শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭ ফাল্গুন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাতিল হচ্ছে সদ্য সমাপ্ত গণভোট!

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

👁️ ৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(২৭ মার্চ) :: নির্বাচন-পরবর্তী সরকার সংবিধানকে সমুন্নত রাখতে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে সদ্য সমাপ্ত গণভোট বাতিল হওয়ার শঙ্কা দেখা গেছে।

এ সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি সংশোধন বা সংসদে না ওঠানোর বিষয়ে সরকারি দলের ভেতরে সম্মতি থাকলেও বাদ সাধছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে তারা এই অধ্যাদেশ বাতিলে আপত্তি জানিয়েছে।

আগামী ২৯ মার্চ রবিবার বিশেষ কমিটির মুলতবি বৈঠকে গণভোট সম্পর্কিত অধ্যাদেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

জানা যায়, সেখানে এই অধ্যাদেশটি সংশোধন করা হবে, না কি আদৌ সংসদে উত্থাপন করা হবে নাÑ সে সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এই অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারি দলের সদস্যরা অধ্যাদেশটিতে সংশোধনী আনতে অথবা অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তবে ওই বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। অধ্যাদেশটি সংসদে উত্থাপন করা না হলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।

বৈঠকের একটি সূত্র জানিয়েছে, গণভোট ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশেও বিএনপি পরিবর্তন আনতে চাইছে। অন্যদিকে অধ্যাদেশে পরিবর্তন বা আলোচনার জন্য সংসদে উত্থাপনের দাবি জামায়াতের।

তারা বলেছে, সংসদে উত্থাপন না করার মাধ্যমে এসব অধ্যাদেশ বাতিল করতে চাইছে সরকারি দল। যার মাধ্যমে সরকার আগের মতো প্রধানমন্ত্রীর হাতে একচ্ছত্র ক্ষমতা রাখতে চায়, যা জুলাই সনদের লঙ্ঘন।

প্রসঙ্গত, ১৪ সদস্যের ওই বিশেষ কমিটিতে জামায়াতের সদস্য মাত্র তিনজন। তাই তাদের আপত্তিগুলো ধোপে টিকছে না।

রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের ৪৮টিতে রয়েছে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাব। গত সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে রাজনৈতিক দলগুলোর তৃতীয় দফার সংলাপে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ছয়টি পদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়েছিল।

সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের মতামতে, সনদ বাস্তবায়নে আদেশ জারি এবং আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করে সাবেক ঐকমত্য কমিশন। বিএনপি ওই সময় গণভোটে একমত হলেও সংবিধানে নেই– যুক্তিতে আদেশ জারির বিপক্ষে ছিল।

গত ১৩ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের অনুমোদনে রাষ্ট্রপতি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন। ২৫ নভেম্বর জারি করা হয় গণভোট অধ্যাদেশ। ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিনে আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

গণভোট অধ্যাদেশে বলা হয়েছিল, হ্যাঁ জয়ী হলে ত্রয়োদশ সংসদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করবে। নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে ১৮০ কার্যদিবস মেয়াদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।

এ পরিষদ গণভোটের ফল অনুযায়ীÑ তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল এবং দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের বিধান সংবিধানে যুক্ত করবে।

ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা দিয়ে ১০০ আসনের উচ্চকক্ষ গঠন করবে। এসব ছাড়াও জুলাই সনদের যে ৩০ সংস্কার প্রস্তাবে সব দলের ঐকমত্য হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন করবে।

নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি। দলটি জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন পদ্ধতি, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠন, দুদক এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পদ্ধতিতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল।

সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায়। আর সেটা করতে গেলে গণভোট অধ্যাদেশের পাস না হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল।

বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন বলেন, ‘গণভোট অধ্যাদেশ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আমাদের দলের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, সংবিধান ও জুলাই সনদের আলোকে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে।

গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পর্যায়ে আলোচনা হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের পক্ষ থেকে গণভোট অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাব করা হয়নি, আবার রাখার প্রস্তাবও করা হয়নি। এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে এবং তা সংবিধানের আলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ সংবিধান সবার ঊর্ধ্বে।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গণভোট অধ্যাদেশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, যে আদেশের ওপর গণভোট হয়েছে, তা ছিল এখতিয়ারবহির্ভূত। সুতরাং অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা যাবে না। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানানো হয়েছে।

বিরোধী দলের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে আমরা আপত্তি জানিয়েছি।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশেও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে এখনও আলোচনা হয়নি।’

তার মতে, ‘গণভোট হয়ে গেছে। এখন অধ্যাদেশ সংশোধনের প্রয়োজন নেই। আর ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণভোট হওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমে বলেছেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক ভাগ হচ্ছে অধ্যাদেশগুলো যেভাবে জারি হয়েছিল, সেভাবে পাস করা হবে। আর কিছু অধ্যাদেশে সংশোধনী আনা হবে, সেভাবে পাস হবে।

আর কিছু অধ্যাদেশ এই অধিবেশনে বাতিল হয়ে যাবে; পরে যদি প্রয়োজন হয়, তবে তা বিল আকারে পরবর্তী অধিবেশনে উত্থাপন করা যাবে। অধ্যাদেশ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ‘জুলাই সনদ’ এবং ‘সাংবিধানিকতা’– এ দুই বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। এর মধ্যে ১১৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস করাতে একমত হয়েছে সরকারি ও বিরোধী দল।

এখনও ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে একমত হতে পারেনি বিশেষ কমিটি। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে গণভোট, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ নিয়ে শেষ মুহূর্তে বিতর্ক তৈরি হতে পারে, যা সংসদ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

বাতিল হচ্ছে সদ্য সমাপ্ত গণভোট!

শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর