এম জিয়াবুল হক, চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা চারাবটতলী এলাকায় চিংড়িজোনের দখলবাজি ও আধিপত্য বিস্তার জেরে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে সিরাজুল ইসলাম নামের প্রবাস ফেরত একজন খুনের ঘটনায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ছাড়াও আরও ৮-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে। চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার মামলা রুজু করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, নিহত সিরাজুল ইসলামের পিতা ওমর আলী বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে চকরিয়া থানায় মামলাটি করেন।
উল্লেখ্য,গত ২৫ অক্টোবর বিকাল আড়াইটার দিকে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা চারা বটতলী এলাকায় জাহাঙ্গীর আলম ও নেজাম উদ্দিন গ্রুপের গোলাগুলিতে
গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান সিরাজুল ইসলাম।
এদিকে চিরিঙ্গা ইউনিয়নে চিংড়িজোনে গোলাগুলি ও খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ঘটনার দিন রাতে অভিযান চালিয়ে নুর মোহাম্মদ মানিক ওরফে মানিক্কা (৪৫) ও কুতুবউদ্দিন (২৬) নামের দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে। এসময় মানিক্কার কাছ থেকে একটি দেশে তৈরি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, সিরাজুল ইসলাম হত্যার ঘটনার জেরধরে এলাকায় ব্যাপক লুটপাট চালাচ্ছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
গত দু’দিনে একাধিক বাড়ি ভাঙচুর করে গরু-ছাগল ও আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এ অবস্থায় ভয় ও আতঙ্কে এলাকা ছাড়ছেন নারী পুরুষ। এক ধরণের পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে সওদাগরঘোনা এলাকা।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চিংড়িজোন খ্যাত চরণদ্বীপ ও রামপুর মৌজায় জাহাঙ্গীর আলম ও নেজাম উদ্দিন গ্রুপের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
এই দুই গ্রুপকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হয় ঘের মালিক ও চাষীদের। চিংড়িঘের দখল ও ঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা তোলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিতভাবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বৈধ এবং অবৈধ চিংড়িঘের দখল-বেদখল নিয়ে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের উত্থান ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপগুলোর মধ্যে চলে আসছিলো চরম দ্বন্ধ।
ইতোমধ্যে চিংড়িঘের দখল বেদখলের ঘটনায় গ্রুপ গুলোর মধ্যে ৫-৬টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গ্রুপ গুলো অবৈধ অস্ত্রের মহড়া দিচ্ছেন নিয়মিত। তাদের বেপরোয়ায় আচরণে প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে সিরাজুল ইসলাম খুনের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও ৮- ১০ জন অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে পুলিশ এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে অন্য আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন ওসি তৌহিদুল আনোয়ার।














