buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে হুঁশিয়ার করলো ভারত

erd-pk-3.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ ফেব্রুয়ারি) :: কাশ্মির ইস্যুতে করা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। দিল্লির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তুর্কি নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার। তুর্কি প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ও পাকিস্তান-তুরস্কের যৌথ ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে ভারত বলেছে, জম্মু ও কাশ্মির ভারতের অখণ্ড ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবিশ কুমার বলেন, ‘আমরা তুর্কি নেতৃত্বকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার এবং প্রকৃত সত্য নিয়ে বোঝাপড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রকৃত সত্যের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান থেকে ভারত ও এই অঞ্চলে ঢুকে পড়া সন্ত্রাসীদের মারাত্মক হুমকি।’

প্রসঙ্গত, ভারতের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও একাধিকবার কাশ্মির ইস্যুতে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ানের ভাষণেও উঠে আসে কাশ্মির ইস্যু। ওই সময়েও গভীর হতাশা ব্যক্ত করে ভারত।

পাকিস্তান সফররত তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান শুক্রবার দেশটির পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেন।এই নিয়ে চারবার তিনি পাক সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ পেলেন৷ ওই ভাষণে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে থাকবে তার দেশ বলে জানায় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান।

এরদোগানের অভিমত, কয়েকশ বছর আগে তুরস্কের কানাকালেতে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছিল তেমন ঘটনা ঘটছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে। এর বিরুদ্ধে তুরস্ক সবসময় প্রতিবাদ করবে। এই কথা বলতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট মহাকবি আল্লামা ইকবালের একটি কবিতার পংক্তি আবৃত্তি করেন।

তিনি বলেন, “যে পাকিস্তানিরা আমাদের জন্য এত সমর্থন দিয়েছেন, তাদেরকে কিভাবে ভুলে যাব? আমাদের বন্ধুত্ব ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে নয় বরং এর ভিত্তি হলো ভালোবাসা।”

এরদোগান সাফ জানিয়েছেন, “আজকে কাশ্মীর ইস্যুকে পাকিস্তানিরা যেভাবে দেখছেন আমরাও ঠিক একইভাবে দেখছি। আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও পাকিস্তানকে সমর্থন দিয়ে যাব।” তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, পাকিস্তান এখন শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পথে রয়েছে। তবে, এই শান্তি ও স্থিতিশীলতা খুব সহজে আসে না; এজন্য অনেক কাজ করতে হয়। পাকিস্তান নিশ্চয়ই সন্ত্রাসবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে স্থিতিশীল হবে। সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবেন বলেও তিনি ঘোষণা দেন।

এদিকে পাকিস্তান সংসদে দেওয়া ভাষণে এরদোগান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত শান্তি পরিকল্পনাকে দখলদারিত্বের পরিকল্পনা বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর কথায়, “ঈমানদারদের মনে কোনো দেয়াল তুলে দূরত্ব সৃষ্টি করা যায় না। বিশ্বের কোথাও কোনো মুসলমান নিপীড়িত হলে তাদের সাহায্য করা আমাদের দায়িত্ব। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পবিত্র আল-কুদস দখলের জন্য যে পরিকল্পনা করেছেন সে ব্যাপারে আমাদের সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত।”

এরদোগান বলেন, ট্রাম্প ঘোষিত কথিত ডিল অব দ্যা সেঞ্চুরি কোনো শান্তির পরিকল্পনা নয় বরং প্রকৃতপক্ষে এটি একটি দখলদারিত্বের প্রকল্প। এ সময় তিনি জেরুজালেম বা আল-কুদস শহরকে মুসলমানদের জন্য রেডলাইন বলে ঘোষণা করেন। এরদোগান বলেন, “আমরা সারা বিশ্বের সামনে ঘোষণা করতে চাই যে, পবিত্র মসজিদুল আকসাকে ইসরাইলি প্রশাসনের করুণার উপর আমরা ছেড়ে দিতে পারি না।”

শুক্রবার এরদোগান দুদিনের সফরে পাকিস্তান পৌঁছান এবং এরইমধ্যে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিসহ শীর্ষ পর্যায়ের কর্তাদের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে বৈঠক করেন।

উল্লেখ্য, পরমাণু শক্তিধর দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই কাশ্মিরকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর দুই প্রতিবেশীর তিনটি যুদ্ধের মধ্যে দুটি সংঘটিত হয়েছে কাশ্মির ইস্যুতে। এক সামরিক নিয়ন্ত্রণরেখা দিয়ে কাশ্মিরকে বিভক্ত করে রাখা হয়েছে। ভারতের শাসনে রয়েছে ৪৫ শতাংশ এলাকা আর পাকিস্তান শাসন করে ৩৫ শতাংশ অঞ্চল। আর বাকি অঞ্চল শাসন করে চীন। ভারত শাসিত কাশ্মিরের নাগরিকেরা দেশটির সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত বিশেষ মর্যাদা ভোগ করে আসছিল। গত বছরের আগস্টে ওই ধারা বাতিল করে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া হলে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri