এস এম জুবাইদ,পেকুয়া :: পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে সরকারি ফুটখালী খাল দখল করে ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে।
সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত প্রবাহমান এ খালটি বর্তমানে ভূমিদস্যুদের দখলচেষ্টায় সংকুচিত হয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণ করে খণ্ড খণ্ড অংশ ফসলি জমির সঙ্গে একীভূত করা হচ্ছে।
কোথাও শ্রেণি পরিবর্তন করে ফসল রোপণ, আবার কোথাও স্থাপনা নির্মাণের কাজও চলছে।
একসময় প্রায় একশ ফুট প্রশস্ত খালটি এখন অনেক স্থানে ত্রিশ ফুটেরও কমে নেমে এসেছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, টইটংয়ের সোনাইছড়ি মৌজায় অবস্থিত ফুটখালী খালটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়ন্ত্রনাধীন।
ধনিয়াকাটা বাজারের অদূরে এবিসি আঞ্চলিক মহাসড়কের নিকট দিয়ে প্রবাহিত এ খালটি পাহাড়ি উৎসমুখ থেকে নেমে নিম্নাঞ্চলের দিকে ধাবিত হয়েছে।
ছাগলখাইয়া ব্রিজের কাছ থেকে খালটি দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে একাংশ দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে যাদুখালী ছড়ার সঙ্গে মিলিত হয়েছে এবং অপর অংশ বাধ্যখালী খাল হয়ে টইটং খালের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।
কৃষক ফিরোজ আহমদ বলেন, ফুটখালী খালের পানির ওপর নির্ভর করে সোনাইছড়ি, মিয়াজিরঘোনা, মৌলভীপাড়া, ভেলুয়ারপাড়া, আবদুল্লাহপাড়া ও রমিজপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো চাষাবাদ হয়। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের পানি এ খাল দিয়ে নেমে গিয়ে জলাবদ্ধতা রোধ করে।
তিনি অভিযোগ করেন, ভেলুয়ারপাড়ার জহিরুল ইসলাম মানিক, জিয়াউর রহমানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি খাল দখলের সঙ্গে জড়িত। খাল উদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি উৎপাদন, পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে পেকুয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম নুরুল আখতার নিলয় বলেন, সরকারি খাল দখলের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং জবরদখল ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাবুবুর রহমান মাহাবুব জানান, এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













