কক্সবাংলা ডটকম :: সিডনির বন্ডি সমুদ্র সৈকতে হামলাকারী পাক বংশোদ্ভূত বাবা ও ছেলে সাজিদ আক্রাম এবং নাভিদ আক্রাম ISIS মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই এই গণহত্যা চালিয়েছে।
এই দাবি করলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ়।
মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএফপি এবং বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেছেন বলে জানা গিয়েছে।
বন্ডি সি বিচে পাকিস্তানের বাসিন্দা বাবা-ছেলের এলোপাথাড়ি ছোড়া গুলিতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। ৪০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের বন্ডি বিচে সশস্ত্র হামলার জড়িতদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সেখানকার পুলিশ উদ্ধার করে পাকিস্তানের নানা নথি।
এ ছাড়া সাজিদ-নাভিদের গাড়ি থেকে পাওয়া যায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটস (আইএস)-এর পতাকাও।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ় সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে হামলাকারীরা ISIS-এর প্ররোচনায় এই কাজ ঘটিয়েছে।
এই ধরনের অপরাধ ধীরে ধীরে তৈরি হওয়া র্যাডিকাল ভাবনা এবং নৃশংস পরিকল্পনার ফল।’
এযাবৎকালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ঘটা সবচেয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা বন্ডি সি বিচের ঘটনা।
রবিবার দুপুরে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বন্ডি বিচে চলছিল ইহুদিদের হানুকা উৎসব।
সেই উৎসবের মেজাজ মুহূর্তে বদলে দেন দুই বন্দুকবাজ।
হামলাকারী নাভিদ একটি সংস্থায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। কিন্তু কয়েক মাস আগে ওই সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় তাঁকে কাজ চলে যায়।
হামলার অন্যতম অভিযুক্ত সাজিদ তাঁর বাবা, একটি ফলের দোকানে কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর কাছে ছটি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ছিল যা এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়।
বন্ডি সৈকতের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক নেতাদেরও উদ্বিগ্ন করেছে। এর জেরে অস্ট্রেলিয়া অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার কথা ভাবছে। একইসঙ্গে লাইসেন্স সীমিত করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে হামলাকারী বাবা ও ছেলে গত মাসে ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁরা ১ নভেম্বর ফিলিপাইনে যান, ২৮ নভেম্বর সে দেশ ছাড়েন।
ফিলিপাইনের অভিবাসন দপ্তর বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বাবা ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে এবং ছেলে ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরাম অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে ফিলিপাইন গিয়েছিলেন।
এই দুই ব্যক্তি ফিলিপাইনের অভিবাসন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, দেশটিতে তাঁদের শেষ গন্তব্য দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর দাভাও। ফিলিপাইনের অভিবাসন দপ্তরের মুখপাত্র ডানা স্যান্ডোভাল বলেন, দাভাও থেকে তাঁরা অস্ট্রেলিয়া ফেরার উড়োজাহাজে ওঠেন, তাঁদের গন্তব্য ছিল সিডনি।
দাভাও ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান দ্বীপ মিন্দানাওয়ে অবস্থিত। মিন্দানাওয়ের মধ্য ও দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দারিদ্রপীড়িত এলাকায় ইসলামপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়।
বন্দুকধারী বাবা-ছেলে ফিলিপাইনে অবস্থানকালে ‘সামরিক ধরনের প্রশিক্ষণ’ নিয়েছিলেন বলে কয়েকটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পেয়েছে। ফিলিপাইন সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এ খবর নিশ্চিত করতে পারেনি।
অস্ট্রেলিয়া পুলিশও গত মাসে দুই বন্দুকধারীর ফিলিপাইন ভ্রমণে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশের পক্ষে থেকে আজ মঙ্গলবার বলা হয়, তাঁরা কী কারণে ফিলিপাইন গিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফিলিপাইন পুলিশও বিষয়টি তদন্ত করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো ফিলিপাইনে কার্যক্রম চালানোর জন্য পরিচিত। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে একসময় তাদের বেশ প্রভাবও ছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় তা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। এখন মূলত দক্ষিণ মিন্দানাও দ্বীপে ছোট ছোট সেলের আকারে তাদের কার্যক্রম চলছে বলে জানা যায়।














