মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই ৭১’র কক্সবাজার রণাঙ্গনের সেনানী এফাজ উল্লাহ

muktijoddha-coxbangla.jpg

এম.এ আজিজ রাসেল(২ ডিসেম্বর) :: কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়ার মৃত হাজী বদরুজ্জামানের পুত্র এফাজ উল্লাহ। আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে।

৭১ এর ২৭ শে মার্চ থেকে ২রা মে পর্যন্ত জয় বাংলা বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে তৎকালীন কমান্ডার কামাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে পৌর প্রিপ্যার‌্যাটরি স্কুল মাঠে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণ নিয়েই চট্টগ্রাম ১নং সেক্টরের আওতাধীন কক্সবাজারের রণাঙ্গনে একাধিক অপারেশনে অংশ নেন এই বীর সেনানী। ওইসময় কক্সবাজার এয়ারপোর্ট দখল মিশনে গর্বিত সদস্য হয়ে পাক হানাদার বাহিনীর ১১ জন ইপিআর সদস্যকে সারেন্ডার করাতে সক্ষম হয় কামাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে থাকা মুক্তিবাহিনী। জীবনের মায়া ভুলে পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে এফাজ উল্লাহ ছিলেন একজন অকুতোভয় লড়াকু সৈনিক।

ওই সময় মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক, থাকা-খাওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার কারণে পাক বাহিনী তার বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। তবুও থেমে থাকেননি তিনি। দেশকে স্বাধীন করতে অপ্রতিরোধ্যভাবে চালিয়ে গেছেন যুদ্ধ। পাকিস্তানীদের পতাকা নামিয়ে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো ছিল তার দীপ্ত শপথ। সেই শপথে বলিয়ান হয়ে পাক হানাদারদের ঘুম হারাম করেছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন তিনি। দীর্ঘ ৫ মাস কারাভোগের পর তার বিরুদ্ধে গুলির অর্ডার হয়।

তখন অন্যান্য বন্দি মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে এফাজ উল্লাহকেও রেষ্ট হাউজের পাশে চোখ বেঁধে ব্রাশ ফায়ার করা হয়। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। এরপর আবারও যুদ্ধে সক্রিয় হয়ে উঠেন তিনি। বিভিন্ন মিশনে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আহতও হন। যার দাগ শরীরে এখনও রয়েছে তার। দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নই ছিল তার স্বপ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গড়ে উঠছে সুখী-সমৃদ্ধি সোনার বাংলাদেশ।

বর্তমানে তার বয়স ৬৫। কিন্তু এখনও তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় স্থান পাননি। দেশ স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না পাওয়ার ব্যথায় প্রতিনিয়ত তাকে ব্যথিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কার্যক্রম সম্পর্কেও অবগত ছিলেন না তিনি। যার জন্য বিলম্ব হয়ে যায় আবেদন করতে। বর্তমানে তাকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি বরাবর আবেদন করেছেন।

এছাড়া জয় বাংলা বাহিনী’ ৭১ এর প্রধান ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আবু তালেব, মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কালাশু বড়–য়া, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল আলম চৌধুরী ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদর উপজেলার কমান্ডার ডাঃ শামশুল হুদা এফাজ উল্লাহ একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও ৭১ এর বীর সেনানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছেন।

এ অবস্থায় তাকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তি করতে সংশ্লিষ্ঠ মহলের সুনজর কামনা করেছেন তার পরিবার পরিজন।

মুক্তিযোদ্ধা এফাজ উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মী হিসেবে একাত্তরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। কমান্ডার কামাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মিশনে অংশ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। ওই সময় জীবনের কোন ভয় ছিলনা। স্বপ্ন ছিল দেশ স্বাধীন হবে। গড়ে উঠবে স্বয়ংসম্পূর্ণ সোনার বাংলাদেশ। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের শীর্ষে অবস্থান করছে।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। কিন্তু এখনও আমি রাষ্ট্রীয় ভাবে মুক্তিযোদ্ধার সম্মানটুকু পেলাম না। আমার নানা সুবিধার প্রয়োজন নেই। মৃত্যুর আগে যেন মুক্তিযোদ্ধার সম্মান নিয়ে মরতে পারি, এটাই আমার শেষ চাওয়া।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri