buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

কক্সবাজার শরনাথী শিবিরে করোনা নিয়ে রোহিঙ্গাদের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিতে ঝুঁকি বাড়ছে

rohingya-camp-corona.jpg

কক্সবাংলা রিপোট(২৭ জুন) :: জনসংখ্যার বিপুল ঘনত্ব, নমুনা পরীক্ষা নিয়ে ভীতি, রোহিঙ্গাদের সচেতনতা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার ঘাটতির কারণে করোনাভাইসের বড় ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে থাকা লোকজন। তাঁদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হবে।

সাম্প্রতিক সময়ের কয়েকটি সমীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট–এ প্রকাশিত এক মন্তব্য প্রতিবেদনে এ ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। ২৫ জুন ‘বাংলাদেশে কোভিড-১৯–এর উচ্চঝুঁকিতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় যুক্ত আইএসসিজি শনিবার দুপুরে রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সাপ্তাহিক পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, ২৪ জুন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গার নমুনা পরীক্ষার পর ৪৬ জনের দেহে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন পাঁচজন।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রোহিঙ্গা শিবিরে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ব্যাপক সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হবে।

তবে ল্যানসেট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায় রোহিঙ্গাদের মৃত্যু ও আক্রান্তের যে সংখ্যা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। এর পেছনে নানা কারণ রয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছে শুনলে শিবিরের লোকজনের কাছে অস্পৃশ্য বিবেচিত হবেন, এই ভয়ে অনেকে উপসর্গ থাকার পরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে কিংবা চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন না।

শিবিরের কোনো রোহিঙ্গার করোনা শনাক্ত হলে তা যেন অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে খুন করা হবে; এমন গুজবও কক্সবাজারের শিবিরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন সংস্থাগুলোর বাংলাদেশের সরকারকে সাহায্যের পরও রোহিঙ্গা শিবিরে নমুনা পরীক্ষার হার খুবই কম।

রোহিঙ্গা শিবিরে অল্প জায়গায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। তাই এখানে এ ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরের প্রতি বর্গ কিলোমিটারে থাকছেন প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। বিশ্বের যেকোনো শরণার্থীশিবিরের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি। তাই শারীরিক দূরত্ব আর আইসোলেশনের (বিচ্ছিন্নকরণ) মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাটা এখানে রীতিমতো অসম্ভব। ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩০টি রোহিঙ্গা পরিবারের মধ্যে গড়ে প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ দশমিক ৬।

পুরো পরিবারকে থাকতে হচ্ছে একটি কক্ষে। জনসংখ্যার বিপুল ঘনত্ব, করোনাভাইরাস নিয়ে ন্যূনতম সচেতনতার অভাব এবং পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা সুবিধার স্বল্পতা রয়েছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে। রোহিঙ্গাদের মাস্ক পরা, সঙ্গনিরোধ (কোয়ারেন্টিন) এবং বারবার হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানার অভ্যাস গড়ে উঠেনি।

রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত মে মাসের এক সমীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে ল্যানসেট–এর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শিবিরের লোকজনের মধ্যে করোনার উপসর্গ ব্যাপক। জুনের আরেকটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, শিবিরে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়াতে পারে।

ল্যানসেট–এর ওই প্রতিবেদনের লেখকদের একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম। তিনি শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে ঝুঁকি কমাতে হলে সরকারের পাশাপাশি জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। সামাজিক নানা বিধি-নিষেধ আর ভয়ের কারণে রোহিঙ্গারা লক্ষণ থাকার পরও নমুনা পরীক্ষা এড়িয়ে চলছে। কাজেই রোহিঙ্গাদের মধ্যে ভয়ভীতি কাটানোসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পদক্ষেপগুলোর বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri