কক্সবাংলা ডটকম(২৭ মার্চ) :: বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে চলাচলকারী লাইটার জাহাজে।
পর্যাপ্ত ডিজ়েল না পাওয়ায় বন্দরের ডকে থাকা মাদার ভেসেল (বড় জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস ও গন্তব্যে পৌঁছনো ব্যাহত হচ্ছে।
এর ফলে সব চেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি।
জ্বালানির অভাবে কয়লা পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশের কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ফের বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত।
অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় দফায় আরও ৫ হাজার টন ডিজ়েল পাঠাচ্ছে ভারত।
শুক্রবার দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোয় এই জ্বালানি পৌঁছবে। এর আগে গত ১৩ মার্চ প্রথম দফায় পাঁচ হাজার টন ডিজ়েল পাঠিয়েছিল ভারত।
পার্বতীপুর ডিপো সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার বিকেল থেকেই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজ়েল পাম্পিং শুরু হয়েছে নুমালিগড় রিফাইনারিতে।
৬০ ঘণ্টার মধ্যে তা পার্বতীপুর ডিপোর সংরক্ষণাগারে পৌঁছনোর কথা।
ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব জানিয়েছেন, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে নিয়মিত ভাবে ডিজ়েল সরবরাহ চলছে এবং নির্ধারিত সময়েই তা পৌঁছবে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রের খবর, বন্দরের আউট ডকে বর্তমানে ৭০টির বেশি মাদার ভেসেল পণ্য খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে।
এ সব জাহাজ থেকে পণ্য খালাস করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে প্রতিদিন প্রায় ১১০০ লাইটার জাহাজ কাজ করে।
প্রতিদিন গড়ে ৯০ থেকে ১০০টি জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হয়।
এই কাজ সচল রাখতে দৈনিক আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজ়েলের প্রয়োজন হলেও বর্তমানে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার লিটার।
বর্তমানে দেশে সচল ছ’টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে মাতারবাড়ি ছাড়া সব ক’টিতেই লাইটার জাহাজে কয়লা সরবরাহ করা হয়।
মাসে প্রায় সাড়ে আট লাখ টন কয়লা পরিবহণে ৪০০ থেকে ৪২০টি লাইটার জাহাজের প্রয়োজন হয়।
কিন্তু জ্বালানি সঙ্কটে এই সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার পথে। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত তেল না থাকায় জাহাজগুলি বসে রয়েছে।













