দীপন বিশ্বাস :: দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিন এলাকা থেকে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া ১৪ জন বাংলাদেশি জেলে তিন দিন পর দেশে ফিরেছেন বলে জানা গেছে। ফিরে আসা জেলেরা তাদের উপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেন্টমার্টিন এলাকা থেকে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফ নদীর নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকায় তিনটি মাছ ধরার নৌকাসহ ১৪ জন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি।
পরে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে মিয়ানমারের মংডু শহরের নাইক্ষ্যংদিয়ায় অবস্থিত একটি ঘাঁটি থেকে তাদের মুক্তি দেয়া হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে তারা শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া নৌঘাট দিয়ে দেশে পৌঁছান।
ফেরত আসা জেলেরা সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া ও ডাঙ্গর পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
তাদের মধ্যে রয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), ফরিদ হোসেন (৩০), রবিউল হাসান (১৭), আবুল কালাম (৩০), মীর কাশেম আলী (৪০), গিয়াস উদ্দিন (২৫), সালাউদ্দিন (১৮), মহিউদ্দিন (২২), হোসেন আহম্মদ (৩৮), মলা কালু মিয়া (৫৫), আবু তাহের (৪০), আবদুল খালেক, জাবের মিয়া (২৪) ও রহিম উল্লাহ (২০)।
ফিরে আসায় জেলেদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। গিয়াস উদ্দিন, সালাউদ্দিন ও মহিউদ্দিনের মা রশিদা বেগম আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ছেলেদের মুক্তির জন্য তিনি টানা তিন দিন আ্ল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করেছেন। সন্তানদের ফিরে পেয়ে তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
ফেরত আসা জেলে সালাউদ্দিন জানান, জোয়ার-ভাটার স্রোতে দিকভ্রান্ত হয়ে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন।
এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে এবং হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন চালায়। তিন দিন পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে, একটি সূত্র দাবি করেছে, সাগরে মাছ ধরার সময় আটক হওয়া আরও অনেক জেলে এখনো আরাকান আর্মির কাছে বন্দি রয়েছেন।
যদিও এর আগে বিজিবির মাধ্যমে ৭৩ জন জেলেকে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে, তবুও শতাধিক জেলে এখনো আটক থাকার কথা জানা গেছে।
সাগরে নিরাপদে মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানিয়েছেন জেলেরা।













