buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

বিদেশে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের আড়ালে পুঁজি পাচার

taka-pacar-logo.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৫ ফেব্রুয়ারি) :: বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ও পুঁজি নিরাপত্তা না থাকায় গত কয়েক বছর ধরে বিদেশে অর্থ পাচারের পরিমাণ ধাপে ধাপে কিছুটা বাড়লেও দেশে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর তা বেপরোয়া গতি পেয়েছে। বিশেষ করে দুর্নীতিবাজদের কালো টাকা এবং বিভিন্ন খাতের অপ্রদর্শিত যেসব মোটা অঙ্কের আমানত ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল তা জব্দ হওয়ার ভয়ে অনেকে তা দ্রম্নত তুলে নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে। আর পুঁজি পাচারের বেশির ভাগ ঘটনাই ঘটেছে আমদানি-রপ্তানিসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে। এতে দেশের বিনিয়োগ নতুন করে কমতে শুরু করেছে। এ সংকট দ্রম্নত সামাল দেওয়া না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে গত ৩ ফেব্রম্নয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র চার মাসে অন্তত ৪ হাজার কোটিপতি ব্যাংক থেকে তাদের টাকা তুলে নিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে ৫১৯ জন কোটিপতি আমানতকারী ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন। যা ডলারে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে আর্থিক গোয়েন্দারা অনুমান করছেন।

এ ব্যাপারে তারা যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, বিদেশে অর্থ পাচারের কারণে ওই সময় ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। অথচ আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ ছাড়া ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির নেপথ্যে আর্থিক গোয়েন্দারা অন্য কোনো বিশেষ কারণ খুঁজে পাননি। তবে ব্যবসা-বাণিজ্যের আড়ালে যারা বিদেশে অর্থ পাচার করছেন তাদের বেশির ভাগই নতুন করে মালয়েশিয়া, কানাডা, সিঙ্গাপুর, দুবাইসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম গড়ে তুলছেন- এমন তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

এদিকে জাতিসংঘের শিল্পবাণিজ্য সংস্থা আঙ্কটাডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ বছরে যত টাকা কর আদায় করে তার ৩৬ শতাংশের সমান টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যায়। প্রতি বছর দেশ থেকে এ হারে পুঁজি পাচারের কারণে সামগ্রিক বিনিয়োগ ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর অর্থ পাচারের দিক থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করে আঙ্কটাড।

এদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আমদানি-রপ্তানির কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্থ পাচার ও কর ফাঁকি রোধ করা দেশের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য হয়, এর ৭ শতাংশের সমপরিমাণ হয় মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে। যার পরিমাণ সম্প্রতি আরও বাড়ছে। সম্প্রতি কয়েকটি গ্রম্নপ ও কোম্পানি আমদানি-রপ্তানির নামে অর্থ পাচার করেছে এমন অভিযোগে কোম্পানিগুলোর ঊর্ধ্বতন

কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। তাই আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও পুঁজি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় প্রতি বছর দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ বাড়ছে। একটি গোষ্ঠী বন্ডেড ওয়্যার হাউসের অপব্যবহার করে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে দিচ্ছে। কেউ কেউ আবার রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খুব সহজেই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক বনে যাচ্ছেন। এ ছাড়া নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অবৈধ পন্থায় প্রভাবশালীরা খুব সহজেই অবৈধ পথে আয় করছেন, যা পরবর্তীতে কালো টাকা বলে পরিগণিত হয়। এই টাকা করবহির্ভূত হওয়ায় বৈধভাবে বিনিয়োগও করতে পারেন না। ফলে তা বিভিন্নভাবে বিদেশে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় অর্থ পাচার ঠেকাতে হলে ব্যবসা-বাণিজ্য আমদানি-রপ্তানিসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা-জবাবদিহতিা নিশ্চিত করতে হবে। তবে সবার আগে আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা জরুরি মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়াসহ এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে অভিবাসনের সুযোগ লাভের জন্য বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ ওই সব দেশের আইন মোতাবেক বিনিয়োগের শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ধনাঢ্য ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত গোষ্ঠীর জন্য এই অঙ্কের অর্থ দেশ থেকে যেনতেনভাবে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার একটা অদম্য অনৈতিক প্রণোদনাকে আরও উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এই লোভনীয় টোপ প্রধানত ব্যাংকঋণ পাচার এবং আমদানি বাণিজ্যের বহুল ব্যবহৃত ওভার-ইনভয়েসিং পদ্ধতিতে ‘পুঁজির পলায়ন’ বা পাচারকে আরও উৎসাহিত করছে। অভিবাসনের জন্য পুঁজি পাচারের এই মহাযজ্ঞে দুর্নীতিবাজ সিভিল আমলা, সামরিক অফিসার, প্রকৌশলী এবং ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিবিদদের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনও ক্রমবর্ধমান অনুপাতে শামিল হয়েছে। বাংলাদেশের এক কোটি ২০ লাখেরও বেশি প্রবাসী শ্রমিক-কর্মচারীর সিংহভাগ কর্তৃক ব্যবহৃত রেমিট্যান্সের ‘হুন্ডি’ পদ্ধতি এসব গোষ্ঠীর পুঁজি পাচারকে একেবারেই সহজ করে দিয়েছে বলে মনে করেন এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ।

এদিকে শুধু শুদ্ধি অভিযানে মোটা অঙ্কের আমানত জব্দ হওয়ার ভয়ে বিদেশে অর্থ পাচার বেড়েছে- এমনটি মানতে রাজি নন অর্থনীতিবিদরা অনেকেই। তারা মনে করেন, যে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড প্রায় স্থবির, যেখানে বিনিয়োগ অত্যন্ত মন্থর, সেখানেই টাকাওয়ালাদের উদ্বৃত্ত অর্থ বিদেশে পাচার হয়। পাশাপাশি যেখানে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভৌত অবকাঠামোর অনুপস্থিতি অথবা অপ্রতুল ভৌত অবকাঠামো, সেখানে অর্থ পাচার প্রবণতা বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক।

তবে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, সেপ্টেম্বরে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার সময় অনেকেরই ব্যাংক হিসাব জব্দ হয়েছে। তখন কোটিপতিদের অনেকেই ভয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাইরে পাচার করেছেন। ওই টাকা যে পাচার হয়েছে তার কারণ হলো, সেই সময় ডলারের দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, দুর্নীতিবিরোধী তথা ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় কোটিপতিদের অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া অনেকেই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েও বিদেশে পালিয়ে গেছেন। ফলে আমানতকারীদের মধ্যে ভয় তার টাকা ফেরত পাবেন কিনা। এমন আশঙ্কাতেও ব্যাংক থেকে অনেকে টাকা তুলেছেন। আবার জাতীয় সংসদে খেলাপিদের মতোই কোটিপতি আমানতকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেও অনেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৯ সালের জুন মাস শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৮০ হাজার ৩৯৬ জন। জুলাই ও আগস্ট এই দুই মাসে আরও প্রায় ৩ হাজার নতুন কোটিপতি এই তালিকায় যুক্ত হন। কিন্তু, ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের পর থেকে এই সংখ্যা ভয়াবহভাবে কমতে থাকে। ৩০ সেপ্টেম্বর কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৯ হাজার ৮৭৭ জন। ডিসেম্বর প্রান্তিকের প্রতিবেদনে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা আরও কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।

এদিকে দেশে বিনিয়োগ কমার তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-বিডা। তারা জানিয়েছে, বিদায়ী বছরের শেষ প্রান্তিকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৫ শতাংশ কমে গেছে। এ সময়ে টাকার অঙ্কে স্থানীয় বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৫০ শতাংশেরও বেশি, বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ৩৩ শতাংশের মতো।

বিডার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে মোট ৩১৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিবন্ধন নিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ২৪৯টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে বিনিয়োগ প্রস্তাব ছিল ৫০ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের প্রান্তিকের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বরে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭০টি বাড়লেও বিনিয়োগ প্রস্তাব কমেছে ২২ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। এটি জুলাই-সেপ্টেম্বরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ১৪ শতাংশ কম।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri