শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলবে বাংলাদেশের জাহাজ

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ২৩ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৬ মার্চ) :: ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মাঝে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি দেশের বড় কূটনৈতিক বিজয় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াতের অনুমতি পাবে এমন কয়েকটি বন্ধু দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই প্রণালি বাংলাদেশসহ ৬টি দেশের জন্য খোলা থাকবে।

বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হওয়া পারস্য উপসাগরের এই সরু প্রবেশপথটি গত মাসে ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলসহ ‘শত্রু’ দেশের জন্য অবরোধ করে রেখেছে ইরান। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী এই প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ নয়।

আল জাজিরা বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদিও প্রতিদিন অল্প সংখ্যক জাহাজ প্রণালিটি দিয়ে যাতায়াত করছে, তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগের তুলনায় এই চলাচল এখনও নগণ্য। এই জলপথ দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচলের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কারণে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ‘অশত্রুভাবাপন্ন’ জাহাজ চলাচল করতে পারবে বলে ইরান জানিয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশন মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, জাহাজগুলো এই জলপথ দিয়ে “নিরাপদ যাতায়াত”করতে পারবে, “তবে শর্ত হচ্ছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বা সমর্থন করবে না এবং ঘোষিত নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিধিমালা সম্পূর্ণরূপে মেনে চলবে।”

রয়টার্সকে বুধবার দেওয়া ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির এক সাক্ষাৎকারের বক্তব্য তুলে ধরেছে এনডিটিভি। সেখানে আরাগচি বলেন, “অনেক জাহাজ মালিক বা জাহাজ পরিচালনাকারী দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং প্রণালি দিয়ে তাদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি বা অন্য কোনো কারণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেখানে (হরমুজ প্রণালি) আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

“আপনারা খবরে দেখেছেন— চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারত। কয়েক রাত আগে ভারতের দুটি জাহাজ এখান দিয়ে পার হয়েছে, এছাড়া আরও কিছু দেশ এবং আমি বিশ্বাস করি এমনকি বাংলাদেশও এই তালিকায় আছে। এই দেশগুলো আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে ও সমন্বয় করেছে এবং যুদ্ধের পরেও ভবিষ্যতেও এটি অব্যাহত থাকবে।”

শত্রু দেশকে ‘না’

আরাগচি এও ইঙ্গিত দিয়েছেন, শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত বা চলমান যুদ্ধে জড়িত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত কোনো জাহাজকে এখান দিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও বর্তমান সংকটে ভূমিকা রাখা নির্দিষ্ট কিছু উপসাগরীয় দেশের জাহাজকে এই প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। এই অঞ্চলটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র এবং আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজকে এখান দিয়ে যেতে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলাই থাকছে।”

এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ইরান পাকিস্তানগামী একটি কন্টেইনার জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে বাধা দিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির দিকে রওনা হওয়া ‘সেলেন’ নামের জাহাজটিকে ট্রানজিট অনুমতির অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের প্রবেশমুখ থেকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।

ইরান ড্রোন ও মিসাইল হামলার মাধ্যমে এই প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এই পথটি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে বিমান সংস্থা থেকে শুরু করে সুপারমার্কেট ও পুরোনো গাড়ি বিক্রেতারা ক্রমবর্ধমান ব্যয়, চাহিদা হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মতো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। কোনো কোনো সরকার কোভিড মহামারির সময় নেওয়া ব্যবস্থার মতো নতুন সহায়তা প্যাকেজের কথা ভাবছে।

জাহাজ চলাচল কম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ তেহরানকে পুরো অঞ্চলজুড়ে পাল্টা হামলা চালাতে ও প্রণালির প্রবেশপথ ব্যাপকভাবে সংকুচিত করতে প্ররোচিত করেছে। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে দৈনিক জ্বালানি সরবরাহ ৯৫ শতাংশ কমে গেছে।

শিপিং ইন্ডাস্ট্রি ইন্টেলিজেন্স সাইট লয়েডস লিস্ট অনুযায়ী, এই পথে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১২০টি জাহাজ পার হয়। তবে অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের তথ্যমতে, ১ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পণ্যবাহী জাহাজগুলো মাত্র ১৫৫ বার এই পথ অতিক্রম করেছে, যা ৯৫ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার সমান। এর মধ্যে ৯৯টি ছিল তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাঙ্কার এবং এগুলোর বেশিরভাগই প্রণালি দিয়ে পূর্ব দিকে যাচ্ছিল। বুধবার মাত্র দুটি জাহাজকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে দেখা গেছে, যেগুলোর উভয়ই পশ্চিম দিকে যাচ্ছিল।

বিশ্ববাজার

কিছু বিশ্লেষক পূর্বাভাস দিচ্ছেন, জলপথটি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ বা এমনকি ২০০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। মার্চ মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে থাকার পর, আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বুধবার ৯ শতাংশের বেশি কমে গেছে। কারণ, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এবং ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের কাছে একটি ১৫-দফা পরিকল্পনা পাঠিয়েছে।

সংঘাত অবসানের আশার মধ্যে বুধবার এশিয়ার প্রধান শেয়ার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে লেনদেন শুরু করলেও যুদ্ধবিরতি নিয়ে বাড়তে থাকা সংশয় এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৃহস্পতিবার সেখানে বড় পতন দেখা গেছে। এদিন বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজার ও বন্ডের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা একটি স্থায়ী সমাধানের আশায় থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপড়েন বাজারকে নেতিবাচক দিকে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় উৎপাদন খরচ বাড়ার ভয়ে বড় বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কমছে, পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বন্ডের বাজারমূল্যও নিম্নমুখী হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এবং ইরানের পাল্টা কঠোর শর্তের মারপ্যাঁচে বিনিয়োগকারীরা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন, যার ফলে নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে অনেকেই শেয়ার বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

 

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর