buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

‘ক্রসফায়ার’ : মানুষ কেন সন্দেহ করে ?

sahed_0.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জুলাই) :: ‘আসামি সাহেদকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে যায় র‌্যাব। এ সময় র‌্যাবকে লক্ষ্য করে তার সহযোগীরা গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে সাহেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’ ঘটনাটি এরকম ঘটেনি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কোনো অপরাধী/ আসামি/ সন্দেহভাজনের নিহত হওয়ার পরে যে ধরনের বিবৃতি দেওয়া হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম ওরফে মোহাম্মদ সাহেদের ক্ষেত্রে ঘটনাটি সেরকম ঘটেনি। বরং তাকে গ্রেপ্তারের নাটকীয়তা চলেছে বেশ কয়েকদিন ধরে এবং অবশেষে ১৫ জুলাই ভোরে তাকে গ্রেপ্তারের খবর জানানো হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কিছু বিষয় বা প্রশ্ন সামনে এসেছে, যেসব প্রশ্ন সাধারণ মানুষ ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সম্পর্কেও করে থাকে।

সাহেদকে গ্রেপ্তারের যেসব ছবি গণমাধ্যমে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, তার জামায় কাদা লেগে রয়েছে; কোমরে পিস্তল। কিন্তু জামায় কাদা অথচ জুতায় কাদা নেই। জামায় কাদা লেগে আছে মানে হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাড়া খেয়ে তিনি দৌড় দিয়েছেন এবং কাদায় পড়ে গিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, জামায় কাদা থাকলে জুতায়ও কাদা লাগার কথা। দ্বিতীয়ত, কোমরের বাম পাশে প্যান্টের বেল্টের সঙ্গে পিস্তল গোঁজা।

কেউ কেউ রসিকতা করে লিখেছেন, ‘সাহেদ বাঁ হাতে অস্ত্র চালাতেন।’ কোমরে পিস্তল থাকা অবস্থায় র‌্যাব কর্মকর্তারা তাকে সঙ্গে নিয়ে ছবি তুলেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, তাকে নিরস্ত্র না করেই কি গ্রেপ্তার করা হয়েছে? আবার এতো তাড়াহুড়ার পরও পিস্তলের পজিশন ঠিক থাকলো কী করে? অস্ত্রসহ ছবির প্যান্টের সঙ্গে অন্য ছবির প্যান্টের মিল নেই বলেও কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন।

একজন লিখেছেন, ‘ছবি দেখে মনে হচ্ছে, পালানোর সময় সাহেদের সঙ্গে র‌্যাবের ধস্তাধস্তি হয়েছে। কিন্তু, এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে যে ধরনের উত্তেজনা থাকার কথা, ছবিতে তার ছাপ নেই।’ এসব কারণে অনেকে সাহেদকে গ্রেপ্তারের ঘটনাটিকে ‘নাটক’ বা ‘দুর্বল স্ক্রিপ্ট’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশ্ন হলো, মানুষ কেনো এই ছবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বা তুলতে পারছে অথবা রসিকতার সুযোগ পাচ্ছে? এর কারণ মূলত দুটি: ১. ছবিগুলোয় আসলেই কিছু অসঙ্গতি রয়েছে এবং ২. অপরাধী গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচলিত ভাষ্যে জনআস্থার সংকট।

সাহেদকে আসলেই ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাকি আরও আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেটি সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। বরং এক্ষেত্রে র‌্যাবের ভাষ্যকেই বিশ্বাস করতে হবে। যদিও অনেক সময় অপরাধীকে ধরার পরে তার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া এবং সেই তথ্য-উপাত্তের আলোকে তাকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযানের স্বার্থে অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার বা আটকের সঙ্গে সঙ্গেই এটি প্রকাশ করে না। এটি তাদের কাজের একটি ধরন।

কেননা, গ্রেপ্তার বা আটকের সঙ্গে সঙ্গে এটি প্রকাশ করা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু, তাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেসব তথ্য জানতে চায়, তার সবগুলো হয়তো ওই অল্প সময়ে জানা সম্ভব নয় বলে আটক বা গ্রেপ্তারের কথা প্রকাশে সময় নেওয়া হয়। কার ক্ষেত্রে কী কৌশল অবলম্বন করা হবে, সেটি সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর নির্ভর করে। এটি যে শুধু বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করে, তা নয়; বরং উন্নত বিশ্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ দমনে এমন অনেক কাজ করে, যেগুলো মানবাধিকার ও নৈতিকতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ নয়।

সাধারণ মানুষও এসব নিয়ে খুব একটা প্রশ্ন তোলেন না। কারণ অপরাধীর শাস্তি হলেই তারা খুশি। যে কারণে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘বন্দুকযুদ্ধে’ কোনো বড় অপরাধী বা জঙ্গি নিহত হলেও তা নিয়ে সাধারণত কেউ প্রশ্ন তোলেন না। বরং অনেক বড় অপরাধী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ খুশি হয়েছে। কোথাও মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে। এভাবে বিচারবহির্ভূত হত্যা সমাজ ও রাষ্ট্রে এক ধরনের বৈধতা পেয়েছে।

রাজনৈতিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাদ দিলে অন্যান্য ইস্যুতে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ কম। কিন্তু, এখানে মূল সমস্যা আস্থার সংকট। যে কোনো সময় যে কোনো অপরাধীকে ধরে ফেলার সক্ষমতা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রয়েছে— মানুষ এটি যেমন বিশ্বাস করে। তেমনি সব অপরাধীর ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমান দক্ষতার পরিচয় দেয় না, সেটিও মনে করে। এক্ষেত্রে সব সময় যে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তই নিয়ামক হিসেবে কাজ করে, তা নয়; বরং অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতি ও ঘুষও একটি বড় ফ্যাক্টর— নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা এর বড় উদাহরণ।

আবার আট বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীরা কেন ধরা পড়লো না; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন ধরতে পারলো না; কেন বারবার তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার সময় পেছানো হচ্ছে— তা নিয়েও জনমনে সংশয় রয়েছে।

এরকম ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ থাকলেও, আখেরে ব্যর্থতার দায় গিয়ে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপরেই। এসব কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে এতো বছরেও মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গাটি খুব শক্ত নয়। নয় বলেই তারা যখনই কোনো অভিযানের ছবিতে অসঙ্গতি খুঁজে পায় বা কোনো বিবৃতিকে ‘চর্বিত চর্বন’ (যেমন ‘ক্রসফায়ারের’ স্ক্রিপ্ট) বলে মনে করে, তখনই সেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তোলেন। তাতে অনেক সময় অপরাধ, অপরাধী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের বিষয়গুলো আড়াল হয়ে যায়। রসিকতাটাই মুখ্য হয়ে ওঠে।

সাহেদের মতো একজন ভয়াবহ প্রতারকের গ্রেপ্তারের সংবাদটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির ও এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার দাবিদার। মানুষ তাকে গ্রেপ্তারের সংবাদটি শোনার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু, গ্রেপ্তারের পরে সাহেদের যেসব ছবি গণমাধ্যমে এসেছে, সেগুলো আসলে সাধারণ মানুষকে এমন কিছু রসিকতা করার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা এরকম একজন বড় অপরাধীর অপরাধ ও তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সফলতাকে ম্লান করে দিচ্ছে।

সুতরাং শুধু অপরাধীকে গ্রেপ্তার করাই নয়, বরং সেই সংবাদটি গণমাধ্যমে কীভাবে দেওয়া হবে এবং কীভাবে বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে সেই তথ্য মানু্ষের সামনে উপস্থাপন করা হবে— যাতে কেউ ওই তথ্য বা সংবাদ কিংবা ছবি নিয়ে রসিকতার সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও চৌকষ হতে হবে। প্রয়োজনে তাদের গণযোগাযোগ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ বিষয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষ। জঙ্গি দমনে তাদের সফলতা ঈর্ষণীয়। সুতরাং এতসব সফলতা সামান্য কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য ম্লান হয়ে যাবে, সেটি কাঙ্ক্ষিত নয়। কারণ বিপদগ্রস্ত মানুষ প্রথম ফোনটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই করে।

আমীন আল রশীদ: কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স এডিটর, রংধনু টিভি

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri