বুধবার ১৭ই ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ২রা পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লবণ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০ শতাংশের বেশি পিছিয়ে

🗓 Monday, 23 February 2026

👁️ ৭ বার দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :: দেশের লবণ উৎপাদনে ঘটেছে ছন্দপতন। মৌসুম শুরু হওয়ার পর অর্ধেক সময় পার হয়ে গেলেও লবণ উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে মাত্র ৯ দশমিক ২২ শতাংশ! লবণ উৎপাদনের এমন নিম্নমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটছে মাঠপর্যায়ে লবণের দরপতনও।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) উপ-মহাব্যবস্থাপক এবং কক্সবাজার লবণ সেলের প্রধান জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, ‘এবার লবণ উৎপাদন মৌসুম দেরিতে শুরু হওয়ায় এবং অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী লবণ উৎপাদন হচ্ছে না।

২৭ লাখ ১০ হাজার টন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চলতি মাস পর্যন্ত লবণ উৎপাদন হয়েছে মাত্র আড়াই লাখ টন। আমরা লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

বিসিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে দেশে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২৭ লাখ ১০ হাজার টন। লবণ উৎপাদনের মৌসুম নভেম্বরে শুরু হয়ে মে মাসে শেষ হয়।

সাত মাসের এ মৌসুমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে ৬৯ হাজার ১৯৮ একক লবণ চাষের ভূমিতে ৪১ হাজার ৩৫৫ জন চাষি উৎপাদনের জন্য মাঠে নামার কথা ছিল।

কিন্তু মৌসুম শুরুর পর অর্ধেক সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ১৫ শতাংশ চাষি মাঠে নামেননি।

চলতি মৌসুমের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে লবণ উৎপাদন হয়েছে মাত্র আড়াই লাখ টন। যা লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৯ দশমিক ২২ শতাংশ। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯০ শতাংশের বেশি পিছিয়ে রয়েছে উৎপাদন।

অথচ এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিদিন ৮ হাজার ১৫ টন এবং মাসে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন লবণ উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল। লবণ উৎপাদনে ছন্দপতনের সঙ্গে সঙ্গে ঘটছে লবণের দরপতন। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে লবণ বিক্রি হচ্ছে কেজি ৫ থেকে ৬ টাকা। ছয় মাস আগে যা ছিল ৮ থেকে ৯ টাকা। গত বছর একই সময়ে মাঠপর্যায়ে প্রতি কেজি লবণ বিক্রি হয়েছিল ৯ থেকে ১০ টাকার মধ্যে।

লবণের দরপতনের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে কথা হয় একাধিক লবণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে। তারা লবণের দরপতনের অন্তত ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে বিদেশ থেকে লবণ আমদানির অনুমতি। এতে করে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি লবণ বাজারে চলে আসায় দেশি লবণের চাহিদা কমছে। এতে দ্রুত দরপতন ঘটছে লবণের।

কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শিল্পকারখানার জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা সোডিয়াম সালফেট খোলাবাজারে ভোজ্য লবণ হিসেবে বিক্রি করছে।

একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা বা অর্থনৈতিক কারণে অনেক শিল্প-কারখানা তাদের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। শিল্প খাতে চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে লবণের সরবরাহ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

এ ছাড়া গত মৌসুমের অনেক লবণ এখনো চাষি ও মিল মালিকদের গুদামে মজুত রয়েছে। নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে পুরোনো এই মজুতের কারণে বাজারে সরবরাহের আধিক্য দেখা দিয়ে দাম কমিয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবে স্থানীয় বাজারে লবণের দাম হ্রাসে ভূমিকা রাখছে।

দেশের বৃহৎ লবণ বিপণন কেন্দ্র চাক্তাইয়ের মেসার্স লাল মিয়া সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী আসাদ আসিফ বলেন, ‘দেশের চাহিদা কমে যাওয়ায় লবণের দাম কমছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর