পেকুয়ায় মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত সরকারি কর্মকর্তারা : এমপি’র ক্ষোভ

pic-pekua-zafar-mp-.jpg

মোঃ ফারুক,পেকুয়া(১২ জানুয়ারী) :: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারী ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে (জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড) ৪৮ বছর আগে জাতির জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘটনাপ্রবাহ রেপ্লিকার মাধ্যমে প্রতীকী মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে এই ক্ষণগণনার সূচনা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় পেকুয়া উপজেলায়ও ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

১০ জানুয়ারীর এ অনুষ্ঠানে ইউএনও সাঈকা সাহাদাত ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ছাড়াও আ’লীগের নামমাত্র কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। ১১জানুয়ারীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চকরিয়া-পেকুয়ার সাংসদ জাফর আলম। এছাড়া আলোচনা সভায় ইউএনও ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক কয়েকজন নেতা উপস্থিতি থাকলেও দুইদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংসদ জাফর আলম।

ওই সময় সাংসদ জাফর আলম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর আয়োজন বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আয়োজন হচ্ছে। সারা বছর ব্যাপী এ আয়োজনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন দপ্তর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অথচ পেকুয়ার এ আয়োজন থেকে আমি হতবাক। অনুষ্ঠান সাদামাটা হলেও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকা মানে বঙ্গবন্ধু ও জননেত্রীকে অস্বীকার করা ও অমান্য করা। অথচ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন। আমি মনে করি এ সমস্ত কর্মকর্তা পেকুয়া উপজেলায় না থাকায় ভাল। আর আমি যতদিন সাংসদ হিসাবে থাকবো ততদিন এ সমস্ত রাজাকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাব। আমি কথা দিচ্ছি তারা কখনো পেকুয়ায় এ মনমানসিকতা নিয়ে চাকরি করতে পারবেনা। সাংসদের এ বক্তব্যের সময় ইউএনও সাঈকা সাহাদাতকে বিমূর্ষ অবস্থায় দেখা গেছে।

এদিকে দুইদিনের এ অনুষ্ঠানে সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কৃষি, সমবায় ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সব দপ্তরের কর্মকর্তারা অনুপস্থিত ছিল ক্ষণগণনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে। এছাড়াও সরকারি, আধা সরকারি ব্যাংক বীমা, এনজিও সংস্থা, বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন না। উপস্থিত ছিলেন না স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের বেশ কয়েকজন চেয়ারম্যান। তবে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও থানার ওসি কামরুল আজম দুইদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্টা করার পর বিএনপিন্থি সরকারি কর্মকর্তারা উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সরকার আসে আর সরকার যায় পরিবর্তন হয়না প্রশাসনের নিয়োগকারী কর্মকর্তাদের মনমানসিকতা। ক্ষণগণনা অনুষ্ঠান ছাড়াও অতিতে আ’লীগ সংশ্লিষ্ট জাতীয় অনুষ্ঠানও তারা উপস্থিত থাকতেন না। একটি কথা এখনো প্রচলিত আছে সালাউদ্দিন আহমেদ সরকারে না থেকেও এখনো উপজেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। জিয়া কলেজ, বিএমআই কলেজ, ফাজিল মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষকগণ সরাসরি বিএনপির রাজনীতির আদর্শে বিশ্বাসী। এলজিইডি কর্মকর্তার কার্যালয় দখল করে আছেন বিএনপিপন্থি ঠিকাদারগণ। যার কারণে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্ট জাতীয় দিবস পালনে তাদের অনিহা।

যে বিষয়টি সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ হয় নৌকা থেকে নির্বাচিত সাংসদ জাফর আলমের। এমনকি ক্ষণগণনা অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। যে বিষয়টি পেকুয়া উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এমপির এমন কঠোর বার্তায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পেকুয়াবাসীরা।

এবিষয়ে জানতে এলজিইডি জাহেদুল আলম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভ্রাত দাশ ও ইউএনও সাঈকা সাহাদাত এর মুঠোফোনে কল করলেও রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri