কক্সবাংলা ডটকম :: বিনিয়োগের নিরাপদ ঠিকানা বলতে প্রথমেই মনে আসে সোনা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) বদলে যাওয়া অবস্থান ও হঠাৎ সিদ্ধান্ত বাজারে নতুন দোলাচল তৈরি করেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যেই ওঠানামা করছে আন্তর্জাতিক বাজার (Global Market)।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই অবস্থায় সোনা কি এখনও ভরসার জায়গা, নাকি অদৃশ্য কোনও ফাঁদ তৈরি হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য?
একটানা ন’দিন পতনের পর হঠাৎই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম চড়ল। প্রতি আউন্স সোনা ৪ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে উঠে এক ধাক্কায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইরান শান্তি-আলোচনার সম্ভাব্য ইঙ্গিত বাজারে নতুন আশা জাগিয়েছে, সেই কারণেই এই তীব্র উত্থান।
কীসে বদলাল বাজারের মুড?
শুরুটা আসে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) জানান, ইরান নাকি আমেরিকাকে একটি ‘উপহার’ দিয়েছে যা হরমুজ প্রণালী (Hormuz Pronali) ঘিরে চলমান সঙ্কটে আলোচনার দরজা খুলে দিতে পারে।
এতেই বাজারে জল্পনা, দুই দেশের মধ্যে শান্তি-আলোচনা বৃহস্পতিবারই শুরু হতে পারে। যদিও তেহরান এখনও এই বিষয়ে কিছু বলেনি।
শেয়ারবাজারে কেন এতো উত্থান?
টানা নয় দিন ধরে বিক্রি চলার পর হঠাৎই ট্রেডাররা নিজেদের অবস্থান বদলাতে শুরু করেছেন। যুদ্ধের ভয় কমে গিয়ে শান্তির আশা তৈরি হওয়ায় বাজারে দোলাচল দেখা দিয়েছে।
অনেকেই আগে যে শর্ট পজিশন নিয়েছিলেন, এখন দ্রুত তা বন্ধ করতে চাইছেন।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে,
- ইরানে অবকাঠামোর ওপর হামলা কমার খবর,
- তেলের দাম আর তেমন বাড়বে না, এই আশা,
- ডলারের চাপ কমতে পারে, এমন প্রত্যাশা।
তবুও চাপ রয়ে গেছে
এখনও পর্যন্ত সোনা বছরের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ২০ শতাংশ নীচে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে প্রতি আউন্স সোনা ছিল ৫ হাজার ৬২৬ ডলার, যা থেকে বাজার অনেকটাই পিছিয়ে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, “এটি বিশাল দোলাচল। হেডলাইন-চালিত বাজারে এমনটাই হয়।” তারা মনে করছেন, এটি বিশ্বাসের উত্থান নয়, বরং আতঙ্ক কমার প্রতিক্রিয়া।
নবীনের মতে, সোনার দামে বড় চাপ তৈরি হয়েছে। ৪ হাজার ৬০০ ডলারের উপরে ওঠে স্থির হতে পারলে বাজার আবার শক্তি পেতে পারে।
কিন্তু যদি তা না হয়, তাহলে দাম নেমে গিয়ে ৪ হাজার ১০০ ডলারের কাছেও চলে আসতে পারে।
সোনা কি তবে নিরাপদ সম্পদ হিসাবে দুর্বল হচ্ছে?
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, “বাজারে পতন শুরু হলে সোনার আচরণ অনেক সময় অদ্ভুত মনে হয়। কিন্তু এটা স্বাভাবিক। নগদ দরকার হলে বিনিয়োগকারীরা সবার আগে সোনাই বিক্রি করেন।” এছাড়াও,
- যুদ্ধ বা অস্থিরতা বাড়লেই সোনার দাম বাড়বে, এই নিয়ম সবসময় ঠিক নয়।
- তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, তার সঙ্গে উঁচু সুদের হার দীর্ঘদিন ধরে থাকে।
- এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, যা সোনার দামের ওপর চাপ ফেলে।














