buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

২ বছর একমাস ১৬দিন পর মুক্তি পেলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া

kh-new-.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৫ মার্চ) :: দুই বছর এক মাস ১৬ দিন পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ৪টা ১৫ মিনিটে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাসপাতাল) প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছোটভাই শামীম ইস্কান্দরের জিম্মায় তাকে হস্তান্তর করা হয়। বাসায় অবস্থান করে চিকিৎসা নেওয়ার শর্তে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হলো বিএনপির চেয়ারপারসনকে।

মুক্তি প্রক্রিয়া শেষ করার পর বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খালেদা জিয়া লিফটে করে হুইল চেয়ারে নিচে নেমে আসেন। এসময় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও হাসপাতালের নার্স ও আনসার সদস্যরা ছিলেন। ৪টা ২০ মিনিটে তাকে নিয়ে স্বজনরা হাসপাতাল থেকে রওনা হন। গুলশানে তার বাসভবন ‘ফিরোজা’র  নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খালেদা জিয়াকে।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা হলে খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগারে নেওয়া হয়। ওই সময় পরিত্যক্ত ওই কারাগারে তিনিই একমাত্র বন্দি হিসেবে ছিলেন। পরে হাইকোর্টে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, দুটি শর্তে ভাইয়ের জিম্মায় খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিচ্ছে সরকার।

কারাগার থেকে হাসপাতাল

খালেদা জিয়া কারাগারে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড কারাগারে গিয়ে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। এরপর ৭ এপ্রিল বেলা ১১টা ২০ মিনিটে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়। ওইদিন কেবিন ব্লকের ৫১২ নম্বর কক্ষে অবস্থান করেন খালেদা জিয়া। ফের ফিরিয়ে নেওয়া হয় কারাগারে। এরপর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করতে ও চিকিৎসা সেবা শুরু করতে পাঁচ সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। দুইদিন পর ২০১৮ সালের ৬ অক্টোবর ফের একই হাসপাতালে আনা হয় তাকে।.

২০১৯ সালের ১ এপ্রিল পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় খালেদা জিয়াকে। তিনি সেখানে ৬২১ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে জানান খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের চেয়ারম্যানের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জিলন মিয়া সরকার। তার পাশের ৬২২ নম্বর কেবিনটিতে কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলরা অবস্থান করছিলেন।.

বিএনপির ও চেয়ারপারসনের পরিবারের পক্ষ থেকে অনেকবার খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির কথা জানানো হয়। যদিও এই দাবি নিয়ে কয়েক দফায় উচ্চ আদালতে আপিল, রিভিউ আপিল করেও তাকে মুক্ত করতে পারেননি আইনজীবীরা। আর এ নিয়ে বরাবরই আইনজীবীদের সঙ্গে দলের নেতাদের বিরোধ ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিকে মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকালে তার বাসায় সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার ভাই-বোন ও বোনের স্বামী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাহী আদেশে তাদের পরিবারের স্বজনের মুক্তি কামনা করেন। মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে ঘোষণা আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টিকে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক দিক বলে মনোভাব প্রকাশ করেছেন। যদিও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তাদের নেতাকর্মীরা আপ্লুত। তবে করোনা পরিস্থিতিতে আতঙ্কও আছে বিএনপির। আর সে দিক বিবেচনা করে মির্জা ফখরুল নেতাকর্মীদেরকে ভিড় না জমিয়ে নিরাপদ ও সুস্থ থাকতে বলেছেন।

প্রাণ ফিরেছে ফিরোজায়

এতদিন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় একদম সুনসান নিরবতা ছিলো তার গুলশানের বাসায়। তবে তিনি ফেরার পর নেতাকর্মীদের ভিড় করতে নিষেধ করা হলেও নিশ্চয় পরিবারের সদস্যরা ছুটে যাবেন। শীর্ষ নেতারাও সাক্ষাত করতে যাবেন। তিনি ছিলেন না বলে নেতাদেরও এতদিন বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি। সে কারণে বলা যায় এখন ফিরোজা ভবনে প্রাণ ফিরে পাবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তি পাওয়ার পর আত্মীয় স্বজনরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করবেন। সেখানে তার মতামত জানবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেটাই চূড়ান্ত হবে। খালেদার মুক্তির সিদ্ধান্তের খবর জানার পরই খালেদা জিয়ার বাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা শুরু হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সদস্য সংখ্যাও।

 ফিরোজায় ধুয়ে মুছে সব পরিষ্কার করা হয়েছে

খালেদা জিয়া মুক্তি পাচ্ছেন এই খবরের পর বাসার রান্নাঘর, থাকার ঘর, বসার ঘর, বারান্দা, বাসার লন, দরজা-জানালা, বিছানাপত্র, বাথরুম, ফ্যান-এসি, পর্দা যা কিছু আছে, সব কিছু ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়। বাসার সামনে-পেছনের বাগান, খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএসফের গাড়ি সব ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হয়েছে।

টিভি-ফ্রিজ, সোফা-আলমারি, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঝাড়বাতি, বাড়ির আঙ্গিনার ফ্লাডলাইট, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফুলদানিতে জমা ময়লা, শখের সবজি বাগান, ছাদে হাঁটার জায়গা—সবকিছুই নতুন করে সাজানো হয়েছে। কোথাও কোনো কিছুর যেন ঘাটতি না থেকে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি সিএসএফের সদস্যরা।

নেতাকর্মীদের বাসায় ভিড় না করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে দেশে এখন সংকটকাল চলছে। সবার মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই অবস্থায় আমরা যদি হাসপাতাল এবং চেয়ারপারসনের বাসার সামনে ভিড় করি, তাহেল ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। তাই সবার কথা চিন্তা করে আমাদেরকে একটু শান্ত থাকতে হবে। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা যে যার জায়গায় থাকুন। খালেদা জিয়ার বাসা অথবা হাসপাতালে গিয়ে কেউ ভিড় করবেন না।’

এরআগে মঙ্গলবার বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রাজধানীর গুলশানে তার অফিসে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানান ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় এবং মানবিক কারণে তাকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘‘পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তার বয়স বিবেচনায় ও মানবিক কারনে ফৌজধারী কার্যবিধির ৪০১ ধারায় দণ্ড স্থগিত করে ৬ মাসের জন্য নিজ বাড়িতে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এবং বিদেশে না যাওয়ার শর্তে জামিন দিতে আমি মতামত দিয়েছি। সেই মতামত ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি বাস্তবায়ন করবেন।’’

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগে বেগম খালেদা জিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন।

এই মামলায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এই মামলায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন।

মামলার বাকি সব আসামিকেও একই সাজা দেয়া হয় এবং ট্রাস্টের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ঘোষণা করেন আদালত।

এই মামলায় জামিন চেয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এরপর সে খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে জামিন চান খালেদা জিয়া। তবে গত ১২ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। তবে খালদা জিয়া চাইলে তার সম্মতিতে ‘অ্যাডভান্সড ট্রিটমেন্ট’ দিতে বলা হয়।

এই জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে আপিল বিভাগে ২১০ মিনিটের ‘নজিরবিহীন’ হট্টগোল হয়। ওই হট্টগোলের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতির আদালত কক্ষে পরবর্তীতে ৮টি সিসি (ক্লোজড সার্কিট) ক্যামেরা বসানো হয়।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ৫ বছরের সাজার রায় ঘোষণার পর বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়া হয়।

 

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri