রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির কাউন্সিল : পরিবর্তন আসছে মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে

🗓 সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৮২ বার দেখা হয়েছে

🗓 সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৮২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৬ এপ্রিল) ::  প্রায় ২০ বছর পর দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরেছে বিএনপি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে দলটি।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শামনামলে প্রতিকূল পরিবেশে বিএনপিকে রাজনীতি করতে হয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীর কপালে জুটেছে নির্যাতন, গুম, খুন ও মামলা-হামলা।

সেই সময় বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মীকে হয় পালিয়ে, নয়তো জেলে থাকতে হয়েছে। চরম প্রতিকূল পরিবেশের কারণে প্রায় এক দশক জাতীয় কাউন্সিল করতে পারেনি দেশের অন্যতম প্রধান এই রাজনৈতিক দলটি। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের মার্চে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর কাউন্সিল হওয়ার নিয়ম থাকলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা থমকে আছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতেও। ফলে নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের শূন্যতা। পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে স্থবিরতা।

এখন সময় পাল্টেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রধানমন্ত্রী। দলের অধিকাংশ সিনিয়র ও তরুণ নেতা স্থান পেয়েছেন মন্ত্রিসভায়। অনেকেই এমপি হয়েছেন। ক্ষমতার বলয়ের সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যাতে দূরত্ব তৈরি না হয় সেজন্য বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনগুলোতে ঢেলে সাজাতে চাইছেন তারেক রহমান।

এ বছরই দ্রুততম সময়ে দলের কাউন্সিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটি। পাশাপাশি স্বল্প সময়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম-জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে বিএনপির কাউন্সিল ও দল পুনর্গঠন প্রসঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করবে বিএনপি। আমাদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করে ভবিষ্যতে কীভাবে দলকে দ্রুত কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যেতে পারি, সেই বিষয়গুলো স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি যে, দ্রুতই চেষ্টা করব দলকে কাউন্সিলের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কবে নাগাদ কাউন্সিল হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার জন্য আমাদের কমপক্ষে কয়েক মাস সময় লাগবে। এরপর ঠিক করতে হবে কাউন্সিলের সময়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এমপি বলেন, সরকার গঠনের পর সবাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এর মধ্যেই সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। কাউন্সিল হলে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পরিবর্তন আসবে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসবেন।

বর্তমানে দলটি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক ধীরগতি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন স্পষ্ট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন কাউন্সিল না হওয়া এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দল চালানোয় বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো বেশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। দ্রুত সংগঠন পুনর্গঠন না করলে বড় সংকটে পড়তে পারে দলটি।

তাদের ভাষ্য, সরকারে থাকার সুবিধা নিয়ে সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় তৃণমূলের এই হতাশা দীর্ঘমেয়াদে দলের রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিএনপির নয়টি অঙ্গসংগঠন ও দুটি সহযোগী সংগঠনের প্রায় সবগুলোর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, জাসাস ও উলামা দলসহ অনেক সংগঠনেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। ছাত্রদল ও শ্রমিক দলের অবস্থাও নাজুক।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আংশিক কমিটি দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মতে, এর ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি নষ্ট হচ্ছে।

দলটির নেতারা বলছেন, চলতি বছর কাউন্সিল হলে মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসতে পারে। বর্তমানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় রয়েছে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নাম।

তিনি স্বরাষ্ট্রের পাশাপাশি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করছেন। এই পরিস্থিতিতে দলে সার্বক্ষণিক সময় দিতে পারবেন এমন একজন নেতাকে মহাসচিব পদে আনার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এক্ষেত্রে মহাসচিব পদে বর্তমানে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নাম আলোচনায় রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যাকে দায়িত্ব দেবেন, তিনিই দলের মহাসচিব হবেন। এ ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা পরিষদসহ দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর