বুধবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২রা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর বহু চেষ্টা হয়েছে : ইউনূসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আরও তথ্য প্রকাশ

🗓 Monday, 23 February 2026

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৩ ফেব্রুয়ারী) :: প্রায় দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে ছিল বাংলাদেশের শাসন ক্ষমতা। সেই সরকারের মাথায় ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

সম্প্রতি নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মসনদে বসেছে বিএনপি সরকার, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তারেক রহমান।

তারপরেই ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সে দেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ধ্বংস করা, অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রপতিকে পদ থেকে সরানোর বহু চেষ্টা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ওই আমলে তাঁর উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের অভিযোগ, তাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বারবার অপমান করা হয়েছে।

একাধিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। গোটা অভিযোগের ক্ষেত্রেই নিশানায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে অন্য দেশে সফর করার ক্ষেত্রেও ইউনূসের সরকার তাঁকে বাধা দিয়েছে বলে অভিযোগ সাহাবুদ্দিনের। নিজে ভিনদেশে সফরে গেলেও, সংবিধানের নিয়মকে উড়িয়ে ফেরার পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেননি ইউনূস, এমন অভিযোগও তোলা হয়েছে রাষ্ট্রপতির তরফে।

গোটা দেশের জনগণের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি যেখানে থাকেন, অর্থাৎ বঙ্গভবনের গোটা প্রেস উইং সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এমনকী নানা দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে থাকা রাষ্ট্রপতির ছবিও সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে একাধিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়েছে, অনেক অধ্যাদেশ করার কোনও কারণ ছিল না। প্রধান উপদেষ্টা সংবিধানের কোনও বিধান মেনে চলেননি।’

ওই সাক্ষাৎকারে বিএনপি নেতৃত্ব এবং সেনাবাহিনীর শীর্ষস্তরের আধিকারিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট। অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে অপমানিত হলেও, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সেনা বাহিনী তাঁর পাশে ছিল বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

কালের কণ্ঠকে তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে আমার মনের মধ্যে অনেক কৌতূহল জমা ছিল। কিন্তু আমি পর্যায়ক্রমে বুঝতে পারলাম, তিনি খুবই আন্তরিকতাপূর্ণ মানুষ। আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল।’

রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য

রাষ্ট্রপতির আরো বিস্ফোরক তথ্য
এ যেন এক প্রাসাদবন্দি রাষ্ট্রপতির রোমহর্ষক গল্প। টানা দেড় বছরের সেই বন্দিদশা আজ নেই। এই স্বস্তিতেই যেন রুদ্ধকালের ঘটনাপঞ্জি প্রাণ খুলে মেলে ধরলেন রাষ্ট্রপ্রধান মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে তাঁর কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অবতারণা করেছেন রাষ্ট্রপতি।
তাঁর বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ায় আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে বাধ্য হয়েছি। গতকাল প্রথম অংশ প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। আজ ছাপা হলো দ্বিতীয় ও শেষ অংশ। সাক্ষাৎকার নিয়েছে কালের কণ্ঠে।জয়নাল আবেদীন : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন বঙ্গভবনের পরিবেশ কেমন ছিল?রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : স্বাভাবিকভাবে ওই আন্দোলনটা জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়।

যখন বিক্ষোভকারীরা গণভবন অভিমুখে, তখন আমাকে জানানো হলো, যেকোনো মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসবেন। ১২টার সময় আমাকে জানানো হলো, উনি প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গভবনে আসার। এর আগে আমরা আঁচই করতে পারিনি যে আসলে ঘটনা কী ঘটতে যাচ্ছে। তবে উনি যখন এখানে আসবেন বলছেন এবং হেলিকপ্টারও রেডি, তখন আমরা ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা করতে পারি।
এখানে সিকিউরিটি যারা ছিল, সবাই পজিশন নিয়ে নিল।দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জানানো হলো, না, উনি আসছেন না। আসছেন না যখন জেনেছি, তখন আমরাও সতর্ক ছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই শুনলাম, উনি দেশ ছেড়েছেন। একসময় জানতে পারলাম, উনি অলরেডি দেশের বাইরে চলে গেছেন। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের খুব দ্রুত পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছিলাম।
হায়দার আলী : সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে তখন আপনার কি কোনো যোগাযোগ হচ্ছিল?রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রথমে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমাকে টেলিফোনে সব ঘটনা অবহিত করেন। সশস্ত্র বিভাগ থেকেও আমাকে জানানো হয়। পরে জানানো হলো, ওয়াকার সাহেব সাংবাদিকদের সামনে সম্পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে একটা ব্রিফিং দেবেন।

উনি ব্রিফিং দিলেন, আমরা টেলিভিশনে দেখলাম। উনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগ করেছেন। তো দেশবাসী আশ্বস্ত হলো যে উনি অলরেডি দেশান্তরী হয়েছেন। তারপর আমাকে সেনাপ্রধান ফোন করে জানালেন যে তাঁরা আসছেন। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী প্রধান—তিনজনই বঙ্গভবনে এলেন। এসে আমার সঙ্গে উদ্ভূত সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসলেন।

টেক্সট

তখন আমাদের প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থা। কী করা যায়, কিভাবে কী হবে—এসব নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। সিদ্ধান্ত হলো, সব রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ডাকা হবে। এই কাজে সেনাবাহিনীর টিম নিযুক্ত ছিল। তারপর উনারা চলে গেলেন। সেনা সদরে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে একত্র করা হলো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছিল। তখন যাদের পাওয়া গেছে, তাদেরকে নিয়েই আবার তারা বঙ্গভবনে আসেন। আমরা আবার বৈঠকে বসি।

বঙ্গভবনের এই বৈঠকে আমরা দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছি। কিভাবে, কোন ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে দেশের মানুষকে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার আয়োজন হয়। আমার সভাপতিত্বে সভা হলো। সেনাপ্রধান সঞ্চালনা করলেন। সেখানে তিনি পুরো পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিলেন। সেই বৈঠকে সম্মিলিতভাবে কয়েকটি প্রস্তাব আসে। বিশেষ করে, মূল তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার। যে নামেই ডাকা হোক না কেন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থাকবে অভিন্ন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার বললে হয়তো ওয়ান-ইলেভেনের মতো শোনায়। আবার সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার বললে দীর্ঘমেয়াদি সরকারও হয়ে যেতে পারে। তো, নানা বিবেচনায় আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা সিদ্ধান্ত নেন যে অন্তর্বর্তী সরকারই গঠন করা উচিত। এই সিদ্ধান্ত হলো আর আমার ওপর দায়িত্ব পড়ল জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করার। আর তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সব ঠিক করবেন সরকারের গঠন প্রণালীটা। এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পর প্রফেসর আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির অগ্রগতি তুলে ধরেন। আমাকে ভাষণ দিতে হলো রাত ১১টার সময়। আর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন প্রক্রিয়া তাঁদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হলো। সেনাবাহিনী এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আলাপ করে এটা করবেন। সেনাবাহিনী থাকবে, সহায়তা করবে সব কিছুতে।

হায়দার আলী : ওই প্রেক্ষাপটে দেশজুড়ে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয় যে জরুরি অবস্থা জারি করে দেশে সামরিক শাসন শুরু হতে যাচ্ছে। এই ধরনের কোনো আলাপ কি উঠেছিল, প্রকাশ্যে বা গোপনে?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : এমন কোনো আলাপ ওঠেনি; বরং আমি এখানে দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে আমাদের সেনাবাহিনী এখানে যে ভূমিকা রেখেছিল, তা অবশ্যই স্মরণীয়। স্মরণীয় এই কারণে যে সঠিক সময়ে সঠিক ভূমিকা রেখেছে তারা। তারা ইচ্ছা করলে মার্শাল ল দিতে পারত। চাইলে ইমার্জেন্সি, মানে জরুরি অবস্থা দিতে পারত, যেটা দেওয়ার জন্য চাপ ছিল আমার ওপর। কারণ রাষ্ট্রপতিই শুধু দিতে পারে ইমার্জেন্সি। তাই আমাকে বিভিন্ন পর্যায় থেকে, বিভিন্নভাবে জরুরি অবস্থা জারি করতে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। এখানে একটা কথা না বললেই নয় যে ওই সময় একটা প্রতিবিপ্লব ঘটানোর উদ্যোগও ছিল।

জয়নাল আবেদীন : কোন পর্যায় থেকে প্রতিবিপ্লবের উদ্যোগ হচ্ছিল? আর কারা জরুরি অবস্থা জারির জন্য প্রভাবিত করতে চেয়েছে?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : এটা আপনারা বোঝেন। সাধারণত এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক সুযোগসন্ধানী পক্ষ থাকে। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন এজেন্সি তত্পর থাকে। তাদের তরফ থেকেই নানা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। বিশেষ করে একটি জটিলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অসাংবিধানিক কিছু করে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। আমার কানে বারবার বলা হচ্ছিল, আমি যেন ইমার্জেন্সি দিই। তবে সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমানবাহিনী প্রধান এটার সম্পূর্ণ বিরোধী ছিলেন। সামরিক আইন জারি করার ব্যাপারে বিরোধী, জাতীয় সরকার গঠন করার ব্যাপারে বিরোধী এবং ইমার্জেন্সি দেওয়ার ব্যাপারেও তাঁরা বিরোধী ছিলেন। তাঁরা বলছিলেন, এভাবেই কন্টিনিউ করে নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত যাওয়া যায় কি না। এ কারণে আমি সেসব শক্ত হাতে দমন করতে পেরেছি।

সশস্ত্র বাহিনীর উদ্দেশ্যই ছিল একটা নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করা। যে জন্য সেনাপ্রধান বলেছিলেন যে ১৮ মাসের মধ্যে আমরা নির্বাচন দেখতে চাই। আমি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে পারি, সেনাপ্রধানের মধ্যে ক্ষমতার মোহ ছিল না; এটা একদম শতভাগ সত্য। তিনি বারবার বলেছেন, ‘আমাদের সেনাবাহিনীর অতীত ইতিহাস ঘাঁটলে অনেক ভালো এবং অনেক মন্দ পাওয়া যায়। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ও অনেকে সেটাকে গ্রহণ করেনি।’ সেনাবাহিনী ওয়ান-ইলেভেনের সময় ইমার্জেন্সি দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। এই কারণে জনগণের মধ্যে একটা বিতৃষ্ণা আসতে পারে। সে জন্য ওনারা কোনোমতেই এই পথে পা বাড়াননি।

তবে আমি ছিলাম সেই সময় টার্গেট-ইমার্জেন্সি দেওয়ার জন্য। চরমভাবে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে আমার ওপর। তবে আল্লাহর রহমত এবং আমার দৃঢ় মনোবলের কারণে ওই পরিস্থিতি থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে।

হায়দার আলী : অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের বিষয়টি সংবিধানে ছিল না। ফলে ওই সময় একটি সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়েছিল দেশ। সে পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিয়েছেন?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : যখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলো, তখন কথা উঠল—এটা তো আমাদের সংবিধানে নেই। আমাদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৭ এবং ৭-ক অনুযায়ী, সংবিধানের কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন করাটা শাস্তিমূলক অপরাধ এবং এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এটা হবে বিদ্রোহ বা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এটা তো আমি জানি। কিন্তু আমরা যে কাজটা করতে যাচ্ছি, সরকার গঠন করতে যাচ্ছি, এটা তো সংবিধানে নেই। দেশের এই সংকটময় অবস্থায় আমি নিজে ৮ তারিখে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তত্কালীন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলি। তাঁর সঙ্গে পরামর্শ করি—এই অবস্থায় কী করা যায়। আমরা আলোচনা করলাম—এই সংবিধানের আলোকেই কিভাবে সরকার গঠন করা যায়। সংবিধানের আর্টিকেল ১০৬-এর বিধানমতে আপিল বিভাগের কাছে আমি তাঁদের মতামত চাইলাম। বললাম, এ অবস্থায় আপনারা আমাকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন।

এটা আমাদের আইনে আছে। একটা আইনের সাপোর্ট থাকলে আমি তো ৭ ও ৭-ক অনুচ্ছেদ সংক্রান্ত জটিলতা থেকে বাঁচি। তখন ওনারা আপিল বিভাগের আদালত বসালেন।

কালের কণ্ঠ : বিচারপতিরা কি এসেছিলেন এখানে?

রাষ্ট্রপতি : না, ফোনে কথা হয়েছে। সেই সময় সুপ্রিম কোর্ট ঘেরাও আন্দোলন চলছিল। আমার তত্কালীন আইনসচিব আমার চিঠি কোর্টে নিয়ে যায়। উনারা তখন দুজন ছিলেন এজলাসে, আর বাকি কয়েকজন ছিলেন বাড়িতে। তাঁদের উনারা ভার্চুয়ালি সংযুক্ত করেন। এর আগে ৬ আগস্ট আমি রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে যথোপযুক্ত মনে করে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানকে অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ দিই। যেহেতু তখন দেশে সরকার নাই, আইনে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দান করবেন। সে কারণে আমি কারো মুখাপেক্ষী হইনি। তো, ৮ আগস্টের ওই শুনানিতে আমার পক্ষ থেকে, মানে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে সেদিন শুনানি হয়। তারপর তাঁরা আমাকে মতামত দিয়ে দেন যে, এই ধরনের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দিতে পারেন। এক বা একাধিক উপদেষ্টা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। আর সেটি রাষ্ট্রপতি গঠন করে দেবেন মর্মে সিদ্ধান্ত দিলেন তাঁরা। তাঁদের ওই মতামত আমার জন্য রক্ষাকবচ হয়ে উঠল। আমার সামনে আর কোনো বাধা থাকল না। এই মতামতের ওপর ভিত্তি করেই আমি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি। সেখানে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সম্পূর্ণ রকম সমর্থন ছিল।

কালের কণ্ঠ : প্রধান উপদেষ্টা কাকে করা হবে, সেই আলোচনায় কার কার নাম ছিল?

রাষ্ট্রপতি : ছাত্রদের পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকেই প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল। তখন তিনি ছিলেন ফ্রান্সে। এতে সরকার গঠনে দেরি হচ্ছিল। আমাদের তত্কালীন ছাত্রনেতারা উনার সঙ্গে যোগাযোগ, ফ্রিকোয়েন্টলি যোগাযোগ করতে পারছিল না। তার কারণ উনি ওখানে হাসপাতালে একটা অপারেশন করাচ্ছিলেন। উনাকে তাই সব সময় মোবাইল ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। এটা ছাত্রনেতারা আমাকে জানিয়েছিল। তারপর কথা উঠল যে, যেহেতু উনার আসতে দেরি হচ্ছে, তাহলে অন্য কাউকে সরকারপ্রধান করা যায় কি না। এ ধরনের কথা উঠলে ছাত্রনেতারা আপত্তি তোলে। তারা জানিয়ে দেয় যে, ড. ইউনূসকেই প্রধান উপদেষ্টা করতে হবে। তখন আমরা ঠিক করলাম, ছাত্রনেতাদের কথাই আমরা সম্মান করব। ওরা যাকে চায়, তাকেই আমরা প্রধান উপদেষ্টা করব। রাজনৈতিক নেতারাও ছাত্রনেতাদের সমর্থন করছিলেন।

কালের কণ্ঠ : সরকার গঠনে দেরি হওয়ার কারণে প্রধান উপদেষ্টা পদে বিকল্প কোনো নাম কি আলোচনায় এসেছিল?

রাষ্ট্রপতি : সে রকম অনেক কথাই হচ্ছিল। যেহেতু ড. ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগটা খুব স্বাভাবিকভাবে করা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই প্রধান উপদেষ্টা পদে কয়েকজনের নাম আসছিল। এর মধ্যে একজন ছিলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ; পরবর্তী সময়ে তাঁকে অর্থ উপদেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ছাত্রনেতারা ড. ইউনূসের ব্যাপারে অটল থাকে এবং তারা ধৈর্য ধরার পক্ষে ছিল।

পরে ড. ইউনূসের দেশে ফেরা নিশ্চিত হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। তিনি ঢাকায় অবতরণ করার পর বিমানবন্দরের লাউঞ্জে বসেই সশস্ত্র বাহিনী প্রধানরা তাঁর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নামের তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যায়। আমরা আগে থেকে একটি খসড়া তালিকা করে রেখেছিলাম; সেখান থেকে ড. ইউনূস কিছু বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের কয়েকটি নাম যুক্ত করেন। তারপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কালের কণ্ঠ : আপনাদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন কারা?

রাষ্ট্রপতি : এটা বিচিত্র। বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার উনি নিজে কিছু নাম লিখে দিয়েছেন আর কি! ওই যে ওনারা, এনজিও থেকে যাঁরা যাঁরা এসেছিলেন; উনি তাঁদের নাম লিখে দিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক, স্বাস্থ্যবিষয়ক, ধর্মবিষয়ক—এগুলো উনি পরিবর্তন করে করে দিয়েছেন।

কালের কণ্ঠ : সারা দেশে একসময় মব সন্ত্রাসে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ওই পরিস্থিতিকে আপনি কিভাবে দেখেছিলেন?

রাষ্ট্রপতি : এটা তো অবশ্যই কষ্টের জায়গা। ওই সময়টা এত অশান্ত ছিল যে, সেগুলো সে সময় দমন করার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হতে পারত। শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে।

কালের কণ্ঠ : বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে যে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল না। আপনি কি এ ক্ষেত্রে তাদের কোনো ইন্ধন দেখতে পান?

রাষ্ট্রপতি : ইন্ধন ছিল কি না জানি না। তবে তারা নীরব ছিল দেখেছি।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কথা বলেছেন বা কোনো কিছু—এ রকম?

রাষ্ট্রপতি : আমি দেখলাম যে কিছু করে লাভ হবে না। মানে, আমি যেটা চাচ্ছি যে এটা যেন না হয়; কিন্তু সেটা আমি করতে পারতাম না। অসহায় ছিলাম। আমি কিছু বলতে চাইনি, কেননা বলতে গিয়ে যদি বুমেরাং হয়ে যায়!

কালের কণ্ঠ : ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে জাতীয় সংগীত পরিবর্তনের কথাও উঠেছিল। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ওই ঘটনাকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

রাষ্ট্রপতি : এসব খুবই দুঃখজনক ঘটনা। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় আইএসআইয়ের পতাকা ওড়ানো হয়েছে। এটা খুব ভয়ংকর ইঙ্গিত বহন করে।

কালের কণ্ঠ : মব সন্ত্রাস নিয়ে বর্তমান সরকার কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

রাষ্ট্রপতি : ঘুণে ধরার মতো ধরে ফেলেছিল মব কালচার। এইটাকে নিরুৎসাহ করা বা বন্ধ করার জন্য সরকারের প্রথম পদক্ষেপটা অবশ্যই প্রশংসনীয়। অবশ্যই। যেসব কাজ ওনারা করছেন এই সময়টুকুর মধ্যে, তাতে আশা করা যায় যে সামনের দিনগুলো ভালোভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা করতে পারবেন, বিশেষ করে সরকার গঠনের পর শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যে অবস্থান ঘোষণা করেছেন, সেটি খুবই ইতিবাচক। দেশে স্থিতিশীলতা আনতে অবশ্যই মবতন্ত্র বন্ধ করতে হবে। এগুলো শক্ত হাতে দমন করতে হবে।

কালের কণ্ঠ : সদ্যঃসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

রাষ্ট্রপতি : নির্বাচন ভালো হয়েছে। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল। মানুষ যেন এক ধরনের মুক্তি চাইছিল।

জয়নাল আবেদীন : নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন?

রাষ্ট্রপতি : আমার তো খুব অল্প সময় তাঁকে দেখা। টুকটাক কিছু কথা হয়েছে। দেখলাম যে রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণাবলি উনার মধ্যে আছে। এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। একটা কথা আছে, মর্নিং শোজ দ্য ডে। এই কয় দিনের যে কার্যক্রম, তাতে আশাবাদী হওয়া যায়, বিশেষ করে উনার শরীরে মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বইছে। তাই দেশের ভালো করবেন তিনি, এই বিশ্বাস রাখি। তাঁর বাবা ছিলেন রাষ্ট্রপতি, মা ছিলেন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আমি বিশ্বাস করি না যে আমরা কোনো নতুন দুর্যোগে পড়ব। তিনি যেন আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান, এটাই আমার কামনা।

কালের কণ্ঠ : তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার আসার পর আপনার অনুভূতি কী?

রাষ্ট্রপতি : এখন আমি সম্পূর্ণ চাপমুক্ত ও ভারমুক্ত (হাসি)। দেড় বছর শ্বাসরুদ্ধকর সময় পার করেছি। আমি এখন সম্পূর্ণ রিল্যাক্স। দেড় বছর ধরে আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, কিভাবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করব, কিভাবে বঙ্গভবনকে নিরাপদ রাখব। সেই চাপ এখন পুরোপুরি চলে গেছে।

কালের কণ্ঠ : সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে, গণমাধ্যমে আলোচনা হচ্ছে যে—রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন হতে পারে; নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কারো কারো নামও আসছে। এমনকি বিদেশি এক গণমাধ্যমে আপনি নাকি বলেছেন, নির্বাচনের পর আর এখানে থাকতে চান না। বিষয়টি পরিষ্কার করবেন?

রাষ্ট্রপতি : এই বক্তব্যটি অন্যভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আমি যেভাবে বলেছি, সেটি সেই প্রেক্ষাপটেই বোঝা দরকার। গত ১৮ মাসে ওই সরকার আমাকে যে রকম মানসিকভাবে চাপ দিয়েছে, নানা ঘটনায় আমাকে অপমানিত করা হয়েছে, সে কারণে আমার মনে এক ধরনের ক্ষোভ জন্মেছিল। তখনই আমি বলেছিলাম, এভাবে রাষ্ট্রপতি থাকা যায় না, চলে যেতে ইচ্ছা করে। এই কথাটাই আমি রয়টার্সকে বলেছিলাম।

কিন্তু পরে এটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হলো, যেন আমার মেয়াদ নেই। প্রশ্ন করা হলো, নতুন নির্বাচন হলে, নতুন সরকার এলে আপনার অবস্থান কী হবে? তখন আমি বলেছি, আমি সাংবিধানিকভাবে পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত; আমার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত। মানে আমার মেয়াদ আরো দুই বছর আছে। তবে আমি এটাও বলেছি, যদি একটি নির্বাচিত সরকার আসে এবং তাদের অভিপ্রায় থাকে যে আমি না থাকাই ভালো, তাহলে আমি স্বেচ্ছায় সরে যেতে প্রস্তুত। আই লাভ টু গো। মানে, তারা সে রকম ইচ্ছা পোষণ করলে আমি নিজে থেকেই চলে যেতে চাইব।

হায়দার আলী : এখনো কি সেই অবস্থানটাই আছে? ধরুন, বিএনপি যদি মনে করে, তারা নিজেদের মতো রাষ্ট্রপতি চায়, সে ক্ষেত্রে আপনি কী করবেন? কিংবা সংসদের মাধ্যমে অভিশংসন হলে?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : ওগুলো কেন হতে দেব? আমি একজন সচেতন মানুষ। যদি তারা মনে করে আমি থাকি, তাহলে আমি থাকব। আর যদি বলে যে, সরে যাওয়া ভালো; তাহলে আমি নিজেই সম্মানজনকভাবে সরে যাব।

হায়দার আলী : আপনি নিজে থেকে আর কোনো বিষয়ে বলবেন?

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : কত আর বলব? আমাকে যেন এই প্রাসাদে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতি জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অংশগ্রহণ করেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে এই রেওয়াজ চলে আসছে। কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার সেই রেওয়াজে প্রতিবন্ধকতা দিয়েছে। আমাকে দুইটা ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে যেতে দেয়নি। নিরাপত্তা বিভাগের মাধ্যমে আমাকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, আপনি ঈদের নামাজে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে যাবেন না।

এ ছাড়া বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বঙ্গভবনেই হয়ে থাকে। দীর্ঘদিনের রেওয়াজ অনুযায়ী আমরা এই দিবসগুলো বঙ্গভবনে আয়োজন করি; জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়। আমরা ওই দিবসগুলোতে প্রধান উপদেষ্টাকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দিয়েছি; কিন্তু তিনি আসেননি। এর আগে সরকারপ্রধানরা প্রায় প্রতিটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। যদিও সাংবিধানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি সৌজন্যবোধের বিষয়।

আরেকটি ঘটনা বলি, সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে আমার একটি বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সার্জারির এক বছর পর সেখানকার হাসপাতালে আমার ফলোআপের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। সময়মতো আমি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিই। প্রত্যুত্তরে আমাকে সরাসরি নিষেধ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, যদি প্রয়োজন হয়, বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনার ব্যবস্থা করবেন, তবু বিদেশে যাওয়া যাবে না।

একইভাবে লন্ডনে কেমব্রিজ পার্কওয়ে হসপিটালেও আমার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার আমাকে সেখানেও যেতে দেয়নি।

গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা ১৪ বার বিদেশে গেছেন, অথচ আমি চিকিৎসার জন্য যেতে পারিনি। মূলত আমি যেন মনস্তাত্ত্বিকভাবে ভেঙে পড়ি, এটাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। আমি ভেঙে পড়ে যাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করি; এতে তারা অসাংবিধানিকভাবে পছন্দের কাউকে বসাতে পারবে। আর এটা করতে পারলেই নির্বাচন বিলম্ব  করানো বা নিজেদের ক্ষমতা বেশিদিন ধরে রাখা যেত। নিজেদের মনমতো রাষ্ট্রপতি হলে যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়—এই ভাবনা থেকেই আমার ওপর মানসিক পীড়ন চালিয়েছেন তাঁরা।

কালের কণ্ঠ : আপনি রাষ্ট্রপ্রধান। একজন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বা তাঁর সহকর্মীরা দেশের সংবিধান লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রপ্রধানকে অপদস্থ করেছেন। এসব ঘটনার আইনি দিক সম্পর্কে কিছু কি বলবেন? সাংবিধানিকভাবে আপনি কি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারতেন না?

রাষ্ট্রপতি : অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে সেটি ছিল একটি ব্যতিক্রমী সরকার। আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এসব আইনি জটিলতার কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার দিকে না গিয়ে এড়িয়ে যাওয়াটাকেই স্বস্তিদায়ক মনে করেছি। তাই এড়িয়ে গেছি। চিন্তা করেছি, যতটা নির্ঝঞ্ঝাট থাকা যায়। তাই নীরবেই সয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি।

কালের কণ্ঠ : রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পর কোন কাজে মনোনিবেশ করতে চান?

রাষ্ট্রপতি :  আমি তো আইন অঙ্গনের মানুষ। জীবনের দীর্ঘ ৪০টি বছর কাটিয়ে দিয়েছি কোর্ট-কাচারিতে। অবসরের পর একজন আইনি পরামর্শক হিসেবে বাকি জীবন কাটিয়ে দেব; যদি শরীর-স্বাস্থ্য ভালো থাকে।

কালের কণ্ঠ : আপনি ভালো থাকুন; সুস্থ থাকুন। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

রাষ্ট্রপতি : আপনাদেরও ধন্যবাদ। সব দেশবাসীর মঙ্গল কামনা করি।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর