buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

সোলাইমানিকে নির্ভুল হত্যায় ইরাক ও সিরিয়ার গুপ্তচরদের নেটওয়ার্ক

solaimany.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ জানুয়ারি) :: ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে নির্ভুল হামলা চালিয়েই হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। আর সোলাইমানির নিখুঁত অবস্থান নির্ণয় করতে সাহায্য করেছে গুপ্তচরদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। এরপর মার্কিন বাহিনী ড্রোন হামলা চালায়। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য।

প্রথমে সিরিয়ার দামেস্ক বিমানবন্দরে কালো গ্লাসে ঢাকা গাড়িতে করে আসেন জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। সঙ্গে ছিলেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ডসের চার সদস্য। চাম উইংস এয়ারবাস এ-৩২০ এর সিঁড়ির কাছেই থামেন তারা। বিমানটি বাগদাদ যাবে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকায় নিজের ব্যক্তিগত বিমান ব্যবহার এড়িয়ে গেছেন সোলাইমানি। জীবনে শেষবারের মতো কোনো যাত্রীবাহী বিমানে উঠলেন সোলাইমানি।

এরপর বাগদাদ পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় তার দুটি সাঁজোয়া যানের বহরে মার্কিন ড্রোন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় তিনি নিহত হন। বিমানবন্দরে সোলাইমানির সঙ্গে দেখা করা ইরাকি পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসও নিহত হন।

সোলাইমানির বাগদাদ আগমন নিয়ে স্পর্শকাতর নিরাপত্তা তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ফাঁস করেছে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরের গুপ্তচরদের একটি নেটওয়ার্ক। এ বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন সোলাইমানি হত্যার তদন্তকারী ইরাকি তদন্ত দল। সোলাইমানির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অবগত একটি ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র এ তথ্য দিয়েছে।

ইরাকের দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ৩ জানুয়ারি মার্কিন হামলার কয়েক মিনিট পরেই ইরাকি তদন্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা বিমানবন্দরটি ঘেরাও করে রেখেছে। এছাড়া পুলিশ, পাসপোর্ট ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ কয়েক ডজন নিরাপত্তাকর্মীকে সেখান থেকে যেতে দেয়া হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তারা বেশি নজর দিচ্ছেন, কীভাবে দামেস্ক ও বাগদাদ বিমানবন্দরে সন্দেহভাজন গুপ্তসংবাদদাতারা সোলাইমানিকে শনাক্ত ও তার ওপর নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে সহায়তা করেছেন। ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকারী ফালিহ আল-ফাইয়াদের নেতৃত্বে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে।

ইরাকি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভেতরের গুপ্তচরদের একটি নেটওয়ার্ক সোলাইমানির আগমন নিয়ে স্পর্শকাতর নিরাপত্তা তথ্য দিয়েছে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই মার্কিন বাহিনী নিখুঁতভাবে ড্রোন হামলা চালায়। সন্দেহভাজনদের মধ্যে বাগদাদ বিমানবন্দরের দুই নিরাপত্তাকর্মী ও চাম উইংস বিমান সংস্থার দুই কর্মী রয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, দামেস্ক বিমানবন্দরে এক গুপ্তচর ওই বিমানে অবস্থান করেই কাজ করছিল।

জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার তদন্তকারীরা বিশ্বাস করেন, গুপ্তচরদের একটি বড় গোষ্ঠীর অংশ হিসেবে কাজ করেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে তথ্য ফাঁস করা ওই চার সন্দেহভাজন। যদিও এখন পর্যন্ত তাদের কাউকেই গ্রেপ্তার করা হয়নি। চাম উইংসের ওই দুই কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে সিরীয় গোয়েন্দা বাহিনী। দুই ইরাকি নিরাপত্তাকর্মী এমন তথ্য দিয়েছেন রয়টার্সকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিরীয় গোয়েন্দা পরিদপ্তরের কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাগদাদ বিমানবন্দরের দুই নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার গোয়েন্দারা। এসব গুপ্তচর দেশটির স্থাপনা নিরাপত্তা সংস্থার সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, বাগদাদ তদন্ত দলের প্রাথমিক তদন্তে এটিই বলছে যে, সোলাইমানিকে হত্যার প্রথম আভাসটি আসে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে। গুপ্তচরদের বাগদাদ বিমানবন্দর সেলের কাজ ছিল, তার আগমন ও গাড়িবহর নিয়ে বিস্তারিত তথ্য মার্কিন বাহিনীকে দেয়া।

তবে এ নিয়ে জানতে চাইলে ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা তদন্ত সংস্থার গণমাধ্যম শাখার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘে ইরাকি মিশনের বক্তব্য চাইলেও তারা দিতে রাজি হয়নি।

হামলায় ইরাক ও সিরিয়ার সংবাদদাতারা কোনো ভূমিকা রেখেছে কিনা তা জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, হামলার বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান শনাক্ত করে আসছে। কীভাবে এমন নির্ভুলভাবে হামলা সম্ভব হলো, তা জানতে চাইলে বলতে অস্বীকার করেছেন তিনি।

দামেস্কের চাম উইংসের ব্যবস্থাপক বলছেন, তদন্ত বা হামলা নিয়ে কর্মীদের কথা বলতে নিষেধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজের বরাতে বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তা বলেন, গত ৩ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩০ মিনিটে বাগদাদ বিমানবন্দরে অবতরণ করে সোলাইমানির বিমান। বিমান থেকে বেরিয়ে কাস্টমসে না গিয়ে টারমাকের সিঁড়িতে ওঠেন তারা। বিমানের বাইরে মুহান্দিস তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে অপেক্ষারত সাঁজোয়া যানের দিকে তারা পা বাড়ান। আরেকটি সাঁজোয়া এসইউভিতে ওঠা সেনারা সোলাইমানিকে পাহারা দিচ্ছিলেন।

কর্মকর্তারা বলেন, বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে মূল সড়কের দিকে ধাবিত হয় তাদের গাড়িবহর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দুটি রকেট গিয়ে আঘাত হানে সোলাইমানি ও মুহান্দিসকে বহন করা গাড়িতে। তখন রাত ১২টা ৫৫ মিনিট। পরে তাদের নিরাপত্তা সদস্যদের বহনকারী এসইউভিতে গিয়ে আঘাত হানে দ্বিতীয় মার্কিন রকেট।

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর বিমানবন্দরের রাতের শিফটের কর্মীদের কাছে আসা মেসেজ ও ফোনকল তদন্তে মনোযোগ দেন তদন্তকারীরা। সোলাইমানির আগমনের খবর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কে ফাঁস করেছেন, তা বের করতেই এই তদন্ত করা হয়।

বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও চাম উইংসের কর্মীদের কয়েক ঘণ্টা ধরে জেরা করেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এক নিরাপত্তাকর্মী বলেন, তাকে ছেড়ে দেয়ার আগে অন্তত ১২ ঘণ্টা একনাগাড়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

সোলাইমানি আসার আগে তিনি কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন কিংবা বার্তা পাঠিয়েছেন, প্রথম চার ঘণ্টা তাকে সেই প্রশ্ন করা হয়েছে। তার মোবাইল ফোন জব্দ করে নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। তিনি বলেন, তারা আমাকে ১০ লাখ প্রশ্ন করেছেন।

সুত্র: রয়টার্স

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri