মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় অবৈধভাবে ছড়াখাল থেকে সেলো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অস্ত্রধারী বালু খেখো সন্ত্রাসীদের হামলায় তিন সাংবাদিক আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।
এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করা হয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) থানায় মামলাটি করেছেন আহত সাংবাদিক দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক পূর্ব দেশ এর চকরিয়া প্রতিনিধি এ.কে.এম ইকবাল ফারুক।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন।
মামলার আসামিরা হলেন- নাজিম উদ্দিন (৪৬), শাহাব উদ্দিন (৪৪), নুরুল আলম (৩৫), আবদুল নুর (৫০), মহি উদ্দিন (৩৮), মোঃ মানিক (৩২), সাইফুল ইসলাম (৫৫), হুবাইব (২৫), জুনাইদ (২২), মোঃ হাসান (৩৫), মোহাম্মদ (৪৮), সহ অজ্ঞাত ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আহত তিন সংবাদকর্মী হলেন- কালের কন্ঠের ও আজাদী প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশ ও পূর্ব দেশের ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক।
জানা যায়- গত রোববার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভান্ডারির ডেবা এলাকার ছড়াখালে সেলো মেশিন বসিয়ে রাতদিন বালু উত্তোলন করছে নাজেম উদ্দিন নামের এক বালু খেকো।
এসব বালু রাতের আধারে ট্রাকে করে বিভিন্ন জায়গায় পাচার করছে নাজেম উদ্দিন।
স্থানীয়রা এসব নিয়ে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছে। ট্রাকে করে বালু পাচারের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাস্তা- সেতু। নাজেম উদ্দিন ওই ছড়াখাল থেকে সরকারিভাবে বালু তোলার অনুমতি পায়।
কিন্তু সে সরকারি শর্ত ভঙ্গ করে সেলো মেশিন দিয়ে অতিরিক্ত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছে। যা সরাসরি ইজারা শর্ত লঙ্গন করেছে।
এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আহত তিন সাংবাদিক কালের কন্ঠের ও আজাদী প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, আমার দেশ ও পূর্ব দেশের ইকবাল ফারুক ও দৈনিক সংবাদের জিয়াবুল হক সরজমিনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিলে নাজেম উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর বর্বরতা হামলায় চালায়।
আহত অবস্থায় প্রায় তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের দেশীয় অস্ত্রের দিয়ে মারধরের আঘাতে সাংবাদিক জিয়াবুলের একটি হাতে গুরুতর জখম হয়। তার হাতে হাড্ডি ভেঙ্গে গেছে।
ফারুকের হাতের তালুতে কেটে যায়। ছোটন কান্তি নাথের মাথায় ও হাতে-পায়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ছোটন কান্তি নাথ ও জিয়াবুলের অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার পেয়েছি। সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, তবে এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।













