কক্সবাংলা রিপোর্ট :: ভৌগলিক কারণে সমুদ্রপথে মানব পাচারের জন্য নিরাপদ রুট হচ্ছে কক্সবাজার। বিশেষ করে প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গার কারণে এটি আরও বিপজনক রুটে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গারা যথক্ষণ পর্যন্ত স্বেচ্চায় নিজ দেশে ফেরত না যাবে ততদিন মানব পাচার বন্ধ করা যাবে না। কারণ রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় মানবপাচার হচ্ছে।এজন্য তারা অর্থও দিচ্ছে পাচারকারীদের। এছাড়া তারা যদি পাচার হতে চাওয়া ভিকটিমরা আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে তাদের প্রতিপক্ষ মনে করে।
৩১ মার্চ মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে “ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসীদের সহায়তা এবং মানব পাচার প্রতিরোধ প্রকল্প” শিরোনামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম যৌথভাবে এই সভার আয়োজনে মতবিনিময় সভায় আরআরআরসি, সিআইসি, এসিআইসি, সিএমএ এবং জেলা সুরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা প্রতিনিধি, আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ( এনজিও) কর্মকর্তারা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভার প্রধান অতিথি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, মানব পাচার রুখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে’। সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই পারবে ঘৃণ্য এই অপরাধ রুখতে। পাশাপাশি পাচারের শিকারদের আইনি অধিকার নিশ্চিতে আমাদেরকে আরও উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে যাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ন্যায় বিচার পান’।
তিনি আরও বলেন- রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবপাচার রুখতে সিইসিসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তবে মানব পাচার বন্ধে জনসচেতনতার কোন বিকল্প নেই। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতিকে মানবপাচার বন্ধে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানোর জন্য ধন্যবাদ জানান।

মতবিনিময় সভায় মানব পাচারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির কেস ম্যানেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর সাফায়েত বিন কামাল। তিনি বলেন, এ প্রকল্পটি কক্সবাজারের টেকনাফ সদর,হ্নীলা, সাবরাং,হোয়াইক্যং,বাহাড়ছড়া, বড় ও ছোট মহেশখালী,কালারমারছড়া,ধলঘাটা ও মাতারবাড়িতে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের জনিুয়ারী থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাচারের শিকার ১০০ জন মহিলাকে সনাক্ত করা হয় এবং ৮৯ জনকে কৃষি সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন-কক্সবাজারের আরআরআরসি, সিআইসি, এসিআইসি, সিএমএ এবং জেলা সুরক্ষা ও আইন-শৃঙ্খলা প্রতিনিধি, আইনজীবীদের সাথে তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম চলছে।জেলায় মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের কঠোর প্রয়োগ, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
আইওএম কক্সবাজারের ‘মানব পাচার বিষয়ক সহকারী কর্মকর্তা মো: মোস্তফা আরাফ বলেন, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মানব পাচারের ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে মামলা হচ্ছে না। আদালতে মানব পাচার মামলার দীর্ঘসূত্রতার কারনে অপরাধীরা শাস্তির আওতায় আনা যাচ্ছে না। তিনি বলেন মানব পাচার কঠোরভাবে রুখতে ২০১২ সালের আইন রোহিত হয়েছে এবং নতুন করে মানবপাচার অধ্যাদেশ ২০২৬ জারী হয়েছে।

সভায় মানব পাচার বন্ধে করণীয়, মানব পাচার আইন ও মামলা তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেন,অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুলাহ বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির প্রকল্প ফিল্ড অপারেশন কো-অর্ডিনেটর প্রণব কান্তি দাশ প্রমুখ।













