বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড নির্দেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের : যা বললেন বিচারপতি

🗓 সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

👁️ ১৪৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

👁️ ১৪৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ নভেম্বর) :: মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করল ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১।

শুধু শেখ হাসিনা নয়, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও অপরাধ প্রমাণিত বলে জানায় আদালত।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ ছিল।

এর মধ্যে দু’টি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্য একটি অভিযোগ তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার আগে অবশ্য শেখ হাসিনা একটি অডিয়ো বার্তায় জানান, এই সমস্ত রায়ের পরোয়া তিনি করেন না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই নেবেন।

আদালতের রায় ঘোষণার পরে তিনি বলেন, ‘একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট ট্রাইবুনাল এই রায় দিয়েছে।’  এ ক্ষেত্রে কোনও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো মানা হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি। হাসিনা আরও বলেন, ‘কোনও  যথাযথ ট্রাইবুনালের মুখোমুখি হতে ভয় পাব না যেখানে প্রমাণ ন্যায্য ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।’ মুজিবকন্যার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার পক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। ফাঁসির নির্দেশ মানতে চাননি তিনি।

সোমবার রায় ঘোষণার আগেও কার্যত হুঙ্কার দিয়েছিলেন মুজিবকন্যা। তিনি দাবি করেছিলেন, এই সমস্ত রায়ের পরোয়া তিনি করেন না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন, তিনিই নেবেন। উল্লেখ্য, শুধু হাসিনা নন, তাঁর মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আসাদুজ্জামান খান কামালকেও এ দিন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। এ দিন রায়ের পরে বাংলাদশের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভারতকে ফের চিঠি দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরেই হাততালিতে ফেটে প়়ড়ে আদালতকক্ষ। কিন্তু বিচারপতি সকলকে শান্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। শুধু হাসিনা নন, আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন অবশ্য ‘রাজসাক্ষী’ হয়েছিলেন। সেই জন্য তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে বাংলাদেশে কোনও মহিলাকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়নি।

সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারপতি মহম্মদ আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বেঞ্চ। হাসিনার বিরুদ্ধে ৪৫৩ পাতার রায় দেওয়া হয়। যার ছয়টি অংশ রয়েছে। এ দিন তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয় হাসিনাকে। এ গুলো হলো, উস্কানিমূলক মন্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ এবং দমন আটকাতে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখার অভিযোগ।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় এই মামলার রায়ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল  ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১-এ। কিন্তু রায় ঘোষণার শুরুতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান জানান, এই রায় ৪৫৩ পাতার। তিনি এই কাজ করতে গিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই কম ঘুমিয়েছেন। অল্প বিলম্বে প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ক্ষমা চেয়ে নেন তিনি।

হাসিনা-সহ বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগগুলি হলো- উস্কানিমূলক মন্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সইদকে গুলি করে খুন, চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলনরত ছয় জনকে গুলি করে খুন, আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে খুন। প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইবুনালে সমাপনি আর্জিতে শেখ হাসিনা-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি সর্বোচ্চ সাজা প্রাণদণ্ড চাওয়া হয়েছিল।  যদিও হাসিনা বার বার এই আদালতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তোপ দেগেছিলেন।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান খান, দুই জনেই বর্তমানে বাংলাদেশের বাইরে রয়েছেন। সে কারণে তাঁরা সাজা ঘোষণার পরে আপিল করতে পারবেন না বলে জানাচ্ছেন আইনজীবীরা। কারণ আপিল করা বা রায়কে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আত্মসমর্পণ করতে হয় এবং রায়দানের ৩০ দিনের মধ্যে করতে হয় আপিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে ধৃতকে আপিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

যা বললেন বিচারপতি

ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাজা ঘোষণার কথা ছিল ১৭ নভেম্বর সোমবার সকাল ১১টা থেকে।

কিন্তু এ দিন সেই প্রক্রিয়া শুরু হতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়।

কেন দেরি হয়েছে, সেটাও জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার।

সোমবার তিনি জানিয়েছেন, খুব চাপের মধ্যে কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণে তাঁর ঘুমও একেবারেই কম হয়েছে।

সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হতে দেরি হওয়ায় ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছেন ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান।

সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এই কাজ করতে গিয়ে বেশ কিছুদিন তিনি কম ঘুমিয়েছেন।

প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। সেই কারণেই এ দিন সময়ের মধ্যে এসে পৌঁছতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাজা ঘোষণার নথি ৪৫৩ পাতার, ৬টি ভাগে ভাগ করা রয়েছে।

এ দিন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের ১ জুলাই আন্দোলনের সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছে।

প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত এবং পরে রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর