কক্সবাংলা ডটকম(১০ মার্চ) :: অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্দা ওঠে অমর একুশে বইমেলার। প্রতি বছর মাসব্যাপী হলেও এবার বইমেলা নেমে আসে মাত্র ১৮ দিনে।
এছাড়া রোজা, ইফতার, তারাবি নামাজ আর মার্চের গরমের কারণে মেলা প্রাঙ্গণে নেই চিরচেনা সেই কোলাহল।
ফলে বেশির ভাগ বড় প্রকাশনীর বিক্রি কমেছে ৮০ শতাংশের বেশি। এছাড়া মাঝারি ও ছোট প্রকাশনীগুলো স্টল ডেকোরেশনসহ দৈনিক খরচ তুলে আনা নিয়েই শঙ্কায় রয়েছে।
গতকাল ছিল বইমেলার ১৩তম দিন। ১৫ মার্চ মেলার শেষ দিন ধরে আর বাকি পাঁচদিন।
১৮ দিনের মধ্যে ১৩ দিন শেষে প্রকাশকরা জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এ বছর তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্য কমেছে। এমনকি বড় অনেক প্রতিষ্ঠানের বিক্রি লাখ টাকাও ছুঁতে পারেনি।
বইমেলায় এখন পর্যন্ত তুলনামূলক ভালো বিক্রি করেছে প্রথমা প্রকাশন।
সূত্র জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি ৯ মার্চ পর্যন্ত মোট ১০ লাখ টাকার বেশি বই বিক্রি করেছে। গত বছর যা ছিল ৬০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রি কমেছে প্রায় ৮৪ শতাংশ।
প্রথমার কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী কয়েকদিনে ভালো বিক্রির প্রত্যাশা আছে তাদের। তবে কোনোভাবেই গতবারের কাছাকাছি যাবে না।
গত কয়েকদিনে ৯ লাখ টাকার মতো বই বিক্রি করেছে কথা প্রকাশ। প্রতিষ্ঠানটির বইমেলা ইনচার্জ শেখ এএম ইউনূস বলেন, ‘গত বছর আমরা ২৬ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছি। এ বছর বিক্রি ৯ লাখ ছাড়িয়েছে। তবে বাকি দিনগুলোয় বিক্রি বাড়তে পারে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এবার মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড় কম। কিন্তু প্রকৃত পাঠকরা মেলায় আসছেন। বৈরী সময়, প্রতিকূল পরিবেশেও একশ্রেণীর পাঠক আসছেন, বই কিনছেন।
এটি আমাদের জন্য অনেক বড় আশার আলো। আশা করছি, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী বছর আমাদের ঘাটতি পুষিয়ে নেয়া যাবে।’
চলতি বছর বইমেলার আয়োজন নিয়ে বেশ দ্বিধাদ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে হওয়ায় মেলা আয়োজন এপ্রিলে বা রোজার ঈদের পরে করার দাবি জানায় প্রকাশকদের একাংশ।
অন্যদিকে ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য ফেব্রুয়ারিতেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে প্রকাশকদের আরেক পক্ষ। নানা দোলচালে প্রথমে সিদ্ধান্ত হয় ২১ ফেব্রুয়ারি মেলা শুরু হবে। তারপর ২৬ ফেব্রুয়ারি তা শুরু হয়। পরে বাকিরাও মেলায় অংশ নেয়।
আদর্শ প্রকাশনী গত বছর ৩০ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে। এ বছর তারা মাত্র দুই লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মহিম সন্ন্যাসী বলেন, ‘গত বছর যে বইমেলা খুব ভালো হয়েছে তা নয়। গতবার সরকার পতনের পর সবকিছু বিশৃঙ্খল ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বইমেলার আয়োজন হয়। কোনো রকম আমরা মেলা করি। এবার পরিস্থিতি আরো খারাপ।’
গত বছর ৩৫ লাখ টাকার ব্যবসা করেছিল অবসর প্রকাশনী। এ বছরের ৯ মার্চ পর্যন্ত তা ১ লাখ পঞ্চাশ হাজারে নেমে এসেছে।
দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) এ বছর বিক্রি করেছে ৬ লাখ টাকার বই। গত বছর যা ছিল ৩০ লাখ টাকা। গত বছর ৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করা আহমদ পাবলিশিং হাউজের বিক্রি এ বছর ৮০ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।
জিনিয়াস পাবলিকেশন্স এ বছর ৭০ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে। গত বছর যা ছিল ১৫ লাখ টাকা। গত বছর ১০ লাখ টাকার বই বিক্রি করা দিব্যপ্রকাশ এবার এখন পর্যন্ত মাত্র ৮০ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে।
মেলা শুরুর দিন থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত নালন্দা ৮০ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে, গত বছর যা ছিল ১৩ লাখ টাকা। গত বছর ২৭ লাখ টাকা বিক্রি করা কাকলী এ বছর ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে।
এছাড়া গত বছর ১২ লাখ টাকা বিক্রি করা সময় প্রকাশন এ বছর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, ‘আমাদের বিক্রির অবস্থা খুবই খারাপ। অনেক প্রকাশনী আছে তারা স্টল নির্মাণের খরচও তুলতে পারবে না। যদিও বাংলা একাডেমি আমাদের থেকে স্টল ভাড়া নিচ্ছে না।
কিন্তু তা নির্মাণের জন্য আমাদের এক-দেড় লাখ টাকা লেগেছে। তার পরও প্রতিদিন দোকানের একটি খরচ আছে। বিক্রয়কর্মীদের বেতন আছে।
এসব খরচও উঠবে না অনেক প্রকাশনীর। আমরা আসলে সরকারের অনুরোধ রক্ষায় এবার মেলা করছি। সামনের দিনগুলোতে কী হয় সে অপেক্ষায় আছি আমরা।’
তবে তুলনামুলক ভালো বিক্রির কথা জানিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এ বছর তাদের বিক্রি গতবারের তুলনায় মাত্র ৩০ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে বিক্রির পরিবেশ তাদের জন্য ভালো।
এছাড়া অন্য প্রকশনীর সিরাজুল কবির কোমল বলেন, ‘এবার বিক্রি কম হবে তা আগেই ধারণা করেছিলাম। অন্যান্য বার আমাদের প্যাভিলিয়ন থাকে। এবার প্যাভিলিয়ন নেই।
গত ১৩ দিনে যা বিক্রি হয়েছে অন্যান্য সময়ে তা একদিনেই বিক্রি হতো। তার পরও আমরা এবার ভালো বিক্রি করছি। বিশেষ করে কিছু পরিচিত লেখকদের বই এসেছে। আমাদের বিক্রি তুলনামূলক ভালো হচ্ছে।’













