কক্সবাজার শহরের বিপর্যস্ত সড়কে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে : সংশ্লিষ্ঠদের অবহেলায় ক্ষুন্ন সরকারের ভাবমূর্তি

cox-city-road-bad.jpg

বিশেষ প্রতিবেদক(১২ জানুয়ারি) :: দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারের প্রতিটি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে৷ এতে পথচারী,পর্যটক ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে এ অবস্থা চলতে থাকার পর গত বছর সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় কক্সবাজার উন্নয়ন কতৃপক্ষ(কউক)৷ কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি। এ অবস্থায় পৌরবাসী তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।আর ব্যবসায়ীদের অভিযোগ পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা বাণিজ্যে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এর ফলে সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসা সরকারের ভাবমূর্তি চরম ক্ষতি হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান,কক্সবাজার শহরের সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে অতি সম্প্রতি নির্মিত কয়েকটি সড়কের সংস্কারের মাত্র এক মাসের মাথায় বিটুমিনের প্রলেপ ওঠে পুরো সড়ক এব্রোথেব্রো হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

শহর ঘুরে দেখা গেছে,লিংকরোড, কলেজ গেইট, সদর উপজেলা গেইট, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সাবমেরিন কেবল এলাকা, সিটি কলেজ, আলীর জাহাল, খুরুশকুল রাস্তার মাথা, কালুর দোকান, বার্মিজ মার্কেট, বাজার ঘাটা, আইবিপি রোড, ফজল মার্কেট হয়ে লালদিঘীর পাড় পর্যন্ত এখন জন প্রত্যাশার স্বাভাবিক সড়ক অস্তিত্বহীন। জন দৃশ্যমান- সড়কের পরিবর্তে খানা খন্দক, গর্ত, কাঁচা ইটের ভাঙ্গা-চোরা কংকর, মারাত্মক ধুলাবালি। কোথাও অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত, কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও আবার গ্রামের কাঁচা সড়কের মতো অবস্থা। এমন অবস্থা পৌর শহরের কোনো নির্দিষ্ট সড়কের নয়, পুরো শহরের অধিকাংশ রাস্তাই যেন কঙ্কালসার হয়ে গেছে। দীর্ঘ দিন ধরে এ সমস্যা বিরাজ করলেও জীর্ণশীর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারকাজ হয়েছে একেবারেই নগণ্য।শহরের রাস্তায় বহু খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ রাস্তায় চলাফেরা করতে সুস্থ-সবল মানুষের নাভিশ্বাস ওঠেছে৷ ফলে প্রতিনিয়তই চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এ শহরের বাসিন্দাদের।

এদিকে পর্যটন শহর কক্সবাজারের ভাঙাচোরা অলিগলি এবং রাস্তা-ঘাট নিয়ে ভুক্তভোগীরা নেমেছে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কোনো মিছিল-সমাবেশ নয়, নয় মানববন্ধনসহ অন্যান্য প্রতিবাদ কর্মসূচিও। যে যেভাবেই পারে কেবল ফেসবুক আইডিতেই প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছে।

এমনকি সর্বশেষ কক্সবাজার পৌর শহরের প্রধান সড়কটির মাত্র চার কিলোমিটার খানাখন্দকে ভরা এলাকা সংস্কারের জন্য বেশির ভাগ ফেসবুক আইডিধারীরা খোদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন রাখছেন। ফেসবুক আইডিধারীদের অনেকেই স্ব স্ব আইডিতে দেওয়া পোস্টে বলেছেন- তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আর আস্থা রাখতে পারছেন না। তাই উপায়ন্তর না দেখে পর্যটন শহরের রাস্তা সংস্কারের এমন একটি ক্ষুদ্র আবদার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কক্সবাজারের রাস্তা-ঘাট তদারকির কাজে দায়িত্বে রয়েছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ, কক্সবাজার পৌরসভা এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক)সহ তিনটি সংস্থা। দীর্ঘকাল ধরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজার পৌরসভা এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ নিজেদের আওতাধীন সড়কগুলোর তদারকি করে আসছিল। কিন্তু গত তিন বছর আগে কক্সবাজারে কউক’র কার্যক্রম শুরু হলে সংস্থাটিও সড়কের তদারকির ভাগ দাবি করে বসে।

কউক’র দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পর্যটন শহরের অন্যতম জনগুরুত্বসম্পন্ন চলাচলের প্রধান সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগ এক বছর আগেই গেজেট নোটিফিকেশন মূলে দায়িত্ব হস্তান্তর করে কউকের কাছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও লোকবলের অভাবসহ আরো নানা সংকটের কারণে কউক প্রধান সড়কের সংস্কার কাজ শুরু করতে ব্যর্থ হয়। ফলে উপর্যুপরি টানা দুই বছর ধরে সংস্কারের অভাবে পৌর শহরের একমাত্র প্রধান সড়কটির অনেকাংশ হয়ে পড়ে এক প্রকার চলাচলের অযোগ্য। এমন অবস্থায় শহরবাসী সড়কটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ সহ্য করেছেন গেল বর্ষার সময়।

অপরদিকে কক্সবাজার পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সমস্ত সড়ক এবং অলিগলিও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অনেকেই এসব অলিগলি এবং সড়কগুলোতে যানবাহনকেও এড়িয়ে চলছেন। যানবাহনে এসব রাস্তায় চলাচল এখন সবচেয়ে কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে। এ কারণে অনেক চলাচলকারী নাগরিক গন্তব্যে যেতে যানবাহন এড়িয়ে হাঁটাকেই নিরাপদ মনে করছেন।

সড়কের অনিরাপদ চলাচল নিয়ে লোকজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিকার দাবি করেও ব্যর্থ। তাই ধৈর্যহারা লোকজন এখন আশ্রয় নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের। এমনকি কক্সবাজার পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রবিবার তার নিজের নামের ফেসবুক আইডিতে কউক কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তিনি নিজের অর্থায়নে শহরের প্রধান সড়কটি সংস্কারের ইচ্ছার কথাও ব্যক্ত করেছেন।

তবে শহরে চলাচলের সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মুখে পড়ে পর্যটন শহর থেকে বিমুখ হয়ে ফিরছেন এ শহরে আসা ভ্রমণ পিপাসু লোকজন। এমনকি গেল সপ্তাহের অকাল বর্ষণে পানি জমে পৌরবাসী ও পর্যটকদের অবস্থা আরো কাহিল করে দিয়েছে।

এসব বিষয় নিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেছেন, ‘ভুক্তভোগী পৌরবাসীসহ অনেক ভ্রমণকারী পর্যটকরাও প্রতিনিয়িত শহরের সড়কের ব্যাপারে আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকেন। আমি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পৌরসভা, কউক ও সওজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলেছি।’

পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন, পৌরসভার অভ্যন্তরীণ ভাঙাচোরা বেশির ভাগ সড়কের টেন্ডার ইতিমধ্যে হয়েছে। শিগগিরই দৃশ্যমান কাজ হবে। কউক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল ফোরকান আহমদ জানিয়েছেন, শহরের বাইপাস সড়কের কাজ চলছে। শিগিগরই প্রধান সড়কের কাজও শুরু হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri