মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: কক্সবাজারের চকরিয়ায় ইটভাটায় অভিযানে বাঁধা প্রদান ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি ভাংচুর ও হামলায় ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) রাতে পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারি পরিচালক মো.রেজাউল করিম বাদি হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ৫জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬’শজনকে আসামী করা হয়েছে।
এামলার আসামীরা হলেন- চকরিয়া পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার মাষ্টার সৈয়দ নূরের ছেলে দিদারুল আলম (৫০), নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার জঙ্গলঘাট এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সুমন (২২), বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাইত্যং এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে মো.মনির উদ্দিন ছোটন (২৭), চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের নুরুল আলমের ছেলে জমির উদ্দিন (২৬) এবং একই ইউনিয়নের মাঝেরফাঁড়ি পাহাড়তলি এলাকার দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে আরাফাত হোসাইন (২১)।
এছাড়া আরও ৬’শ জনতে অজ্ঞাত আসামী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মামলার বাদি মো.রেজাউল করিম এজাহারে দাবি করেছেন, গত ২০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে পরিবেশ অধিদপ্তর সদর দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.রেজাওয়ান-উল-ইসলাম ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব-১৫ এবং পুলিশের একাধিক টিম ফাইতং ইটভাটায় অভিযান পরিচালনার উদ্যোশে রওয়ান দেন।

অভিযান পরিচালনাকারী দল চকরিয়ার বাদশারটেক এলাকায় পৌছালে ইটভাটা মালিকরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এসময় তারা সড়কে ট্রাক দাঁড় করিয়ে রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।
অভিযান পরিচালনাকারী দল ট্রাক সরাতে গেলে তাদের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং গাড়ি ভাংচুর করেন। ইটপাটকেলের আঘাতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর বেশ কিছু সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে আইন-শৃঙ্খলা চরম অবনতির আশংকায় অভিযান পরিচালনাকারী দল অভিযান স্থগিত রেখে ফিরে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশকিছু মালিক ও শ্রমিক জানান, পরিবেশের দোহাই দিয়ে ফাইতং এলাকায় ইটভাটা ভেঙে ফেললে শ্রমিকদের উপোষ থাকতে হবে।
এছাড়া উন্নয়ন ও বাড়িঘর নির্মাণের উপকরণ ইট না পেলে দেশের মানুষের কষ্ট বাড়বে। শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা না করে ইটভাটা ধ্বংস করা হলে বেকার হবে হাজার হাজার শ্রমিক।
এতে এলাকায় চুরি-ডাকাতি বেড়ে যাবে। আমরা চাই আমাদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিলে আমরা ইটভাটা আর করবো না।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, সরকারি কাজে বাঁধা , গাড়ি ভাংচুর ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলায় ঘটনায় ৫জনের নাম উল্লেখসহ ৬’শ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত অপরাপর আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।














