buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

করোনাভাইরাসে স্থবির বাংলাদেশ সহ বৈশ্বিক পর্যটন শিল্প

coxsbazar-beach-wonderful-coxbangla-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ মার্চ) :: নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কভিড-১৯ রোগের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা চলছে। একের পর এক দেশ সীমান্ত বন্ধ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করছে। পুরো বিশ্বে কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে চলাচল ব্যবস্থা। অধিকাংশ দেশে বন্ধ হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল। যাত্রী না থাকায় অভ্যন্তরীণ রুটেও ফ্লাইট বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে এয়ারলাইনসগুলো। এতে করে অচল হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাত। আর এ পর্যটন খাত বিশ্বের জিডিপি ও চাকরিতে ১০ শতাংশ অবদান রাখে।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মহামারী বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের পাঁচ কোটি মানুষের চাকরি ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। পাশাপাশি চলতি বছর এক-চতুর্থাংশ ভ্রমণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এশিয়া মহাদেশ। আর এ প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে চলে এলে বৈশ্বিক পর্যটন খাতকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ১০ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশের ভ্রমণ গন্তব্যগুলো একে একে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। গত ২৫ মার্চ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে লোকসমাগম নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন। বুধবার ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার ফখরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণে আসা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সমাগম-জমায়েত এবং কোনো ধরনের কর্মসূচি পালনে নিষেধ করে প্রচারণা চালাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। বৃহস্পতিবার থেকে হোটেল-মোটেল খালি করা হবে। ওইদিন সকাল থেকে কাউকে সৈকত এলাকায় জড়ো হতে দেয়া হবে না।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভার্জিনিয়া মেসিনা রয়টার্সকে বলেন, এ প্রভাব নির্ভর করবে মহামারীটা কতদিন স্থায়ী হয় এবং সাম্প্রতিক প্রতিরোধ পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকর হবে, তার ওপর। যেমন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যদিও নির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা খুব বেশি সাহায্য করছে না এবং এটা অর্থনীতিতে তাত্পর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন, ভাইরাসটি প্রতিরোধে বিশ্বব্যাপী যে ব্যবস্থাগুলো নেয়া হচ্ছে, সেগুলো একেবারে ঢালাওভাবে, নির্দিষ্ট না এবং এগুলো ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত নয়। এ ধরনের বিধিনিষেধ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের ভ্রমণ ও চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থাকে জটিল করে তুলতে পারে।

ভার্জিনিয়া মেসিনা বলেন, প্রতি মাসে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করে, যা মার্কিন অর্থনীতিতে ৩৪০ কোটি ডলার যুক্ত করে। এটা বন্ধ হওয়ার পথে। আর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তের তালিকায় আছে এশিয়ার দেশগুলো। ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে যুক্ত বিশ্বব্যাপী পাঁচ কোটি মানুষ তাদের চাকরি হারাতে পারে। তার মধ্যে এশিয়াতেই কেবল তিন কোটি, ইউরোপে ৭০ লাখ, আমেরিকায় ৫০ লাখ এবং বাকিটা অন্যান্য মহাদেশে।

২০২০ সালের প্রথম এ তিন মাসেই ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে যে লোকসান হয়েছে, তাতেই ১২ থেকে ১৪ শতাংশ মানুষ চাকরি হারাতে পারে। মহামারী নিয়ন্ত্রণে এলেও বৈশ্বিক পর্যটন খাত স্বাভাবিক হতে ১০ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এজন্য মহামারীটি নিয়ন্ত্রণের পর প্রতিটি দেশের সরকারকে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, ভ্রমণ ট্যাক্স হ্রাস এবং ভ্রমণ ও পর্যটন খাতে প্রণোদনা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটন নিয়ে কাজ করা ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিল।

একটি ক্রুজে ২১ জন যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ার পর ক্রুজ শিপ ফার্ম প্রিন্সেস ৬০ দিনের জন্য ক্রুজের সব ক্রিয়াকলাপ স্থগিত করছে। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ইজিজেট ও নরওয়েজিয়ান এয়ার তাদের সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। চীনা এয়ারলাইনসে যাত্রী সংখ্যা গত মাসে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটা ভাইরাসটির উদ্ভব হওয়া দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেছে। দেশটির এভিয়েশন রেগুলেটর জানিয়েছে, এ যাত্রী হারানোর ফলে ২৩৫ কোটি পাউন্ড আয় হ্রাস পেয়েছে।

চীনা পর্যটকরা ঘরে বসে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে এ শিল্পের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রমণ ও পর্যটন খাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এদিকে প্রতিদিন নতুন নতুন দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়ায় ভ্রমণে বিধিনিষেধ ও সীমান্ত বন্ধের মতো সীদ্ধান্ত আসছে। গত সোমবার থেকে যুক্তরাজ্য বাদে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবগুলো দেশের সঙ্গে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বাংলাদেশ। এ নিষেধাজ্ঞা ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বেশির ভাগ দেশেই ভ্রমণ ও সীমান্ত বন্ধের সীদ্ধান্ত চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত। গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভ্রমণে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এরপর ইউরোপের ২৮টি দেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ স্থগিত করা হয়েছে।

২৬ মার্চ সন্ধ্যা পর্যন্ত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া দেশগুলোর মধ্যে আছে আলজেরিয়া, এন্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, বেলিজ, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বুলগেরিয়া, ক্যামেরুন, কানাডা, চিলি, কলোম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, ডমিনিকান রিপাবলিক, জিবুতি, ইকুয়েডর, মিসর, আই সালভাদর, ফিনল্যান্ড, জর্জিয়া, জার্মানি, ঘানা, গ্রিস, গ্রানাডা, গুয়াতেমালা, গায়ানা, হাইতি, হন্ডুরাস, হাঙ্গেরি, ইরাক, ইতালি, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কেনিয়া, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাটভিয়া, লেবানন, লিবিয়া, লিথুনিয়া, মাদাগাস্কার, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মালি, মলদোভা, মরক্কো, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পানামা, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, কাতার, রাশিয়া, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সৌদি আরব, সার্বিয়া, সিঙ্গাপুর, স্লোভানিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, সুদান, সুরিনাম, ত্রিনিদাদ টোবাগো, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান, ভেনিজুয়েলা ও ইয়েমেন।

 সূত্র : রয়টার্স, সিএনএন ও আল জাজিরা

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri