বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীতে সর্দি-কাশির সংক্রমণ থেকে রক্ষার উপায়

🗓 Tuesday, 25 November 2025

👁️ ১১৭ বার দেখা হয়েছে

🗓 Tuesday, 25 November 2025

👁️ ১১৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: শীতের হাওয়া বইতে শুরু করার সাথে সাথে অনেকের মধ্যে সর্দি-জ্বর এবং শুকনো কাশির সমস্যা ছড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ বলছেন কাশি সারতে বেশি সময় লাগছে, গলার স্বর পরিবর্তিত হচ্ছে এবং জ্বর কমলেও দুর্বলতা অনেক দিন ধরে কাটছে না।

আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঠাণ্ডা বাতাস, আর্দ্রতার তারতম্য এবং পানি কম খাওয়ার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে সর্দি-কাশি, ত্বকের শুষ্কতা, শ্বাসকষ্ট, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) এবং হজমের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

চিকিৎসকরা বলেছেন, জ্বর হলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা উচিত নয়। সাধারণত, ভাইরাল জ্বর দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হয়। তবে যদি জ্বর এবং গা-গরমভাব তিন দিন বা তার বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, শীতকালীন অসুস্থতা এড়াতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু সহজ পরিবর্তন এনে পুরো মৌসুমে সুস্থ থাকা সম্ভব। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরেছে। চলুন, শীতে সুস্থ থাকার কিছু পরামর্শ জানি—
অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার না করা
শীতকালে অনেকেই গরম পানি দিয়ে গোসল করেন, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়, ফলে ত্বক শুষ্ক, চুলকানিযুক্ত এবং  হয়ে ওঠে। শিশু ও বয়স্কদের জন্য হালকা গরম পানি সবচেয়ে উপযোগী।
গরম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
শীতে খাদ্যাভ্যাসে সজাগ থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বেশি তেল, মসলাদার ও লবণযুক্ত খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত তেল থাকে, যা হজমের জন্য ক্ষতিকর। ফলের রসের পরিবর্তে সরাসরি ফল খাওয়া ভালো। শীতকালে শসা ও পেপে এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো ঠাণ্ডা প্রকৃতির। গরম স্যুপ, মুগ ডাল, খিচুড়ি, হালকা সবজি, বাদাম এবং শস্যজাত খাবার শরীরকে উষ্ণ রাখে এবং ভালো পুষ্টি দেয়।
নিয়মিত ব্যায়াম করা
শীতকালে ঘাম কম হওয়ায় শরীরের ক্যালরি বার্ন কমে যায়। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা জরুরি। হাঁটা, যোগব্যায়াম, স্ট্রেচিং বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বিশেষ উপকারী। হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য শীতকালে ভোর বা রাতে ব্যায়াম ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তাই তাদের জন্য দুপুর বা বিকেলে ব্যায়াম করা নিরাপদ। তবে ব্যায়ামের আগে হালকা ওয়ার্ম আপ করলে শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি কমে।
প্রস্রাব চেপে না রাখা
শীতে ঠাণ্ডার কারণে অনেকেই প্রস্রাব আটকে রাখেন, যা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনের (ইউটিআই) ঝুঁকি বাড়ায়। পানি কম খাওয়ার ফলে কিডনির ওপর চাপ পড়তে পারে এবং কিডনির পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতকালীন অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে গিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থা, বয়স, সহনশীলতা এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা মাথায় রাখতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক অভ্যাস মেনে চললে শীতকাল হয়ে উঠতে পারে শক্তি বাড়ানো এবং সুস্থ থাকার একটি উপযোগী ঋতু।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর