দীপন বিশ্বাস :: কক্সবাজারের কলাতলীর এন আলম গ্যাস ষ্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আবু তাহের নামে দগ্ধ এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধী থেকে তিনি মারা যান।
আবু তাহের (৪২) কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শ গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে।
তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। তিনি গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে বাড়ির পাশের এন আলম গ্যাস পাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধদের একজন।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিবেশী আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সভাপতি নাছির উদ্দিন।
তিনি জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনায় দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন।
এর মধ্যে ছয়জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের একজন আবু তাহের।
চট্টগ্রামে তার অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যান।
রোববার দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি স্বজনরা জানান। মরদেহ কক্সবাজারে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন জানান, আগুনে দগ্ধ একজনের ঢাকায় মৃত্যুর বিষয়টি জানা গেছে।
মরদেহ কক্সবাজারে আসার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়।
এ সময় পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আবার আগুন ধরে যায়।
বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িসহ নানা প্রতিষ্ঠানে। আগুনে ৩০টির মতো গাড়ি, চারটি বাড়িসহ নানা অবকাঠামো পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
আগুনে দগ্ধসহ আহত হন ১৫ জন। এর মধ্যে ৬ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ এস খালেদ জানিয়েছিলেন, গ্যাস পাম্পে অগ্নিকাণ্ডে যেখানে চিকিৎসাধীন ছয়জনের মধ্যে আবু তাহের ৯০ শতাংশ, রহিম ৫০ শতাংশ, সিরাজ ৪০ শতাংশ, সাকিব ৩০ শতাংশ, মেহেদি আর মোতাহের ২০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছে।
আগুনের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) কে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মো: শাহিদুল আলম। কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।













