স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮ নিয়ে বিএমএ,স্বাচিপ ও এফডিএসআর চিকিৎসকদের মধ্যে বিভক্তি

Doctor-asso.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৩ ডিসেম্বর) :: প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে কড়া বিভক্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), সরকার সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ), অন্যদিকে রয়েছে- ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)। বিএমএ ও স্বাচিপের উপর অসন্তুষ্টি থেকে বেশকিছু তরুণ চিকিৎসক এফডিএসআর গঠন করেন। প্রতিটি সংগঠনের কর্মীরাই সরকার সমর্থিত।

স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮ এর বিরোধিতা করে সম্প্রতি এফডিএসআর ঢাকায় একাধিক অনুষ্ঠান করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) এর প্রতিনিধি, বিশিষ্ট চিকিৎসক, সংগঠক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাংবাদিক নেতা, টেলিভিশন তারকা উপস্থিত ছিলেন।

যদিও বিএমএ, স্বাচিপের সভাপতি-মহাসচিব বা তাদের কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি দেখা যায়নি এসব একাধিক অনুষ্ঠানে। অনুষ্ঠানগুলোয় কোনো কোনো সাংবাদিক এফডিএসআর এর দায়িত্বশীলদের কাছে জানতে চান- বিএমএ-স্বাচিপের কেউ নেই কেন, তাদেরকে আপনারা ডাকেন না? নাকি আপনাদের সঙ্গে তাদের মতের কোনো দ্বন্দ্ব আছে?

এমন প্রশ্নে ১৯ নভেম্বর রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এফডিএসআর আয়োজিত “প্রস্তাবিত ‘স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮’ নিরাপত্তা রোগী ও চিকিৎসক : বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সংগঠনটির উপদেষ্টা ডা. আবদুন নূর তুষার বলেছিলেন, আমি নিজে তাদের অফিসে গিয়ে, কার্ড দিয়ে দাওয়াত দিয়েছি। এর বাইরেও তাদের সঙ্গে কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।

এফডিএসআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাসনাৎ মিল্টন মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) বলেন, আমাদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে তাদেরকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু তারা আসেন না। আমরা তো চিকিৎসকদের স্বার্থেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছি। এমন তো নয় যে, ব্যক্তিস্বার্থ আদায়ে কিছু করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেশাগত স্বার্থরক্ষা নিয়ে বিএমএ-স্বাচিপের সঙ্গে তুমুল দ্বন্দ্ব আছে এফডিএসআরের।

এফডিএসআরের অভিযোগ- চিকিৎসকদের সুরক্ষা, অধিকার আদায়ে বা চিকিৎসকদের দুর্যোগ প্রশমনে বিএমএ-স্বাচিপকে কখনও সক্রিয় পাওয়া যায় না। তারা শুধুমাত্র বিবৃতির মাঝেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮ এর যে খসড়া তৈরি করা হয়েছে, তা বিএমএ-স্বাচিপের উপস্থিতিতেই তৈরি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই খসড়াটি প্রহসন ছাড়া কিছুই না।

এফডিএসআর বলছে, আইনটি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করেছে এফডিএসআর।

মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, আইন প্রণয়ন করার সময় বিএমএ-স্বাচিপ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তখন তারা কোনোরূপ মন্তব্য করেননি। তাদের মতে, এ আইন ঠিকঠাক মতোই প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু এদিকে স্বাচিপকে বাদ দিয়ে মন্ত্রণালয় কখনোই তৃণমূল চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে না। ফলে চিকিৎসকদের জন্য উপকারী কোনো আইন প্রণীত হয়নি। বরং চিকিৎসকদের জন্য একটি নিবর্তনমূলক আইনের খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

এফডিএসআরের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল হাসনাৎ মিল্টন বলেন, আমাদের কথা- প্রস্তুত করা খসড়াটি বাদ দিয়ে দুটো আইন করা। একটি “মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক-ল্যাবরেটরি আইন”, আরেকটি “চিকিৎসক-স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী সুরক্ষা আইন”।

গত ৯ নভেম্বর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এফডিএসআর এর উপদেষ্টা ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব ডা. আবদুন নূর তুষার বলেন, ওই আইন বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসক ও রোগী- কারও জন্যই মঙ্গলজনক হবে না।

বিএমএ মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী মঙ্গলবার (৩ডিসেম্বর) বলেন, আমরা জাতীয় সংগঠন করছি। আমরা সেভাবেই চলব এবং আচরণ করব। তা-ই করছি। আমরা তো বলিনি, আমাদের বাইরে কেউ মতামত দিতে পারবে না, কারও মতামত নেয়া হবে না। এফডিএসআর আমাদের কাছে মতামত পাঠাক, আমাদেরকে বলুক, তাহলেই হয়। আর তাদের কাগজপত্র-চিঠি আমরা তো পেয়েছি। সবকিছু তাদের (এফডিএসআর) কথা মতো করতে হবে নাকি।

একটি প্রশ্নে তিনি বলেন, অনলাইন দিয়ে সবকিছু হয় না। হলে ওই আইনের বিষয়ে সারাদেশের বিএমএ শাখার নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করার কোনো দরকার ছিল না। মন্ত্রণালয়ে আমরাও যে মতামত জানিয়েছি, তা বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকদের কাছ থেকে নেয়া।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri