কক্সবাংলা ডটকম :: ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (Iran’s Power Plant) আপাতত ১০ দিন কোনও হামলা করবে না আমেরিকান সেনা (American Army)। আগে এই সময়সীমা ছিল পাঁচ দিন।
শুক্রবার ভোরে তা দশ দিন করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)।
ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘ইরানের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত।’ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে ইরানের (Iran) সরকার বলে দিল, ‘আমরা কোনও অনুরোধ করিনি। এই নিয়ে কোনও আলোচনাও হয়নি।’
ফক্স নিউজ়ের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম এই নিয়ে মুখ খুলেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ‘ইরান খুব ভদ্র ভাবে বলেছিল, আমাদের কি আরও কয়েক দিন সময় দেওয়া যায়? অন্তত সাত দিন। আমি ওদের ১০ দিন সময় দিয়েছি। কিন্তু যা করা দরকার, ওরা যদি না করে, আমি সব বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেব।’
পরে ট্রুথ সোশ্যালে একই দাবি করে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান সরকারের অনুরোধে আগামী ১০ দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কোনও হামলা করবে না আমেরিকা। এই সময়সীমা শেষ হবে সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) রাত আটটায়।’
তবে ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে ইরান সরকার। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত মধ্যস্থতাকারী মারফত ইরান সরকার বলেছে, ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা বন্ধ রাখার জন্য আমরা কোনও অনুরোধ করিনি। এই সংক্রান্ত কোনও আলোচনাই হয়নি।’
উল্লেখ্য, হরমুজ় প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এর মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সব নিশ্চিহ্ন করে দেব।’ সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার উপরে পাঁচ দিনের বিরতি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। সেই সময়েও আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছিল ইরান।
এ দিকে ১৫ পয়েন্টের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাকিস্তানের হাত দিয়ে ইরানকে পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। এই নিয়ে আমেরিকা সরাসরি মুখ না খুললেও পাকিস্তানি দুই আধিকারিক জানিয়েছিলেন, ইউএস শান্তি প্রস্তাবে ইরানের ইউরেনিয়াম সংগ্রহ বন্ধ করা, নিউক্লিয়ার বোমা তৈরির পরিকল্পনা চিরতরে নস্যাৎ করা, মিসাইল ভাণ্ডার সীমিত করা, হরমুজ় প্রণালী সব দেশের জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার মতো একাধিক শর্ত রয়েছে।
কিন্তু ইরানের ইসলামিক রিপাবলিকের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ‘যুদ্ধ যদি থামাতে হয়, তা হলে সেটা হবে ইরানের শর্তে।’ সঙ্গে ৫ দফা শর্ত দিয়েছে তেহরান। আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের আগ্রাসনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, ইরানের উপরে ভবিষ্যতে কোনও অ্যাটাক নয়, ইরানে যুদ্ধে হওয়া ক্ষতির গ্যারেন্টেড ক্ষতিপূরণ, সব আঞ্চলিক সংঘর্ষ বন্ধ এবং হরমুজ় প্রণালীতে ইরানের আইনি অধিকারকে মান্যতা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্টে ১০ দিন কোনও হামলা নয়’, সময়সীমা বাড়ালেন ট্রাম্প
গত সোমবার পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে (Power Plant) হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (American President Donald Trump)। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ দিন (Donald Trump halts Iran energy strikes) করে দিলেন তিনি।
শুক্রবার ভোরে এই খবর জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘দারুণ আলোচনা চলছে। তাই এই সিদ্ধান্ত।’ আমেরিকার প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ী, আপাতত আগামী ১০ দিন ইরানের কোনও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নতুন করে হামলা চালাবে না আমেরিকা। তবে এই সিদ্ধান্ত ‘সাময়িক’ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এ দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে হামলা ১০ দিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি লেখেন, ‘ইরান সরকারের অনুরোধে আগামী ১০ দিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে কোনও হামলা করবে না আমেরিকা। এই সময়সীমা শেষ হবে সোমবার (৬ এপ্রিল, ২০২৬) রাত আটটায়।’ তবে তার পরে ফের নতুন করে হামলা হবে কি না, তার কোনও ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।
ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলেও ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। তিনি লিখেছেন, ‘আলোচনা চলছে। আমরা খুব ভালো ভাবে এবং ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছি।’ তবে এ দিন সংবাদ মাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ‘কিছু সংবাদ মাধ্যম যুদ্ধ নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়াচ্ছে।’
তবে ১০ দিনের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় কোনও নির্দিষ্ট শর্তের উল্লেখ করেননি। তবে ‘ইরানের অনুরোধের’ প্রসঙ্গ থেকে বোঝা যায়, দুই পক্ষ সরাসরি বা পরোক্ষে কোনও সমঝোতা করতে চলেছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ় প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এর মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সব নিশ্চিহ্ন করে দেব।’ সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলার উপরে পাঁচ দিনের বিরতি ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এ বার সেই সময়সীমাই বাড়িয়ে দশ দিন করলেন। তবে আমেরিকার সঙ্গে কোনও আলোচনাই হয়নি বলে দাবি করা হচ্ছে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।













