মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দিল ইরান

🗓 বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

👁️ ৭০ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

👁️ ৭০ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

বুধবার (১১ মার্চ) দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দানিয়ামালি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী নিহত হওয়ার পর এই পদক্ষেপ নিলো তেহরান।

ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দানিয়ামালি কড়া ভাষায় বলেন, যে দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, তাদের মাটিতে কোনো অবস্থাতেই আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।

আমাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা সেখানে নেই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ফুটবল খেলার মতো কোনো পরিবেশও অবশিষ্ট নেই।

তিনি আরও যোগ করেন, বিগত আট-নয় মাসে তারা আমাদের ওপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং আমাদের হাজার হাজার মানুষকে শহীদ করেছে। এমন অবস্থায় তাদের আয়োজিত কোনো আসরে উপস্থিত থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সম্প্রতি জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অংশগ্রহণের ব্যাপারে ইতিবাচক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইনফান্তিনো লিখেছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানি দল যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে আসলে তাদের স্বাগত জানানো হবে।

তবে ট্রাম্পের এই ‘স্বাগত’ জানানোর বিষয়টি ইরান সরকার প্রত্যাখ্যান করেছে। এর আগে ট্রাম্প এক বক্তব্যে বলেছিলেন যে, ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিল কি না, তাতে তার কিছুই যায় আসে না।

জানা যায়, ইরানের গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, বেলজিয়াম এবং মিশরের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। ম্যাচগুলো ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউড এবং সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

এমনকি টুর্নামেন্টের সমীকরণ মিলে গেলে ৩ জুলাই ডালাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

ফিফার চিফ অপারেটিং অফিসার হেইমো শিরগি জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বকাপ স্থগিত করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আশা করি যারা কোয়ালিফাই করেছে তারা সবাই অংশ নেবে।

ইরান সরে গেলে বিশ্বকাপে খেলবে কারা

 বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর মাত্র মাস তিনেক বাকি থাকতে তাদের জায়গায় এখন নতুন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা’র পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি এখনও।

তবে ভীষণ জটিল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ফিফার কর্তাদের অবশ্যই এখনই ইরানের সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবতে হবে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে অতর্কিত হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।

ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তা প্রাণ হারান। সেই থেকে প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলসহ আশেপাশে দেশগুলোয় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ থামার কোনো আভাস এখনও মেলেনি। মূলত এই সংঘাত শুরুর পর থেকেই আগামী জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় জাগতে শুরু করে। অবশ্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যেন আশায় আছেন, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেবে ইরান জাতীয় দল।

তিনি বুধবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, বিশ্বকাপে ইরান দলকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে দিন শেষে যদি ইতিবাচক কিছু না ঘটে, ইরান সত্যিই যদি সরে দাঁড়ায় বিশ্বকাপ থেকে, তাহলে কী হবে? আধুনিক ফুটবলে এমন কোনো ঘটনার উদাহরণ নেই, তাই উত্তর পাওয়া মুশকিল। ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরির পরিচালক জেমস কিচিং রয়টার্সকে বলেন ‘ফুটবলের আধুনিক যুগে এমন ঘটনার নজির নেই।

ফিফার টুর্নামেন্ট আইন অনুযায়ী, কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে সংস্থাটির। এর অর্থ হলো, উদাহরণস্বরূপ কোনো দল সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় একই কনফেডারেশন থেকেই আরেক দল আনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আবার এমনও নয় যে, তৈরি হওয়া শূন্যতা পূরণ করতেই হবে।’

কিচিংয়ের মতে, কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিলে ওই দেশের ফুটবল সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে ফিফা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান বিশ্বকাপ না খেললেও, ফিফা তাদেরকে কোনো শাস্তি দেবে না বলেই মনে করেন সাবেক এই ফুটবল কর্মকর্তা।

গত বছর এশিয়া অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বাধা উতরে টানা চতুর্থবারের মতো মূল পর্বে জায়গা করে নেয় ইরান। আগামী ১৫ জুন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর কথা তাদের। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিশর। এখন তারা যদি সত্যিই না খেলে ৪৮ দলের বিশ্বকাপে, তাহলে সেই শূন্যতা পূরণে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এই মহাদেশ থেকেই নতুন আরেকটি দলকে আনা উচিত বলে ধারণা অনেকের।

ফিফার আইনে এ বিষয়ে বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, এটাই যৌক্তিক মনে করেন অনেকে। সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে দুটি নাম- ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। এই মাসের শেষ সপ্তাহে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলবে ইরাক। আর গত বছর নভেম্বরে এশিয়া অঞ্চলের বাছাইয়ে এলিমিনেটর রাউন্ডে ইরাকের বিপক্ষে হেরেই আশা শেষ হয়ে যায় আরব আমিরাতের। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এখানে বিমান চলাচল খুব সীমিত হয়ে পড়েছে।

এই অবস্থায় ইরাক জাতীয় দলের মেক্সিকোয় ভ্রমণ করা এবং প্রস্তুতি নেওয়া খুবই কঠিন। আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের বাধা পেরিয়ে দুটি দল বিশ্বকাপে উঠবে। এর দ্বিতীয়টির সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে বলিভিয়া ও সুরিনাম। তাদের মধ্যে বিজয়ীর বিপক্ষে আগামী ৩১ মার্চ খেলবে ইরাক। ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড ফিফাকে একটা প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, তাদের ৩১শে মার্চের সম্ভাব্য ম্যাচটি আপাতত স্থগিত রাখা উচিত।

তিনি বলেন, ‘বলিভিয়া ও সুরিনামের ম্যাচটি এই মাসেই হোক এবং এরপর বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে ওই ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে আমরা খেলবো যুক্তরাষ্ট্রে- সেই ম্যাচের বিজয়ীরা থাকবে এবং পরাজিতরা বাড়ি ফিরে যাবে। আমার মতে, এতে ফিফাও সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বেশি সময় পাবে ইরানের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে। ইরান যদি সরে দাঁড়ায়, তাহলে আমরা বিশ্বকাপে খেলব এবং এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটা সুযোগ পাবে বলিভিয়া কিংবা সুরিনামের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নেওয়ার।’

এই বিভাগ এর আরো খবর

টেকনাফে একদিনে ২৭ অপরাধী আটক

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর