রবিবার ১ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজনীতির কৌশলী খেলায় বিএনপি-আওয়ামী লীগ

🗓 Saturday, 28 February 2026

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 Saturday, 28 February 2026

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৮ ফেব্রুয়ারী) :: তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিগত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিস খোলার চেষ্টা, ঝটিকা মিছিল এসব বাড়লেও খুব শিগগির এই দলটির ওপর থেকে নিধেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে কৌশলী ভূমিকায় বিএনপি।

আওয়ামী লীগকে আরও কয়েক মাস ভীতিকর অবস্থায় রেখে আগে তারা নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে চায়।

অন্যদিকে আওয়ামী  লীগও চায় নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিয়ে তাদের মনোভাব এবং রাজনীতিটা বুঝে নিতে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দুদলের এমন কৌশল ও অবস্থানের কথা জানা গেছে।

বিএনপির শীর্ষ সারির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৌশলগত কারণে আওয়ামী লীগ ইস্যুতে তারা আপাতত প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেবেন না। দলটির  নেতারা মনে করেন, আওয়ামী লীগ ইস্যুতে এখন কোনো বক্তব্য দেওয়া সামাজিকভাবে বিপজ্জনক।

কোনো কারণে কোনো বক্তব্য আওয়ামী লীগের পক্ষে চলে গেলে সামাজিক মাধ্যমে নানাভাবে হেনস্তার শিকার হতে হবে। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ইস্যুতে বিএনপির করণীয় নিয়ে দলীয় ফোরামে এখনো কোনো আলোচনাই হয়নি।  তবে, একাধিক বিএনপি নেতা বলেছেন, সহসা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ ইস্যুতে এখন পর্যন্ত দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় দলের কিছু নেতা ভোটের স্বার্থে হয়তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের বোঝাপড়া করে থাকতে পারেন। তবে, সেটিকে দলীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করা যাবে না। সেটি পর্দার অন্তরালের ব্যাপার।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচন পরবর্তী কোথায় আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হয়েছে, সেটি আমার জানা নেই। আর তাদের রাজনীতিতে ফেরা কিংবা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ব্যাপারে আমি আপাতত কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, রাজনীতিতে স্থায়ী শত্রু-মিত্র না থাকলেও শেখ হাসিনা শাসনামলের ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা’ ভোলার মতো নয়। বিশেষ করে খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ এবং নানাভাবে চরিত্র হননের চেষ্টা করেছেন শেখ হাসিনা।

পরে তাকে পরিত্যক্ত কারাগারে রাখা এবং বিদেশে চিকিৎসা নিতে না দেওয়ার বিষয়টিও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভেতরে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়েছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা খুব দ্রুত তুলে নেওয়া সম্ভব নয়।

তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কৌশল হলো, বিএনপি সুযোগ দেবে কি দেবে না সেটি নিয়ে আওয়ামী লীগ ভাবছে না। তাদের কৌশল হলো, একটি ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা বের করা। সরকার পরিচালনায় বিএনপি একটা খুঁত পেয়ে যাওয়া মাত্রই পুরোদমে রাজনীতিটা শুরু করবে আওয়ামী লীগ। খুঁত পাওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারকে সময় দেওয়ার নীতিতেই থাকবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ পর্যন্ত নেওয়া সবগুলো পদক্ষেপেই আওয়ামী লীগ এক ধরনের সন্তুষ্ট। প্রশাসনে রদবদল, পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সেক্টরে নতুন সরকারের রদবদলের নানা পদক্ষেপ ইতিবাচকভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মববিরোধী অবস্থানকেও সাধুবাদ জানায় আওয়ামী লীগ। তবে এটি কি কথার কথা না সত্যিকারভাবেই বাস্তবায়ন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি বোঝার বাকি আছে আওয়ামী লীগের।

দলটির সম্পাদকম-লীর এক সদস্য বলেন, এখন পর্যন্ত নতুন সরকার যেহেতু ঠিক পথেই চলছে, আমরাও তাদের সঙ্গে ঠিক রাজনীতিটাই করতে চাই।  গর্জন-তর্জনের রাজনীতির চিন্তা করছে না আওয়ামী লীগ। আরও সময় দিতে চায় সরকারকে। অর্থাৎ ধীরে চলো নীতিতে এগুবে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্তত ৩ জন নেতা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে যে ধ্বংসস্তূপের ওপর রেখে গিয়েছে, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হিমশিম খেতে হবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। ফলে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে ভুল রাজনীতির দিকে যাবে বিএনপি।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা দাবি করেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে দেশের জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখন বেশি রয়েছে। জনগণের শক্তি যেহেতু রয়েছেই তাই বিএনপি আওয়ামী লীগের ওপর স্টিমরোলার চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করলে তাদেরই ক্ষতি হবে। আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হবে।

তাছাড়া, গত দেড় বছরে ইউনূস সরকার অত্যাচার নির্যাতন যেভাবে চালিয়েছে, এর চেয়ে বেশি আর কী করতে পারবে বিএনপি সরকার। আওয়ামী লীগ আপাতত স্বাভাবিক রাজনীতি করার চিন্তাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা আরও বলেন, বিএনপি চেষ্টা করবে আটকে রাখতে, আওয়ামী লীগকেও চেষ্টা করতে হবে রাজনীতির রাস্তা পরিষ্কার করতে। তবে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, একটু সময় নিয়ে রাজনীতি শুরু করতে চান তারা। এরমধ্যে বিএনপির কৌশল বুঝতে চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লীর এক সদস্য বলেন, বিএনপির কৌশল বুঝতে হলে দলীয় কার্যালয় খোলার রাজনীতির চেয়ে আপাতত আর কোনো রাজনীতি হতে পারে না। কার্যালয় খোলার রাজনীতিতে বিএনপি বাধা দিলে বিএনপির কৌশল বুঝে উঠতে পারবে আওয়ামী লীগ। কৌশল বোঝার লক্ষ্যে প্রায় প্রতিদিনই কার্যালয় খোলার সেই রাজনীতি আওয়ামী লীগ অব্যাহত রেখেছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর