রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীতে মিষ্টি পানের দাম তলানীতে : দিশেহারা চাষিরা

🗓 শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

👁️ ২৪ বার দেখা হয়েছে

সরওয়ার কামাল মহেশখালী :: দেশের এক মাত্র পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালীর মিষ্টি পানে এখন সোনাফলে।

কিন্তু সাদাসোনাখ্যাত লবণের নায্যামূল্য অনেক আগে থেকে পাচ্ছেনা প্রান্তিক চাষীরা।

এরই মধ্যে পড়ে গেছে পানের দামও। কৃষককুল এখন দিশেহারা হয়ে জীবিকার তাগিদে মানবতার জীবন-যাপন করছেন।

এদিকে পান স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের মাঝে স্থান দখল করে নিচ্ছে দিন দিন। ফলে এখানকার মিষ্টি পান এক প্রকার এখন সোনার হরিণ।

এছাড়া পান চাষিরা এক ঝুঁড়ি পান বিক্রি করে মূল্যে পেয়েছে লাখ টাকারও বেশি। তাই পান চাষে জড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন পেশার সাথে জড়িত লোকজন।

তবে সে পানের দামে ধস পড়ে তলানীতে এখন। আগের মত এক ঝুঁড়ি পানে লাখ টাকা পাইনা কৃষক কুল।

আর একদিকে বর্ষা মৌসুমের ক্ষতি অন্যদিকে মূল্যহ্রাস, ফলে ইতিহাসের ভয়াবহতম মূল্যধসে পড়েছে মহেশখালীর মিষ্টি পান।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যে পান বিরা প্রতি বিক্রি হয়েছে ৫০০ টাকা বিক্রি হয়েছে, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়।

উৎপাদন খরচ না উঠায় চাষিরা পড়েছেন চরম লোকসানে। মৌসুমের মাঝপথেই অনেক চাষি বরজ তুলে নিচ্ছেন, কেউ কেউ পান ফেলে দিচ্ছেন ক্ষেতেই।

সংসার চালানো তো দূরের কথা, ধারদেনা করে বিনিয়োগ করা অর্থও উঠছে না।

বহু চাষির পরিবারে চলছে অনাহার, সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্বীপের এই ঐতিহ্যবাহী কৃষিজ অর্থনীতি এখন ধসে পড়ার পথে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়- উপজেলার, হোয়ানক, কালারমারছড়া, বড় মহেশখালী ও শাপলাপুর- এই চারটি ইউনিয়নের সমতল জমিতে এবার মৌসুমী পান চাষে নতুন বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষকরা।

গত বছরের ভালো দামের আশায় প্রায় ১৪শ হেক্টর জমিতে ৮ হাজারের বেশি পান বরজ গড়ে তুলেছেন অন্তত ১৩ হাজার চাষি।

তাদের প্রত্যেকেই চাষ করেছেন ধারদেনা করে। বরজে বাঁশ, পলিথিন, চারা, সার ও শ্রমিকের ব্যয় মিলে প্রতি বরজে গড়ে খরচ হয়েছে ৭০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা।

এখন বাজারে প্রতি বিরা পানের দাম যেখানে ২০০-২৫০ টাকা, সেখানে উৎপাদন খরচ তোলা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। চাষিরা পড়েছেন মারাত্মক দুশ্চিন্তায়।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর