কক্সবাংলা রিপোর্ট :: কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মানব পাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থীর আশ্রয় নেয়ার কারণে মানব পাচার ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকার ও সমাজের সবার সক্রিয় অংশগ্রহণের ভিত্তিতে মানব পাচার প্রতিরোধ করতে হবে। এ কারণে কক্সবাজারে একটি পৃথক মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
বুধবার (১১ মার্চ) ‘জেলা পর্যায়ে মানবপাচার প্রতিরোধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, পিপি, আইনজীবী এবং সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর আর্থিক সহায়তা এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডাব্লিওএলএ) এর কারিগরি সহায়তায় কক্সবাজার জেলা জজ ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর।
পরে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন,কক্সবাজারে বর্তমানে ৫৩৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। মানব পাচার নিয়ে বিগত সময়ে বিপুলসংখ্যক মামলা হলেও সেগুলোর বিপরীতে সাজাপ্রাপ্তির হার নগণ্য। এমনকি মানব পাচারের অভিযোগে যাদের গ্রেফতার করা হয়, পরবর্তী সময়ে তারা জামিন নিয়ে পুনরায় সে কাজই অব্যাহত রাখেন। বছরের পর বছর ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি অভিবাসন খাতকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
মানব পাচার মামলা নিষ্পত্তির হার খুব কম হওয়া পাচারকারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে দিন দিন।এ ছাড়া সংঘবদ্ধ পাচারচক্র নিশ্চিহ্ন করতে হলে দেশে শক্ত আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে।তবে দারিদ্রতা দুর করতে না পারলে মানব পাচার বন্ধ করা সম্ভব নয়।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আবু হানিফ, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সিদ্দিক, কক্সবাজারের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আখতার উদ্দিন হেলালী, পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পিপি অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু, লিগ্যাল এইড এর প্যানেল আইনজীবী অ্যাডভোকেট তৌহিদুল এহেসান প্রমুখ।
সভায় বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য রাখেন, বিএনডাব্লিওএলএ এর কেইস ম্যানেজমেন্ট কোঅর্ডিনেটর শাফায়াত বিন কামাল, আইওএম এর কাউন্টার ট্রাফিকিং এসোসিয়েট মো: মোস্তফা আরাফ এবং আইওএম এর ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সারা সাদিয়া ইসরাত ও বিএনডাব্লিওএলএ এর প্যানেল ল’ইয়ার অ্যাডভোকেট বিশ্বজিৎ ভৌমিক।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া বেগম, কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী, এপিবিএন এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সিনিয়র সিভিল জজ বেলাল উদ্দিন, সিনিয়র সিভিল জজ রুহুল আমিন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস, কোর্ট ইন্সপেক্টর শাহা আলম প্রমুখ।














