানায়, মুলত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আগুন নিয়ে নাটক করছে বসতবাড়ির মালিক। দু’রাতেই আগুন লাগে। এক সপ্তাহ আগে শনিবার রাতে আগুন দেখতে পান। দ্বিতীয় দফায়ও শনিবারে একই বাড়িতে একই স্টাইলে আগুন লেগে যায়।

স্থানীয়রা মন্তব্য করেছেন এটি দুর্ঘটনার আগুন নয়। মনে হয় এটি শনির দশা।

জানা গেছে, শনিবার (৩০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের দক্ষিন বটতলীয়া পাড়া গ্রামে অগ্নিকান্ড হয়েছে। স্থানীয় মৃত.নুরুল হকের ছেলে সাঁচি মিয়ার রান্নাঘরে আগুনের সুত্রপাত হয়। বটতলীয়া পাড়া সমাজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক জানায়, সাঁচি মিয়ার রান্নাঘরে আগুন লেগেছে এ খবর আমরা পেয়েছি।

মুহুর্তে গিয়ে আগুন নিভায়। এর এক সপ্তাহ আগেও আগুন লেগে ছিল। আমরা বৈঠক করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করি। মুলত প্রতিবেশি নুরুল ইসলাম ও সাঁচি মিয়ার বিরোধ আছে। তাকে ফাঁসাতে আগুনের ওই নাটক।

সমাজ কমিটির সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম জানায়, কেউ আগুন দেয়নি। সাঁচি মিয়া প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে রান্না করে আগুন দিয়েছে। আগে থেকে কলসিভরা পানি মজুদ ছিল। আগুন লাগার আগেই পুলিশকে ম্যাসেজ দেয়। না হলে ১০ মিনিটের মধ্যে পুলিশ কিভাবে আসল।

জাকের হোসেন, শাহাব উদ্দিন,জসিম উদ্দিন,নাজেম উদ্দিন, মাহমুদুল করিমসহ প্রতিবেশিরা জানায়, আগুন সাঁচি মিয়া নিজেই দিয়েছে। এর আগেও তার বোন নাছিমার ইন্ধনে একই ঘরে আগুন দেয়।

নাছিমার স্বামী করিমদাদ ও সাঁচি মিয়া আগুন দিয়ে সমাজে বিশৃংখলা করছে। ২০হাজার টাকা প্রতিবেশি নুরুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম সাঁচি মিয়াকে ধার দেয়। ওই টাকা পরিশোধের সময় হয়েছে। টাকা না দিতে এ কৌশল। ইউপি সদস্য নুরুল হক সাদ্দাম জানায়,আমি রাতে গিয়েছি। আগুন নয় শটামি।

পুলিশ কর্মকর্তা রহস্য ও নাটকীয়তা বুঝতে পেরেছে। পেকুয়া থানার এসআই আব্দুল মালেক জানায়,আগুনের খবর পেয়ে রাতে গিয়েছিলাম। পুলিশ তদন্ত করছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri