কুতুবদিয়া দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে

09.jpg

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া(১১ ডিসেম্বর) :: শীত পড়তে শুরু করেছে। ভ্রমণ পিয়াসীরা ঘুরে আসতে পারেন কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা সাগর কন্যা কুতুবদিয়া। জেনে আসতে পারেন ইতিহাস-ঐত্যিহের অনেক পৌরানিক কাহিনী। দেখে আসতে পারেন সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। চট্টগ্রাম হয়ে নৌকা ভ্রমণে কুতুবদিয়া দ্বীপে আসলে আপনি অভিবাধন পাবেন এক ঝাঁক গাঙচিলের। সাথে পাবেন বঙ্গোপসাগরের শান্ত ঢেউয়ের কোমল পরশও। নিজেকে আকাশের বিশালতায় না হারালেও আপনার মন হারিয়ে যাবে অথৈই সাগরের গভীরতায়।

অন্যদিকে পেকুয়া-মগনামা হয়ে যদি আসেন তাহলে আপনি পাবেন রুমাঞ্চকর এক অনুভূতি। আপনাকে সেই অনুভূমি দিবে ক্ষরস্রোতা কুতুবদিয়া চ্যানেল। যান্ত্রিক বোটের দোল খেতে খেতে শহিরীত হবেন আপনি। মনে পড়বে উহড়না উহড়না পালকির কথা। মাঝে মধ্যে ভয়ও। যেন এক মোহনীয় এ্যাডভ্যাঞ্চার।

তবে জোয়ারের সময় এটা আপনি পাবেন না। কারণ তখন চ্যানেল থাকে অত্যন্ত নমনীয় এবং শান্ত। মগনামা ঘাট থেকেও আপনি এই মায়া দ্বীপের ম্যাপটি এঁকে নিতে পারবেন। দেখতে ঠিক যেন শোল বা টাকি মাছের মত হবে আপনার অঙ্কিত ম্যাপটি। কুতুবদিয়া প্রবেশের আরো অনেক জায়গা রয়েছে। তার মধ্যে মগনামা ঘাটই উল্লেখযোগ্য।

চ্যানেল পার হতেই আপনি অভিবাধন পাবেন টমটম রিকশা বা সিএনজি চালকের। জনপ্রতি মাত্র পনেরো টাকা ভাড়ায় আপিনি পৌঁছে যাবেন উপজেলা সদরে। সেখানে থাকার জন্য বেছে নিতে পারেন হোটেল সমূদ্র বিলাস অথবা জেলা পরিষদের ডাক বাংলো। দ্বীপে দুই-একদিন অবস্থান করে সামুদ্রিক টাটকা মাছের স্বাদ গ্রহণসহ বাস্তব জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন ভূগৌলিক বিভিন্ন বিষয়ে।

দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরূপ দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়া। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর মোহনা থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের কোলে কুতুবদিয়া দ্বীপের অবস্থান। ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত কুতুবদিয়া থানা উপজেলায় রূপান্তরিত হয় ১৯৮৩ সালে। বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত এ জনপদের পুরোটাই যেন পর্যটনের বিশাল ক্ষেত্র। দেশের পর্যটন শিল্পের অফুরন্ত সম্ভার কক্সবাজার জেলার উল্লেযোগ্য অংশ দখল করে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার এ দ্বীপটি।

এ দ্বীপের পশ্চিমে রয়েছে প্রায় ২২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের দৃষ্টিনন্দন সমুদ্র্র সৈকত, উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহাসিক বাতিঘর, কালামার মসজিদ, কুতুব শরীফ দরবার, কুতুব আউলিয়ার মাজার, ফকিরা মসজিদ, প্রাকৃতিকভাবে লবণ উৎপাদন কেন্দ্র,শুঁটকিমহাল, পশ্চিমে সৈকত জুড়ে সাগরের জলরাশির বিশাল বিশাল ঢেউ আছড়ে পড়ার মোহনীয় দৃশ্য, দেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎ পাইলট প্রকল্প, ঝাউবিথিসহ প্রকৃতির সবকিছুই যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে সাগর কন্যা কুতুবদিয়ায়। অনেকেই একে বলে মায়া দ্বীপ।

সারা বছরই কুতুবদিয়ায় পর্যটকের আনাগোনা বাড়তে শুরু করায় এই মায়া দ্বীপকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়ে দিয়েছে আর্থিক উন্নতির স্বপ্ন। দ্বীপের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রয়োজন এখন শুধু গ্রীড লাইনের বিদ্যুৎ ও একটি স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ নিমার্ণ। যা স্থানীয় সাংসদের জোর প্রচেষ্টায় ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। এটি পূর্ণ হলে দ্বীপের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অন্যতম পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে কুতুবদিয়া।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri