buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

করোনা লকডাউনে বিপর্যস্ত কক্সবাজারের পর্যটন খাত : তিনমাসে ক্ষতি প্রায় হাজার কোটি টাকা

beach-cox-corona-lockdown.jpg

কক্সবাংলা রিপোট(২৩ জুন) :: করোনার আক্রমণে কোনঠাসা পুরো পৃথিবী। পালটা আক্রমণ চালাতে উঠেপড়ে লেগেছেন বিশ্বের সব বাঘা বাঘা চিকিৎসাবিজ্ঞানী। কিন্তু কোনো কুল-কিনারা করতে পারছেন না তারা। করোনার থাবায় বেহাল দশা সারা বিশ্বের। এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও এ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা মোকাবিলায় সরকার দেশের মানুষকে ঘরে থাকার আহবান জানিয়েছে। দেশের কয়েকটি জেলা রেড জোনে পড়ে পুরো লকডাউন হয়ে গেছে। একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না মানুষ। এর প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে দেশের পর্যটন শিল্পেও। বিশেষ করে দেশে ও দেশের বাইরে পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও হোটেল-মোটেল জোন নিরবে কাঁদছে পর্যটক শূন্যতায়। স্থবির হয়ে আছে কক্সবাজারের পর্যটন স্পটগুলো।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পেও। পর্যটনের এ মৌসুমে হোটেল মোটেলগুলোতে বিদেশি পর্যটক তো নেই-ই, শূন্য দেশীয় পর্যটকও। যে কারণে ফাঁকা পড়ে আছে হোটেল-মোটেলগুলোও। এ কারণে আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান,করোনা মহামারীর কারণেরেড জোনে থাকা কক্সবাজারের পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। আর টানা কয়েক মাসে এ খাতের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে হাজার কোটি টাকায়। গত তিন মাসে হোটেল-মোটেল,গেস্টহাউস, রেস্টুরেন্ট,ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি সহ বিভিন্ন পর্যটন এলাকার স্পট,যানবাহন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পর্যটন খাতের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা। খাতটি কবে নাগাদ চাঙ্গা বা স্বাভাবিক হবে তা অনিশ্চিত।

সারা বছরই দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক ঘুরতে আসেন কক্সবাজারের বিভিন্ন পর্যটনস্পট। প্রতিদিনই সমুদ্রসৈকত,হিমছড়ি,ইনানী,আদিনাথ মন্দির,রামুর বৌদ্ধ বিহার,সাফারী পারক,পাটুয়ার টেক,মেরিন ড্রাইভ,রামকোট,সোনাদিয়া,সেন্টমাটিন সহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার পর্যটক ঘুরতে যান। কিন্তু বিশ্বকে ধাক্কা দেয়া প্রাণঘাতি করোনাভাইরাসের প্রদুর্ভাব ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের সব পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক আগমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। কক্সবাজারের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতে লোক সমাগম না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখতে প্রত্যেক ট্যূরিস্ট পুলিশ সহ উপজেলার ইউএনওদের কড়া নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। তাই পর্যটন স্পটগুলোতে বিরাজ করছে সুনসান নিরবতা।

এদিকে দীঘতম সমুদ্র সৈকত সহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে পর্যটক না আসার কারণে প্রতিদিন ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা । কক্সবাজারে পর্যটন খাত নিয়ে কাজ করা তথ্যমতে- কক্সবাজারের বিভিন্ন মেঘাপ্রকল্প এবং রোহিঙ্গা ইস্যূতে প্রতিমাসে কক্সবাজারে প্রায় ২ শতাধিক বিদেশি পর্যটক ঘুরতে আসেন। তবে করোনাভাইরাসের প্রভাবে অভ্যন্তরিন বিমান চলাচল বন্ধ থাকায় গত তিন মাসে কোনো বিদেশি পর্যটক আসেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ করোনার জন্য বর্তমানে বেকার জীবন যাপন করছেন। সেখানে অবস্থিত ৪০০-এরও বেশি হোটেল, মোটেল এখন পর্যটনশূন্য।স্থানীয় ১ কোটি পর্যটক ছাড়াও কক্সবাজারে প্রতি বছর কয়েক হাজার বিদেশি পর্যটক ঘুরতে আসেন। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে বর্তমানে জেলার পর্যটন স্পটগুলোয় নেই পর্যটকের আনাগোনা। মার্চে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে পর্যটন কেন্দ্রগুলো একরকম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পর্যটন খাতের সঙ্গে ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল-মোটেল ছাড়াও পর্যটন স্থানকেন্দ্রিক নানা ব্যবসাও বন্ধ। আর এ খাতে জড়িত মানুষদের সামনে এখন ঘোর অমানিশা।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল ও গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম সিকদার জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পট কক্সবাজারের হোটেল মালিক ও কর্মচারীরাও। করোনা সংক্রমণের পর কক্সবাজারে পর্যটনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অর্ধলক্ষাধিক মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত।

তিনি বলেন, পর্যটনের সঙ্গে জড়িত এ মানুষগুলোর পক্ষে অন্য কোনো পেশায় যাওয়া সম্ভব নয়। পর্যটক না আসায় অনেক হোটেলের অব্যবহৃত দামি ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট হতে শুরু করেছে। আবার একটি টু স্টার মানের হোটেলে গড়ে প্রতিদিন কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩ লাখ আর পাঁচ তারকা মানের হোটেলের খরচ ১০ লাখ টাকা। কিন্তু পর্যটক না থাকলে এ খরচ হোটেলগুলোর পক্ষে দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, স্থানীয় জেলা প্রশাসন ও সংসদ সদস্যের উদ্যোগে শিগগির যদি হোটেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এ বিপদে তাদের বাঁচানো যাবে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টোয়াক) এর এক নেতা বলেন, করোনার কারণে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবা্জার। বিদেশিরা যেমন আসছেন না, দেশি পর্যটক সমাগমেও রয়েছে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা। এ কারণে সকল স্পট এখন পর্যটকশূন্য। এমন অবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকারর অধিক লোকসান দিচ্ছে এ খাত। কারণ- ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়াও ঈদ ও কোরবানীর ছুটিতে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং করপোরেট কোম্পানীগুলোর আগমন থাকে বেশি। কিন্তু করোনার কারণে তা পুরোপুরি বন্ধ।

তবে পর্যটন ব্যবসায়ীদের আশা, করোনাকে জয় করে আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠবে বিশ্বের দীঘতম সমুদ্রসৈকত সহ কক্সবাজারের সকল পর্যটনস্পট । আবারও সাগরের নীলজলে পর্যটকদের দৌড়ঝাঁপ, সৈকতের বালিয়াড়িতে পর্যটকদের হই-হুল্লোড় আড্ডা,চটপটি-ঝালমুড়ি খাওয়া আর তাদের মোবাইল আর ক্যামেরার \’ক্লিক\’ শব্দগুলো মধুর তরঙ্গ তুলবে স্পটগুলোতে, এমনটাই প্রত্যাশা কক্সবাজারবাসীর।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri