বুধবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২রা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ১০-১২ মার্চের মধ্যে

🗓 Sunday, 22 February 2026

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২২ ফেব্রুয়ারী :: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১০-১২ মার্চের মধ্যে বসতে পারে। এর আগে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সংসদ অধিবেশন আহ্বান করবেন।

গতকাল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো এ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি শোক প্রস্তাবও আনা হবে। এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।’

সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের (এমপি) গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে ১৪ মার্চের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে হবে। সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন ১৭ ফেব্রুয়ারি।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে ভাষণটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা হয়। প্রথম অধিবেশনজুড়ে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন। এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন।

এর আগে আগস্টে গ্রেফতার হন ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু। তাদের অনুপস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো ও সংসদে সভাপতিত্ব করার জন্য রাষ্ট্রপতিও কাউকে মনোনীত করেননি। ফলে এবার সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সরকারি ও বিরোধী দলের আলোচনার মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ একজন সদস্যকে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব দিয়ে স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করার নজির রয়েছে।

সংবিধানের ৭৪-এর ৩ ধারা অনুযায়ী, ‘স্পিকারের পদ শূন্য হইলে বা তিনি [রাষ্ট্রপতি রূপে কার্য করিলে] কিংবা অন্য কোন কারণে তিনি স্বীয় দায়িত্ব পালনে অসমর্থ বলিয়া সংসদ নির্ধারণ করিলে স্পিকারের সকল দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করিবেন।’

এ ধারায় আরো বলা হয়েছে, ‘ডেপুটি স্পিকারের পদও শূন্য হইলে সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ সদস্য তাহা পালন করিবেন; এবং সংসদের কোন বৈঠকে স্পিকারের অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার কিংবা ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকিলে সংসদের কার্যপ্রণালি-বিধি-অনুযায়ী কোন সংসদ সদস্য স্পিকারের দায়িত্ব পালন করিবেন।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯ এবং তাদের জোটের তিন শরিক দল তিনটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্ররা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিএনপির বিদ্রোহী।

এদিকে গণভোটে জয়ী ‘হ্যাঁ’ জাতীয় সংসদ বসা মাত্রই কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গতকাল লক্ষ্মীপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন হয়েছে, এমপিদের শপথ হয়েছে; আমরা শপথ নিয়েছি। “‍হ্যাঁ”, “‍না” ভোট হয়েছে গণভোট।

সেখানে “‍হ্যাঁ” জয়যুক্ত হয়েছে। খুব স্বাভাবিক কারণেই পার্লামেন্টে বিল রেইজ হবে। “‍হ্যাঁ”র শপথের কোনো প্রয়োজন নেই, “‍হ্যাঁ” অটোমেটিক জাতীয় সংসদে বসা মাত্রই কার্যকর হবে। এটিই জুলাই জাতীয় সনদ। এটা অনেক এক্সপার্ট, তারা তাদের বক্তব্যে ইতিমধ্যে বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘যেখানে “‍না” ভোট হয়েছে, সেখানে “‍না” ভোট অনুযায়ী পার্লামেন্টে রেইজ হবে, আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। সুতরাং এ ব্যাপারে ওনারা যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আমি মনে করি যারা আইনবিদ রয়েছেন তারা ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ বিষয়ে আরো ভালোভাবে জানা দরকার, বলা দরকার।’ তিনি আরো বলেন, ‘যেখানে নোট অব ডিসেন্ট দেয়া হয়েছে, সেটা কী হবে তা পার্লামেন্টে নির্ধারিত হবে।’

দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, আইনজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, ‘সংসদ অধিবেশনে সাময়িকভাবে একজনকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া একটি সাধারণ বিষয়। সংসদ পরিচালনার রুলস অব প্রসিডিজের (রুল-৮) অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়; আমাদের সামাজিকতার ভিত্তিতে সাধারণত সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।

তিনি তখন স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের নাম আহ্বান করবেন এবং সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে তাদের নির্বাচন করা হবে। এরপর সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে নবনির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারের শপথ গ্রহণের বিষয়টি আসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের উদাহরণ টেনে বলা যায় যে সেদিনও এভাবেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নিয়োগ ও শপথ হয়েছিল।’

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর