রবিবার ১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিনেতা আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা : নেপথ্যে কি পরকীয়া? ফাঁস হলো বিস্ফোরক তথ্য

🗓 Saturday, 28 February 2026

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

🗓 Saturday, 28 February 2026

👁️ ১৯ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: নাটকের পরিচিত অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিনেতার শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, শনিবার দুপুরের দিকে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেন।

অভিনেতা আলভীকে নিয়ে কাজ করেন- এমন একাধিক নির্মাতা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

একটি নাটকের শুটিংয়ে আলভী নেপালে অবস্থান করছেন।

সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেন, ‘দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে।

আমি নেপালে শুটিংরত ছিলাম। খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।

আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।

শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করছি, আমাকে একটু সময় দিন। আমি দ্রুত ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছি, ফিরে সবার সঙ্গে কথা বলব।

ততক্ষণ পর্যন্ত এই শোকের মুহূর্তে আমাকে এবং আমার পরিবারকে একটু মানসিক স্বস্তি দিন।

আমাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হলেও দয়া করে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবেন না। সবাই আমার ইকরার জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে ইকরার চাচা দিপু খান জানান, তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহের ভালুকায় রয়েছেন এবং খবরটি শোনার পরপরই পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

প্রসঙ্গত,২০১০ সালের ৯ নভেম্বর ভালোবেসে বিয়ে করেন আলভী-ইকরা। ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

ফাঁস হলো আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যার বিস্ফোরক তথ্য

ছোটপর্দার পরিচিত অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় বিনোদন জগতে শোক ও রহস্যের ছায়া নেমে এসেছে।

গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নুসরাত জাহান ত্রিশার ফাঁস করা দীর্ঘ মেসেঞ্জার চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট থেকে বেরিয়ে এসেছে এক অবহেলিত স্ত্রীর আর্তনাদ। যেখানে সরাসরি অভিযোগ উঠেছে আলভীর সঙ্গে এক সহ-অভিনেত্রীর (তিথি) পরকীয়া এবং দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের চরম অবহেলার।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার মানসিক দূরত্ব জনসমক্ষে আসে। গত শুক্রবার রাত ৩টা ১৩ মিনিটে আলভী তাঁর ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টের নিচেই পাল্টা মন্তব্যে ইকরা লেখেন, “অভিনন্দন! ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন।

আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম, আবার কাঁদছো কেন?”। এর কয়েক ঘণ্টা পর শুক্রবার সকালে ইকরা নিজের একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে লেখেন, “কেউ একজন একজনের পুরো জীবন ধ্বংস করে দিয়ে নিজের একটি দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে; কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”।

নুসরাত জাহান ত্রিশার শেয়ার করা ইকরার ব্যক্তিগত চ্যাটে দেখা যায়, আলভীর সঙ্গে অভিনেত্রী ‘তিথি’র সম্পর্ক নিয়ে ইকরা নিদারুণ যন্ত্রণায় ছিলেন। ইকরা লিখেছিলেন, “যাকে আমি পনেরো বছর ধরে আগলে রেখেছি, তার জীবনে আজ বাইরে থেকে আসা একটি মেয়ে (তিথি) এতটা আপন হয়ে উঠেছে?”। ইকরার অভিযোগ ছিল, আলভী ওই মেয়েটিকে এতটাই প্রশ্রয় দিতেন যে সে অনেক কিছু করার সাহস পেত। এমনকি আলভী যখন শুটিংয়ের জন্য পুবাইলে থাকতেন, তখন ছেলের সঙ্গে অডিও কলে কথা বলার পাশাপাশি ওই মেয়ের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ইকরা আরও জানান, আলভী তাকে আড়াল করে লুকিয়ে লুকিয়ে ওই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতেন।

ফাঁস হওয়া চ্যাটে ইকরার মাতৃত্বকালীন হাহাকারও ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেছিলেন, সন্তানের প্রতি মায়া থাকলে তিথি আলভীর জীবনে এতটা অগ্রাধিকার পেত না। শুধুমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তিনি আলভীর পাশে থাকতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেখানে তাঁর নিজের কোনো সত্যিকারের চাওয়া পূরণ হচ্ছিল না। ইকরা আরও জানিয়েছিলেন, ফেসবুকে আলভীকে নিয়ে গর্ব করে পোস্ট দিলেও দিনশেষে মানুষ যখন তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হাসাহাসি করত, তখন তাঁর খুব লজ্জা লাগত। এমনকি মেসেঞ্জারে ইকরার নাম ‘জালিমা’ লিখে রাখা হয়েছিল, যা ইকরার মতে ওই মেয়ের আপত্তির কারণেই করা হয়েছিল।

২০১০ সালে ভালোবেসে পালিয়ে ঘর বাঁধা এই দম্পতির সংসারে ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। চ্যাটে ইকরা লিখেছিলেন, “আমি ওর জীবনে বাধা—এটাও মনে হয়। সবাইকে বলে বিয়ে না করতে, সে সুখী না কারণ ভালোবাসার মানুষকে কোনোদিন পাবে না আমার জন্য”।

নিজেকে অপ্রয়োজনীয় মনে করা ইকরা আরও লিখেছিলেন যে, আলভী তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে না—এর কোনো নিশ্চয়তা তিনি পাচ্ছিলেন না। ইকরার বন্ধু ত্রিশার দাবি, ইকরা মোটেও আত্মহত্যার মতো মেয়ে ছিলেন না, বরং ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাঁকে তিলে তিলে ‘ট্রিগার’ করা হয়েছে এবং এই চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ঘটনার সময় জাহের আলভী ‘দেখা হলো নেপালে’ শিরোনামের একটি নাটকের শুটিংয়ের জন্য নেপালে অবস্থান করছিলেন। ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর শোবিজ অঙ্গনের তারকারা শোক প্রকাশ করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। বর্তমানে পুলিশ বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

‘আমার আমিকে মুক্তি দিলাম, কাঁদছো কেন’, আলভীকে লিখেছিলেন ইকরা

ছোটপর্দায় পরিচিত মুখ যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর সামনে এসেছে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার চরম তিক্ততা ও মানসিক দূরত্বের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। নেটিজেনদের দাবি, পারিবারিক কলহ এবং আলভীর এক সহশিল্পীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের ধরেই ইকরা এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান জানান, দুপুর পৌনে ১২টায় ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ হাসপাতাল থেকেই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয় এবং বর্তমানে বাসার সিসি ক্যামেরাসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে স্বামী-স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি ফেসবুক পোস্ট এখন ভাইরাল। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টায় আলভী লেখেন, “ভুল করলে মাফ মিলে, কিন্তু মুক্তি মেলে না”। স্বামীর সেই পোস্টে মন্তব্য করে ক্ষোভ উগড়ে দেন ইকরা। তিনি লেখেন, “অভিনন্দন। ভুল করলে মাফও মিলে না, মুক্তিও মিলে না। ভুল স্বীকার করতে পারলা! আমিন। আমার আমিকে মুক্তি করে দিলাম আবার কাঁদছো কেন?”

আত্মহত্যার আগে শুক্রবার সকালে একটি হাস্যোজ্জ্বল ছবি পোস্ট করে ইংরেজিতে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দেন ইকরা। সেখানে তিনি লেখেন, “কেউ একজন কারও পুরো জীবনটা ধ্বংস করে দেওয়ার পর নিজের মাত্র একটা দিন নষ্ট হওয়ার জন্য কাঁদছে… কান্নার চেয়ে এই পরিহাসের আওয়াজ অনেক বেশি তীক্ষ্ণ”। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব স্ক্রিনশট থেকে স্পষ্ট যে, তাঁদের মধ্যকার দূরত্ব চরমে পৌঁছেছিল।

ঘটনার সময় আলভী নেপালে ‘দেখা হলো নেপালে’ নাটকের শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি স্তম্ভিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন। ২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বাঁধা এই দম্পতির ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

শোবিজ অঙ্গনের তারকারা এই ঘটনায় শোক প্রকাশের পাশাপাশি পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

শোবিজে তোলপাড়, নেপথ্যে কি পরকীয়া?

ছোটপর্দার পরিচিত মুখ যাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আকস্মিক আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। শনিবার দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্ত্রীর মৃত্যুর সময় আলভী শুটিংয়ের প্রয়োজনে নেপালে অবস্থান করছিলেন। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারা ফেসবুকে তাদের ব্যক্তিগত মতামত ও শোক প্রকাশ করেছেন, যেখানে উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপড়েন থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়গুলো।

ইকরার মৃত্যুর খবর জানাজানি হওয়ার পর ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনুভা তিশা লেখেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলার এটাই উপযুক্ত সময়। আমাদের উচিত সেইসব মানুষের পাশে দাঁড়ানো যারা সাহায্যের জন্য চিৎকার করছে। ইকরা ছিলেন একজন যত্নশীল স্ত্রী এবং চমৎকার মা।’

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা এরফান সাজ্জাদ শোকাচ্ছন্ন ও সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে লিখেছেন, ‘বাচ্চাগুলোই শেষ পর্যন্ত ভুক্তভোগী হয়। আলভী-ইকরার ছেলে রিজিকের জন্য খুব খারাপ লাগছে।’

চিত্রনায়িকা রাজ রিপা সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘আত্মহত্যা মহাপাপ। মনের সাথে মন না মিললে কাপুরুষের কপালে জুতা দিয়ে দুইটা বাড়ি মেরে চলে যেতে, অন্তত জীবনের কাছে হেরে যেতে হতো না।

ছোট পর্দার আরেক অভিনেত্রী সাদিয়া তানজিন। তিনি লিখেছেন, ‘মানুষ মরে গেলেই সমাজ বোঝে সে কষ্টে ছিল। যে মানুষটি স্বেচ্ছায় জীবন ত্যাগ করে, সে অনেক আগেই মানসিকভাবে বিদায় নিয়েছে। তার লোক দেখানো হাসি দেখে আমরা ভাবি কত সুখে আছে!’

ব্যাচেলর পয়েন্ট খ্যাঁত অভিনেত্রী পারসা ইভানা বর্তমান সম্পর্কের অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি লেখেন, ‘চারদিকে এত মিথ্যা কেন? এত ভুয়া ভালোবাসা কেন? আমার দম বন্ধ লাগে এই পৃথিবীতে।’

চিত্রনায়িকা আঁচল আঁখি বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেন, ‘এই জুটিটা আমার অনেক ভালো লাগত। কেন ভালোবাসার সমাপ্তি এভাবে শেষ করতে হবে?’

এদিকে অভিনেত্রী কবির তিথি সম্পর্কের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, ‘প্রেম করে বিয়ে করার পরেও আবার অন্য মেয়ের সাথে প্রেম করে কেমন করে! ছি ছি…’

বর্তমানে নেপালে ‘দেখা হলো নেপালে’ নাটকের শুটিংয়ে থাকা জাহের আলভী এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি এই মুহূর্তে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। তিনি দ্রুত ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছেন এবং সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়াতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০১০ সালে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন আলভী ও ইকরা। তাদের ‘রিজিক’ নামে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর