buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শুরু থেকেই পারিবারিক

film-industrybollywood-6-638.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৯ জুন) :: নিখিল আদভানি কুছ কুছ হোতা হ্যায় (১৯৯৮) ছবিতে পরিচালক করণ জোহরের সহকারী ছিলেন। এর আগে আদভানি ১৯৯৬ সালে সুধীর মিশ্রর ইস রাত কি সুভা নেহি ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন। নিখিল আদভানি কুছ কুছ হোতা হ্যায় ছাড়াও করণের কাভি খুশি কাভি গম (২০০১) ছবিতে কাজ করেছেন। শাহরুখের এ ট্রিলজির শেষ ছবি কাল হো না হো (২০০৩) ছবিটি ছিল নিখিলের জন্য বড় ব্রেক। করণের লেখা গল্পে ছবিটি পরিচালনা করেন তিনি। নিখিল স্মৃতিচারণ করে বলেন, সে সময়টায় আমি বলিউডে ইনসাইডার ছিলাম, নাকি আউটসাইডার?

প্রকৃতপক্ষে নিখিল ছিলেন আউটসাইডার। কিন্তু কিছু সময়ের জন্য তিনি ইনসাইডার হতে পেরেছিলেন এবং তারপর তাকে আবারো সেই আউটসাইডার হয়ে যেতে হয়। কয়েক বছর কাজের পর করণ ও নিখিল আলাদা হয়ে যান। করণের প্রডাকশন হাউজ দ্রুতই বলিউডে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠা পেতে নিখিলের একটু বেশি সময় লেগেছে। প্রযোজক-পরিচালক হিসেবে নিখিলের প্রথম ছবি ডি-ডে (২০১১)। এরপর এয়ারলিফট ও বাটলা হাউজ ছবি দুটোর মধ্য দিয়ে তিনি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন। বর্তমানে তার প্রডাকশন হাউজ আটটি ছবি নিয়ে কাজ করছে। নিখিলের কথায়, তার প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে লেখক ও সহপরিচালকদের প্রতি, যেন তারা তার মতোই ছবি পরিচালনার সুযোগ পান।

নিজস্ব পদ্ধতিতে নিখিল আবার বলিউডে আউটসাইডার থেকে ইনসাইডার হয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি তার খারাপ সময়ের কথা ভুলে যাননি যখন অনুরাগ কাশ্যপ, তিনি ও মনোজ বাজপেয়ি একটু সবজি, ডাল আর রুটি খাওয়ার জন্য সুধীর মিশ্রর বাসায় গিয়ে অপেক্ষা করতেন। নিখিল আদভানির ক্যারিয়ার বলিউডের মূল প্রবণতাটিকে প্রকাশ করে। সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার পর বলিউডের এ সংস্কৃতি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।

সুশান্ত পাটনা থেকে দিল্লির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হয়ে মুম্বাই এসেছিলেন। এখন অনেকে তাকে চিরকালের জন্য আউটসাইডার হিসেবে তুলে ধরছেন, যিনি কখনই বলিউডের গোষ্ঠীতন্ত্রের সঙ্গে পেরে ওঠেননি।

বলিউডের রীতিনীতি হলিউড তো বটেই, এমনকি হায়দরাবাদ বা চেন্নাইয়ের ইন্ডাস্ট্রি থেকেও ভিন্ন। মার্ক লোরেনজেন গবেষণা করে জানিয়েছেন, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক সিনেমার টিম তৈরিতে সবখানেই ভূমিকা রাখে। তবে ঐতিহাসিকভাবে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বলিউডে অন্য সব জায়গার চেয়ে বেশি ব্যবহার হয়।

কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক মার্ক লোরেনজেন দেখিয়েছেন, বলিউড শুরু থেকেই পারিবারিক। ভারতের আর যেকোনো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চেয়ে বলিউডে পরিবারতন্ত্র বেশি শক্তিশালী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বলিউডের বড় স্টুডিওগুলো দেউলিয়া হয়ে যায়। সে সময় অনেক নির্মাতা মুম্বাইয়ে জড়ো হচ্ছিলেন। এ সময় পরিবারভিত্তিক বেশকিছু প্রডাকশন কোম্পানি চালু হয়, যার মধ্যে আছে বিআর ফিল্মস। এটি প্রতিষ্ঠা করেন দুই ভাই বিআর চোপড়া ও যশ চোপড়া মিলে। যশ চোপড়া পরে নিজের যশরাজ ফিল্মস প্রতিষ্ঠা করেন।

মাসলাধর্মী সিনেমা নির্মাণ করে প্রায় অর্ধশতক ধরে এসব পারিবারিক কোম্পানি বলিউডকে নিয়ন্ত্রণ করছে। হলিউডের তুলনায় এখানে বড় স্টুডিওর সংখ্যা কম।

মুম্বাইয়ের নির্মাতাদের জন্য কোনো প্রকল্পের টিম তৈরি করতে সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বেশ কাজে দেয়। তবে লোরেনজেনের গবেষণা দেখিয়েছে, এসব পারিবারিক উদ্যোগ সবসময় সফল হয় না। এখন এসব প্রকল্পের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বন্ধন আরো দৃঢ় হয় এবং বাইরের কারো পক্ষে তখন এসব দলে ঢোকাটা খুব কঠিন হয়ে যায়।

বাইরে থেকে আসা কাউকে বলিউডে টিকতে হলে গড়পড়তার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করতে হবে। পরিবার না থাকলে বাইরের অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে অন্যদের চেয়ে ভালো কাজ করতে হয় এবং তাদের কোনো ছবি ফ্লপ হলে নতুন কাজ পাওয়াটা তাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে যায়। ইনসাইডারদের নতুন মুখের অবশ্য এসব সমস্যা মোকাবেলা করতে হয় না। একজন শাহরুখ খান সফল হলেও এ রকম শত শত শাহরুখকে বলিউড ছেড়ে যেতে হয়েছে।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে এ চক্র ভাঙতে শুরু করেছে। অনুরাগ কাশ্যপ কাজ শুরু করেছিলেন রাম গোপাল ভার্মার লেখক হিসেবে। এখন তিনি নিজেই একটা স্কুল, ভিকি কৌশল, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দীকর মতো তারকাদের তিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ফিল্ম পরিবারগুলোর সব সদস্যের পরিস্থিতিও এক নয়। সব কাপুরই সমান নন। অনিল কাপুর যখন অভিনয় শুরু করেন, তখন তাকেও বহিরাগত মনে করা হতো। অজয় দেবগন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ফাইট মাস্টার হিসেবে।

সময়ের সঙ্গে এখন অধ্যবসায় আর সঠিক মৈত্রী গড়ে বলিউডে নতুন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব। নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে ফারহান আখতার ও জোয়া আখতারকে বহু বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। তারা জাভেদ আখতারের সন্তান বলে রাতারাতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাননি।

বলিউডে অনেক পেশাদার স্টুডিও থাকলেও নতুন মুখের জন্য সবাই তারকা পারিবারের শরণাপন্ন হয়। বাইরে থেকে আসা নবাগতদের এ প্রক্রিয়ায় মানিয়ে নিতে হয় গায়ের চামড়া মোটা করে। ফ্লপ করলে পার্টিতে তাকে নিয়ে হাস্যরস করা হয়।

পরিচালক হানসান মেহতা বলেন, সবার এ অপমান হজম করার মানসিক শক্তি থাকে না। ‘নতুন তারকাদের সবসময় খুব ভালো দেখাতে হয়, সেটা জিম হোক কিংবা বিমানবন্দরে। তাদের কত ভক্ত আছে, সেটা দেখে ম্যানেজাররা সিদ্ধান্ত নেন তাকে দিয়ে কাজ করাবেন কিনা। ম্যানেজাররাই বলে দেবেন আপনি কোন পার্টিতে যাবেন আর কোনটায় যাবেন না, কিংবা কোন পোশাক পরবেন। পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী মনে করেন, নিজের পরিবারের কাউকে ওপরে তোলাটা সমস্যা নয়, সমস্যা হলো যখন পরিকল্পিতভাবে কোনো আউটসাইডারের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়া হয়।

ওপেন ম্যাগাজিন থেকে সংক্ষিপ্ত ভাষান্তর

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri