রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ পুলিশে চার হাজার এসআই নিয়োগ

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৪৫ বার দেখা হয়েছে

🗓 বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৪৫ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(৮ এপ্রিল) :: বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো ৪ হাজার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদে সরাসরি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য ৮৩ বছর আগের পুলিশ রেগুলেশন্স অব বেঙ্গল (পিআরবি)-এর অধিকতর সংশোধন চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সংশোধনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জরুরি ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখার অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান বুধবার ৮ এপ্রিল পিআরবি সংশোধনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, যেই বিধিতে আগে এসআই নিয়োগ হতো, সেটার সংশোধনের জন্য একটা খসড়া মন্ত্রণালয়ে আমরা পাঠিয়েছি। সরকার যদি সেটা অনুমোদন করে, তাহলে আমরা এসআই পদে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারব।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রটি জানিয়েছে, পিআরবি সংশোধন হলে এসআই পদে সরাসরি নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর আগে নিয়োগ হতো দুইভাবে। একটি হচ্ছে পদোন্নতির মাধ্যমে নিয়োগ, অপরটি সরাসরি নিয়োগ। এই দুইভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু ও শেষ করতে সময় লাগত।

এর সঙ্গে তদবিরসহ নানা ধরনের প্রশাসনিক ঝামেলাও পোহাতে হতো। এবার সেসব যাতে না ঘটে, সেজন্য সরাসরি নিয়োগের জন্য সরকারের কাছে পিআরবির সংশ্লিষ্ট ধারাটির সংশোধন চাওয়া হয়েছে।

একটি সুত্র জানিয়েছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুলিশকে যুগোপযোগী ও বাস্তবিক অর্থে জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত করতে এরই মধ্যে জনবল নিয়োগসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

এজন্য বেশ কিছু নির্দেশনাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশ সদর দপ্তরকে দিয়েছে। এসব নির্দেশনার আলোকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বিদ্যমান শূন্যপদ পূরণসহ সৃজিত পদের বিপরীতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

সূত্রমতে, ৪ হাজার এসআইয়ের পদ সৃজন করা হয়েছে। এসব পদে প্রথমবারের মতো সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বাধা, তা দূর করার জন্যই পিআরবির সংশ্লিষ্ট ধারাটির সংশোধন চেয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

গত মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স শাখা থেকে ৪ হাজার এসআই (নিরস্ত্র) সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণের জন্য পুলিশ রেগুলেশন্স ১৯৪৩-এর প্রবিধান ৭৪১(বি) সংশোধন বিষয়ক চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়, বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ফৌজদারি মামলার তদন্তের মূল দায়িত্ব বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ন্যস্ত। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির ফলে নতুন বহুমাত্রিক সাইবার অপরাধের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আগাম তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে অপরাধ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, উগ্রবাদ, মাদকসহ বিভিন্ন অর্গানাইজড ক্রাইম দক্ষ পুলিশি জনবল দিয়ে দমন করা এখন সময়ের দাবি। সেজন্য পুলিশকে একটি জনবান্ধব ও যুগোপযোগী পুলিশ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন।

পিআরবির সংশ্লিষ্ট ধারাটির সংশোধনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে খসড়ায় বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুরক্ষার পূর্বশর্ত হলো দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। সময়ের বিবর্তনে অপরাধের ধরন, প্রকৃতি ও পদ্ধতিসহ অপরাধ সংগঠনের মাত্রায় পরিবর্তন হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতির ফলে বহুমাত্রিক সাইবার অপরাধের সংখ্যাও প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধের ধরন ও মাত্রা বাড়ছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, রাষ্ট্রবিরোধী গুজব ছাড়াও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহে হ্যাকিং, পর্নোগ্রাফি, সাইবার বুলিং, এমনকি রাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাগুলো জরুরি ও জাতীয় নিরাপত্তা ও সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনা আমাদের সচেতন করেছে যে, সাইবার সুরক্ষা এখন আর কোনো বিলাসী চিন্তা নয়Ñ এটি একটি জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন।

খসড়ায় আরও বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের কিছু ইউনিট সাইবার অপরাধের তদন্তে কাজ করলেও তা অপ্রতুল ও কেন্দ্রীভূত। রাজধানীর বাইরে বিভাগীয়, জেলা ও খান পর্যায়ের জনগণ এ সেবা থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হচ্ছেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পুলিশের অন্যতম প্রধান কাজ হলো যেকোনো অভিযোগ অনুসন্ধানসহ মামলা ও অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।

এ অনলাইনের মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি কোনো অভিযোগের বিষয়ে থানায় না গিয়ে জিডি বা মামলা করতে পারবে এমন সুবিধা প্রবর্তন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যথাযথ আইন প্রয়োগ, জিডি অনুসন্ধানসহ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্যসংগ্রহ, বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক অপরেশনাল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের ক্ষেত্রে যুগোপযোগী ও দক্ষ জনবল থাকা অত্যাবশ্যক।

খসড়ায় আরও বলা হয়, সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও থানা পর্যায়ে মামলা তদন্ত, অপরাধী শনাক্তকরণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন, মাদকবিরোধী অপারেশন পরিচালনা প্রভৃতি কার্যক্রমে প্রধান ভূমিকা পালন করে। প্রচলিত বিধি অনুযায়ী মঞ্জুরীকৃত সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে ৫০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে ও ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ হয়ে থাকে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশে সরাসরি নিয়োগযোগ্য সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদের সংখ্যা ১০ হাজার ৫৭৪টি। এত অপ্রতুল জনবলের মাধ্যমে এই সুবিশাল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা প্রায় অসম্ভব। দক্ষ জনবলের অভাবে থানায় অনলাইনে জিডি ও মামলা করা থেকে শুরু করে তদন্ত এবং জিডি রেকর্ডসহ অনুসন্ধান কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। আধুনিক সময়ে অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কারণে অপরাধের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

এ ক্ষেত্রে একজন কর্মকর্তার কর্মপরিধি ও মামলা তদন্ত করার ক্ষেত্রে তার শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি কৌশলগত জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

তাই বাংলাদেশ পুলিশকে অধিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সততা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা, ব্যক্তিত্ব, সদাচার, স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা, কর্ম-উদ্যম, পেশাদারত্ব, মানবিকতা ও যোগ্যতা ইত্যাদির ভিত্তিতে সরাসরি নিয়োগযোগ্য সাব-ইন্সপেক্টরের (নিরস্ত্র)  সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। এজন্য প্রচলিত নিয়োগবিধি সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা দরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পদে সরাসরি নিয়োগে পুলিশ রেগুলেশন্স বেঙ্গল (পিআরবি) ১৯৪৩ ভলিয়ম ১ সংশোধন করে সরকার। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে গত বছর।

এতে বলা হয়, এএসআই পদের শূন্যপদ বছরে একবার পূরণ করা হবে। আর মোট পদের ৫০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ এবং বাকি ৫০ শতাংশ কনস্টেবল ও নায়েক পদ থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় লিখিত, শারীরিক, মনস্তাত্ত্বিক ও কম্পিউটার দক্ষতা পরীক্ষার বিধান আরও বিস্তারিত এবং কঠোর করা হয়েছে।

কনস্টেবল থেকে যারা পদোন্নতি পেয়ে এসআই হন, তাদের সরাসরি এসআই পদে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা একটু ভিন্ন চোখে দেখেন। আবার এসআই থেকে যারা এএসপি বা তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা হন, তারা প্রাপ্য মর্যাদা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর