buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

২০২১ সালেেই হতে পারে টোকিও অলিম্পিক : পেছালে যত ক্ষতি

Tokyo-Olympic.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ মার্চ) :: করোনা জেরে অলিম্পিকের আকাশেও কালো মেঘ৷ পিছিয়ে যেতে পারে ২০২০ টোকিও অলিম্পিক৷ হতে পারে ২০২১ সালে৷ সোমবার এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে৷ ২০২০ সালে অলিম্পিক হলে তাতে অংশ গ্রহণ করবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া৷

দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে অলিম্পিক স্থগিত রাখাটা ‘অনিবার্য’ মনে করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করতে চলা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন স্পোর্টস গভর্নিং বডি এবং অ্যাথলিটদের ক্রমাগত চাপের মুখে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি গেমস স্থগিত রাখার বিষয়ে অনেকটাই সম্মতি দিয়েছে। এবার সেই সুরে সুর মিলিয়ে আবে জানালেন, বিশ্বজুড়ে এমন মহামারীর পরিস্থিতিতে অলিম্পিক স্থগিত রাখাটাই হয়তো অবশ্যম্ভাবী হবে।

কানাডা ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে যথাসময়ে অর্থাৎ ২৪ জুলাই অলিম্পিক শুরু হলে তারা তাদের দল পাঠাবে না। প্যারালিম্পিক থেকেও নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক কমিটি তাদের অ্যাথলিটদের ২০২১’র প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলছে। এভাবে বিভিন্ন দেশের স্পোর্টস গভর্নিং বডি কিংবা অলিম্পিক গভর্নিং বডি যখন পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন যথাসময়ে অলিম্পিক আয়োজনের অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে আইওসি ও আয়োজক দেশ।

অস্ট্রেলিয়ার অলিম্পিক কমিটির প্রধান ইয়ান চেস্টারম্যান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আগেই জানিয়েছিলেন, এটা পরিষ্কার যে অলিম্পিক জুলাইতে হওয়া কোনওমতেই সম্ভব নয়। সোমবার পার্লামেন্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানালেন, ‘জাপান এখনও পরিপূর্ণ অলিম্পিক আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর।’ এর সঙ্গে আবে যোগ করে বলেছেন, ‘তবে পরিস্থিতি যেহেতু কঠিন তাই অ্যাথলিটদের কথা আগে চিন্তা করতে হবে। আর তাদের আপত্তিতেই আমাদের অলিম্পিক স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’

তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট থমাস ব্যাচের সুরে সুর মিলিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আগের অবস্থান কিন্তু মোটেই খুশি করতে পারেনি ক্রীড়া অনুরাগীদের। করোনার কালো ছায়ার মধ্যেও দিনকয়েক আগে আবে জানিয়েছিলেন, অলিম্পিক স্থগিত রাখাটা কোনও বিকল্প নয়। পাশাপাশি অ্যাথলিটদের প্রস্তুতি জারি রাখারও আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। তবে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় পুরনো অবস্থান থেকে সরে এলেন তিনি।

আইওসি পুরনো অবস্থা থেকে সরে এসে জানিয়েছে, পরিস্থিতি যেহেতু ক্রমেই খারাপ হচ্ছে তাই আমাদের অলিম্পিক স্থগিত রাখার বিষয়টি এবার ভাবতে হচ্ছে। সবদিক পর্যালোচনা করে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্তে আসবে তারা। ‘মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান আর কিছু নেই’, আশ্বস্ত করে অ্যাথলিটদের খোলা চিঠি লিখেছেন ব্যাচ।

অলিম্পিক পেছালে যত ক্ষতি

আগামী ২৪ জুলাই পূর্বনির্ধারিত সূচিতে অলিম্পিক শুরু হলে তাতে অংশ নেবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে কানাডা। অস্ট্রেলিয়ান অলিম্পিক কমিটির প্রধান তার অ্যাথলিটদের বলে দিয়েছেন, তারা যেন আরো বিলম্বে প্রস্তুতি শুরু করেন। এছাড়া বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন মহল থেকে এবারের টোকিও অলিম্পিক পেছানোর দাবি উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে প্রথমবারের মতো স্বীকার করতে বাধ্য হলেন, সব দলের অংশগ্রহণে ‘পরিপূর্ণ’ একটি অলিম্পিক আয়োজন সম্ভব না হলে এটি স্থগিত করার বিকল্প থাকবে না। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে চার সপ্তাহ অপেক্ষা করবে।

করোনাভাইরাস মহামারীতে গোটা বিশ্বই যখন টালমাটাল, তখন অলিম্পিক খেলার কোনো সুযোগ দেখছেন না অনেক অ্যাথলিট ও কর্মকর্তা। এমন পরিস্থিতিতে আইওসি এই গেমসটা স্থগিতের বিষয়ে ভাবছে, যদিও তাদের মতে বাতিল কোনো সমাধান হতে পারে না। এরই মধ্যে গতকাল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, ‘এটা যদি কঠিন হয়ে ওঠে, তখন আমাদের স্থগিত করার বিকল্প কিছু থাকবে না।’

বিশ্ব অ্যাথলেটিকস অ্যাসোসিয়েশনের ৭৮ শতাংশ সদস্য টোকিও অলিম্পিক স্থগিতের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। পরিস্থিতি যা তৈরি হয়েছে তাতে অলিম্পিক আয়োজন অনিশ্চিত। তবে গেমস পেছানো কিংবা স্থগিত করার বিষয় আসলে অতটা সহজও নয়। এটি অলিম্পিক গেমস। এর সঙ্গে দুই যুগের নজিরবিহীন ও ব্যয়বহুল প্রচেষ্টা জড়িয়ে আছে। তাই তো আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ বলেছেন, ‘অলিম্পিক তো আর ফুটবল ম্যাচ নয় যে আজ থেকে শনিবার সরিয়ে নেয়া হলো।’

টোকিও অলিম্পিক গেমস পেছানো হলে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে আইওসি ও জাপান:

প্রতিযোগিতার সূচি: অলিম্পিক এক বিশাল ক্রীড়াযজ্ঞ, যেখানে  টোকিওতে ৩৩টি ক্রীড়ার ৬০টি ডিসিপ্লিনে মোট ৩৩৯টি ইভেন্টে লড়াই করবেন ২০৪টি দেশের অন্তত ১১ হাজার ৯১ জন প্রতিযোগী। এত বড় একটি গেমস ২০২১ সালের ব্যস্ত সূচির মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হতে পারে অ্যাথলিট, প্রশাসক ও ব্রডকাস্টারদের জন্য লজিস্টিক দিক থেকে বিশাল বড় দুঃস্বপ্নের মতো।

বিশেষজ্ঞ ওয়েবসাইট ‘ইনসাইড দ্য গেমস’ এ নিয়ে বলছে, ‘চতুর্দিকে ঘুরে আসা….চার বছরের একটি চক্র। আপনি যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জায়গায় দেখতে পান, তবে অবশ্যই তার একটি প্রভাব পড়বে।’ অবশ্য অনেক কিছুই নির্ভর করবে কতদিনের জন্য গেমসটা স্থগিত করা হবে তার ওপর।

অলিম্পিক আগামী বছর নেয়া হলে তা সরাসরি সাংঘর্ষিক হবে বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপের সঙ্গে, যা ২০২১ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। এটি সরিয়ে দেয়া কঠিন হতে পারে।

এখানেই শেষ নয়। ২০২১ সালের ১৬ জুলাই থেকে ১ আগস্ট ওই জাপানেই বিশ্ব সুইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এছাড়া জনপ্রিয় ইউরোপিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ সদ্যই ২০২০ সাল থেকে সরিয়ে ২০২১ সালের জুন-জুলাই মাসে নেয়া হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে অলিম্পিক কিংবদন্তি কার্ল লুইস গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক গেমসটা ২০২২ সালে নেয়ার পক্ষপাতী, যে বছর শীতকালীন অলিম্পিক আসরও বসবে। তার মতে, ২০২২ সালটা ‘অলিম্পিক বছর’ হিসেবে উদযাপন করা যাবে। এতটা সহজে হয়ে যাবে না। কেননা ২০২২ সালের জুন-জুলাই মাসে তো ফুটবল বিশ্বকাপও!

ভেনু: টোকিও অলিম্পিকে মোট ভেনু ৪৩টি, যার মধ্যে কিছু অস্থায়ী, কিছু নির্মিত হয়েছে গেমসের জন্য। গেমস স্থগিত হয়ে গেলে এসব ভেনু নিয়ে আয়োজকরা সমস্যায় পড়ে যাবেন। আইওসির কাছে ভেনুই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম। এ নিয়ে তাদের সতর্কবার্তা, ‘গেমসের জন্য অতি প্রয়োজনীয় কিছু কিছু ভেনু সম্ভবত পরবর্তী সময়ে আর ব্যবহার করা যাবে না।’

নবনির্মিত ৬৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষম অলিম্পিক স্টেডিয়াম গেমস শেষে ‘কালচারাল ও স্পোর্টিং ইভেন্টস’-এর জন্য ব্যবহূত হবে। এখন যদি অলিম্পিক গেমস পিছিয়ে দেয়া হয় এবং কোনো ইভেন্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয় তবে তা সরিয়ে নিতে হবে।

শুধু খেলোয়াড়দের ভেনুই নয়, বিশ্বজুড়ে গেমস কভার করতে যাওয়া বিশাল সংবাদকর্মীদের জন্য টোকিওর বিশালকায় বিগ সাইট এক্সিবিশন সেন্টার বুক করে রেখেছে। বড় ধরনের কোনো কনফারেন্স আয়োজনে যা এশিয়ারই অন্যতম বৃহৎ ভেনু। এটাও আয়োজকদের জন্য বড় দুশ্চিন্তার নাম।

অলিম্পিক ভিলেজ: আয়োজকদের জন্য আরেকটি বড় দুশ্চিন্তার নাম অলিম্পিক ভিলেজ। টোকিওর বিখ্যাত রেইনবো ব্রিজের কাছাকাছি অভিজাত এলাকায় ২১টি ১৪ থেকে ১৮ তলা টাওয়ারে এই ভিলেজ, যাতে অলিম্পিকের জন্য ১৮ হাজার ও প্যারালিম্পিকের জন্য ৮ হাজার বেড রয়েছে। গেমসের পর এসব সংস্কার করে অ্যাপার্টমেন্ট হিসেবে বিক্রি কিংবা ভাড়া দেয়ার পরিকল্পনা। হারুমি ফ্লাগ ডেভেলপারদের ওয়েবসাইটে ৪ হাজার ১৪৫টি ইউনিট বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়েছে এবং ২০১৯ সালের গ্রীষ্ম থেকে এর বিক্রিও নাকি শুরু হয়েছে। জাপানি মিডিয়া বলছে, অধিকাংশই মানুষ লুফে নিতে চলেছে।

এখন টোকিও গেমস স্থগিত হয়ে গেলে ভিলেজ সংস্কার করে তা অ্যাপার্টমেন্টে রূপান্তরের কাজটি পিছিয়ে যাবে এবং ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তিরও খেলাপ হবে।

এছাড়া স্থানীয় আয়োজক কমিটি, আইওসি ডেলিগেটসহ সারা বিশ্বের আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য টোকিওর শীর্ষ ও অভিজাত হোটেলগুলোতে রুম বুকিং করে রাখা হয়েছে, যাতে এখন বিরাট রদবদল আনা লাগতে পারে। এছাড়া পরিবর্তন আনতে হবে লোগোসহ আরো অনেক কিছুতেই। সব মিলিয়ে এক বছর পেছানো হলে ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের এ গেমসের বাজেটটা আরো বড় হয়ে যাবে।

তবে কয়েক মাসের মতো পেছানো হলে তা স্বস্তির কারণও হতে পারে! গ্রীষ্মে জাপানের অসহনীয় গরম নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে তা থেকে অন্তত মুক্তি মিলতে পারে বছরের শেষ দিকে আয়োজন করলে। অবশ্য শরতে জাপানে টাইফুনের সম্ভাবনাও থাকে, যা গত বছর রাগবি বিশ্বকাপকে বেশ ভুগিয়েছে।

এদিকে ক্রমাগত চাপের মুখে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে গেমস স্থগিত করার ভাবনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট ইয়োশিরো মোরি। জাপানের সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক মাস, তিন মাস, পাঁচ মাস কিংবা এক বছর স্থগিত করার বিকল্পগুলো নিয়ে আমরা ভাবছি। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।’

এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও ওয়াশিংটন পোস্ট

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri