বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহাকাশে ঘাঁটি স্থাপনে ৫০ বছর পর মনুষ্যবাহী চন্দ্র অভিযান

🗓 বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৩৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৩৪ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম :: পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পর আবার চাঁদে যাচ্ছে মানুষ। এ লক্ষ্যে আজ মনুষ্যবাহী মহাকাশযান উৎক্ষেপণের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে নাসা।

চাঁদের পৃষ্ঠে দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার এটি পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে জানিয়েছেন মিশন সংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন মহাকাশ সংস্থাটি ১০ লাখ কিলোমিটার দীর্ঘ এ যাত্রায় নভোচারীদের চাঁদ ঘুরে পৃথিবীতে ফেরা নিয়ে বেশ আশাবাদী। মানুষের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে দূরবর্তী মহাকাশ ভ্রমণ।

এর মাধ্যমে নাসা অর্টেমিস প্রোগ্রাম পুনরুজ্জীবিত করতে চায়, যা এতদিন বিভিন্ন ধরনের সন্দেহ ও বিলম্বে জর্জরিত ছিল।

সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে চার সদস্যের অর্টেমিস টু মিশন শুরু হবে যুক্তরাষ্ট্র স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে।

কেপ কানাভিরাল থেকে বিশাল স্পেস লঞ্চ সিস্টেম (এসএলএস) রকেটসহ অরিয়ন স্পেসক্রাফট মহাকাশে যাত্রা করবে।

গত কয়েক সপ্তাহে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস লিকসহ নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ কয়েকবার পিছিয়ে যায়। তবে প্রকৌশলীরা এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেছেন।

এ মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং তারা পৃথিবী থেকে আড়ালে থাকা চাঁদের অন্য পিঠ ঘুরে আসবেন। তারা চাঁদের প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার পর্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছাবেন।

এর আগে অ্যাপোলো প্রোগ্রামের নভোচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার উচ্চতায় কক্ষপথে ঘুরেছিলেন। নতুন মিশন চলাকালে চাঁদের দূরত্ব থাকবে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪ লাখ কিলোমিটার।

apollo_mission_nasa

১৯৬৯ সালে প্রথমবার চাঁদের মাটিতে পা রাখেন মানুষ। ছবি: নাসা

চাঁদ ও তার পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি এ মিশনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ঘুমের ধরনসহ নভোচারীদের স্বাস্থ্য থাকবে নজরদারিতে।

গভীর মহাকাশ ভ্রমণ মানুষের শরীর, মন ও আচরণে কী প্রভাব ফেলে তা বোঝার জন্য এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে, যা ভবিষ্যতে চাঁদ ও শেষ পর্যন্ত মঙ্গলগ্রহে মিশনে সহায়তা করবে।

আগামী বছর অর্টেমিস থ্রি পৃথিবীর কক্ষপথে মুন ল্যান্ডারের সঙ্গে ডকিং (সংযুক্তি) প্রক্রিয়া যাচাই করবে।

এরপর ২০২৮ সালে অর্টেমিস ফোর মিশনে চাঁদে অবতরণ করবেন নভোচারীরা। এরপর প্রতি বছর অন্তত একবার মানববাহী মিশন পরিচালনার লক্ষ্য রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।

তিন বছরেরও বেশি আগে প্রস্তুতিমূলক অর্টেমিস ওয়ান মিশনে এসএলএস ও অরিয়ন নভোযান চাঁদ ঘুরে আসে। এটি ছিল নভোচারীবিহীন মিশন।

নাসা সম্প্রতি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে চাঁদে ঘাঁটি নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাওয়া হবে।

প্রথমে অস্থায়ী মানব মিশনের মাধ্যমে তৈরি হবে অবকাঠামো, এরপর ধীরে ধীরে স্থায়ী মানব বসবাসের দিকে অগ্রসর হবে।

তবে চাঁদের কক্ষপথে ঘোরার জন্য পরিকল্পিত ‘লুনার গেটওয়ে’ স্পেস স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে।

নাসার চন্দ্র কর্মসূচিতে চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০৩০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।

চার সদস্যের এ মিশনে আছেন ক্রিস্টিনা কচ, যিনি সফল হলে চাঁদে পৌঁছানো প্রথম নারী হবেন। ভিক্টর গ্লোভার হবেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী।

আরো আছেন মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে অরিয়ন ক্যাপসুল ফিরতি যাত্রা শেষে ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

অসহায় নারীর জমি জবরদখল চেষ্টা

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর