আমেরিকার অভিবাসন কঠিন করায় কমছে এশিয়ানদের গ্রিনকার্ড

usa-trumps-latest-immigration-policy.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ জানুয়ারি) :: আমেরিকার ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন কঠিন করার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে প্রয়াস নিয়েছেন, তার ফলাফল চলতি বছরই টের পাওয়া যাবে বেশি করে। অন্তত পাঁচটি পদক্ষেপ এই বছর থেকে কার্যকর হচ্ছে। আমেরিকার রক্ষণশীল সমর্থকগোষ্ঠীকে চাঙা রাখার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ইমিগ্রেশন খাতে পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে ইমিগ্রেশন ফি বৃদ্ধি, বিধিগত পরিবর্তন ও আদালতের হস্তক্ষেপে আমেরিকার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় এখন বিরাজ করছে চরম নৈরাজ্য। কী হচ্ছে বা ইমিগ্রেশন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কত দূর যাবে—এ নিয়ে অভিবাসী স্বার্থ সংরক্ষণ গ্রুপগুলো উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

ইমিগ্রেশন ভিসা ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওয়ার্ক বা কাজের ভিসাসহ অন্যান্য ভিসায় আবেদন ফি বাড়ানো হচ্ছে। কার্যত ইমিগ্রেশনকে ব্যয়বহুল করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের চতুর চাল কার্যকর হচ্ছে চলতি বছরেই। কাজের ভিসা, পারিবারিক ভিসাসহ সব ক্ষেত্রেই আবেদনের জন্য বিভিন্ন হারে ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের ইচ্ছা অনুযায়ী আমেরিকায় ইমিগ্রেশন ঘটছে না। ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অভিবাসীদের বেশি করে আগমন হোক—এমন প্রত্যাশা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বাস্তবে তেমন হচ্ছে না।

২০১০ সালের পর আমেরিকায় গত বছরই ইউরোপ ও এশিয়া থেকে সবচেয়ে কমসংখ্যক লোক গ্রিনকার্ড পেয়েছে। ২০১৬ সালের চেয়ে গত বছর প্রায় ১৩ শতাংশ কম ইউরোপীয়কে গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছে। চীন থেকে অভিবাসীদের আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কম গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছে। এমনকি ৮ শতাংশ কম ভারতীয়ও গ্রিনকার্ড পেয়েছে।

দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের করা ইমিগ্রেশন নীতির মাধ্যমে ক্যারিবীয় দেশ থেকে গত বছর ৩০ শতাংশ বেশি লোক গ্রিনকার্ড পেয়েছে। সেন্ট্রাল আমেরিকার ৩৪ শতাংশ বেশি লোক গ্রিনকার্ড পেয়েছে। মেক্সিকো থেকে ১৫ শতাংশ বেশি লোককে গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছে।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, পারিবারিক ইমিগ্রেশনই এখন আমেরিকার সবচেয়ে বড় ইমিগ্রেশন খাত। ২০১৮ সালে ১১ লাখ লোককে গ্রিনকার্ড দেওয়া হয়েছে। এর ৬৩ শতাংশই পারিবারিক সম্পর্কের ইমিগ্রান্ট বা অভিবাসী। আমেরিকার অর্থনীতিতে এসব গ্রিনকার্ডধারীরাই শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এদের ৭০ শতাংশই কর্মরত।

নতুন গ্রিনকার্ডধারীদের মধ্যে প্রতি আটজনে মাত্র একজন কর্মহীন, যাদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বা গৃহকর্মী রয়েছেন। প্রায় ৫৭ শতাংশ নতুন গ্রিনকার্ডধারীর বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।

নানা সূচকে দেখা যায়, আমেরিকার অর্থনীতিতে এসব লোকই মুখ্য ভূমিকা পালন করছে।

আমেরিকার ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব পদক্ষেপ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন, তার মধ্যে পারিবারিক ইমিগ্রেশন অন্যতম। তথ্য উপাত্তে দেখা যাচ্ছে, পারিবারিক ইমিগ্রেশনকে যতটা খারাপভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

সমন্বিত ইমিগ্রেশন আইনের জন্য আমেরিকার দীর্ঘদিনের যে বিতর্ক, তা চলতি বছরে আবারও চাঙা হবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর রক্ষণশীল সমর্থকদের খুশি করতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করে আমেরিকার ইমিগ্রেশন প্রবাহ কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, তা নিয়ে বিতর্ক চলমান থাকছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri