মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পেকুয়ার থানার সিসিটিভি ফুটেজ ও যাবতীয় তথ্যসহ ওসিকে আদালতে তলব

🗓 মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

👁️ ১০ বার দেখা হয়েছে

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া :: জেলা জুড়ে আলোচিত কক্সবাজারের পেকুয়ার থানায় মা-মেয়েকে মারধর করার পর মোবাইল কোর্টে সাজা দিয়ে আদালতে পাঠানোর ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলমকে তলব করেছে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

গত সোমবার (৯ মার্চ) কক্সবাজার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম এক আদেশে এই নির্দেশ দেন।

এই আদেশে ওসিকে আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার বিকেলে পেকুয়া থানায় এসআই পল্লব কুমার ঘোষ থেকে ঘুষের টাকা ফেরত চাইতে গেলে মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) ও তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগমকে (২১) নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

পরে ওই দিন থানার ভেতরেই ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) বসিয়ে দুজনকে এক মাস করে সাজা দেন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলম।

এরপর মা-মেয়েকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সেই সাজা বাতিল করে মা-মেয়েকে বেকসুর খালাস দেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো.শাহিদুল আলমের আদালত।

গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে আপিল শুনানি শেষে আদালত ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই সাজা বাতিল করেন।

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে এদিন রাতে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন মা ও মেয়ে। এ সময় আঘাতের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান তারা।

আত্মীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, জুবাইদার জন্মের পর রেহেনা ও তাঁর স্বামীর বিচ্ছেদ হয়।

২০১৩ সালে ২৩ মে জুবাইদার বাবার মৃত্যু হলে সম্পত্তির ভাগের জন্য চাচা ও ফুফুদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কিন্তু তাঁরা জুবাইদাকে অস্বীকার করেন।

বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেন জুবাইদা। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয় পেকুয়া থানাকে। মামলার তদন্তভার যায় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লব কুমার ঘোষের কাছে।

আত্মীয়দের অভিযোগ, এসআই পল্লব তদন্ত প্রতিবেদন দিতে রেহেনা ও তাঁর মেয়ে জুবাইদার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

পরে তাঁকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পরও আদালতে জুবাইদার বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন এসআই পল্লব।

এতে টাকা ফেরত চেয়ে এসআই পল্লবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন রেহেনা ও জুবাইদা।

তবে টাকা ফেরত না দেওয়ায় গত ১৩ জানুয়ারি এ বিষয়ে তাঁরা কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

রেহেনার অভিযোগ, ‘টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে বুধবার আমাদের থানায় ডেকেছিল পুলিশ। আমি ও আমার মেয়ে থানায় গেলে পুলিশ আমাদের প্রচন্ড মারধর করে।

মারধরের পর থানায় ইউএনও আসেন। আমরা তাঁকে পুলিশের নির্যাতনের কথা বলি। তখন আমরা মনে করেছিলাম, ইউএনও স্যার আমাদের রক্ষা করতে এসেছেন।

কিন্তু উনি আমাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দেখার পরও কিছু না বলে উপরে ওসির রুমে চলে যান। ঘণ্টা দেড়েক পর সেখান থেকে নেমে যে যার মতো তাঁরা (ইউএনও-ওসি) চলে যান।

এরপর পুলিশ আমাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে বলে একটি কালো গাড়িতে তুলে নিয়ে কারাগাওে রেখে দিয়ে আসেন।

এসব ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর আমলে নেন আদালত। আদালতের আদেশে বলা হয়, ‘ঘটনার প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ বিবরণ, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গৃহীত আইনগত ব্যবস্থা, থানায় রুজুকৃত জিডি বা মামলা, অভিযুক্তদের আটক করার কারণ এবং পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ১৬ মার্চের মধ্যে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।

ব্যাখ্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জিডি বা মামলা, আটকসংক্রান্ত নথি, ডিউটি রোস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য কাগজপত্রের সত্যায়িত অনুলিপি সংযুক্ত করারও নির্দেশ দেওয়া হলো।’

বিষয়টি নিশ্চিত করে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির এম এ ই শাহজাহান নূরী বলেন, ‘মা-মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় গতকাল আদালত স্ব:প্রণোদিত হয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিভাগ এর আরো খবর

অর্জুনের পর আবার প্রেম মালাইকার

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর