রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ চৈত্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আইএমএফের অবশিষ্ট ঋণের কিস্তি ছাড়ে অনিশ্চয়তা

🗓 শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৩১ বার দেখা হয়েছে

🗓 শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

👁️ ৩১ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডটকম(১০ এপ্রিল) :: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর চলমান ঋণ কর্মসূচির অন্যতম শর্ত ‘রাজস্ব খাত’ সংস্কার থেকে পিছু হটেছে বিএনপি সরকার।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি বিল আকারে জাতীয় সংসদে এখনও উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অধ্যাদেশটি কার্যকর হচ্ছে না।

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির জন্য এ সংস্কার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি। না হলে সরকারের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হবে। পাশাপাশি আইএমএফের কাছ থেকে অবশিষ্ট ঋণের কিস্তি ছাড় পেতে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে ঋণ চাওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।

উল্লেখ্য, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে না তোলার সুপারিশ করেছে, ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫’ সেগুলোর অন্যতম। গত বছরের ১২ মে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। তারা এটির যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করে গেলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত কার্যকর করে যেতে পারেনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ওই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ৫৩ বছরের সরকারি প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলুপ্ত করে রাজস্ব নীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি আলাদা বিভাগ করা হয়। কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় বাড়াতে ও রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ব্যবসায়ীরা অনেক আগে থেকেই রাজস্ব খাত সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এ ছাড়া এ ব্যাপারে আইএমএফসহ দেশের অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও চাপ ছিল।

নতুন করে ভাবছে বিএনপি সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের একটি সূত্র বলেছে, রাজস্ব খাত সংস্কার নিয়ে নতুন করে ভাবছে বিএনপি সরকার। এনবিআর বিলুপ্ত করা হবে নাকি নতুন করে ঢেলে সাজানো হবেÑ সে ব্যাপারে এ সরকার এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ খাত সংস্কারের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শ নেবেন। তার পরই এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এখন যে এনবিআর আছে, তা ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে গঠন করা হয়। এই সংস্থা একদিকে করনীতি ও করহার নির্ধারণ এবং একই সঙ্গে আদায়ের দায়িত্ব পালন করে। অর্থাৎ রক্ষক এবং ভক্ষকের ভূমিকা একসঙ্গে পালন করছে এনবিআর। এতে করে কর ফাঁকি ও দুর্নীতির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় ব্যাহত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম রাজস্ব আহরণকারী দেশ।

আইএমএফের পরামর্শে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে সংস্কার করা হয়, তাতে এনবিআর ভেঙে দুটি আলাদা বিভাগ করা হয়। একটি হলো রাজস্ব নীতি বিভাগÑ যার কাজ করনীতি তৈরি করা, আইন সংশোধন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, গবেষণা ইত্যাদি অর্থাৎ মূলত করহার নির্ধারণ করা। অন্য বিভাগটির নাম রাজস্ব ব্যবস্থাপনাÑ যেটি মূলত কর আদায়ের কাজ করবে।

আরও ২০০ কোটি ডলার ঋণ চাইতে পারে সরকার

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের জুনে ৮০ কোটি ডলার বেড়ে এই ঋণ কর্মসূচির আকার ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার। বাকি আছে ১৮৬ কোটি ডলার। ষষ্ঠ কিস্তি আগামী জুনে পাওয়ার কথা রয়েছে। তা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে বাংলাদেশ নতুন করে আইএমএফের কাছে আরও ২০০ কোটি ডলার ঋণ চাইতে পারে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর শর্ত পূরণে বেশি পিছিয়ে আছে দেশের রাজস্ব খাত। এ খাতে যতটা সংস্কার হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। রাজস্ব আদায় ও নীতি প্রণয়নে আলাদা বিভাগ করার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আবার করছাড় কমিয়ে আনার বিষয়েও অগ্রগতি কম। সার্বিকভাবে শুল্ক-কর আদায় বাড়ানোর যে শর্ত ছিল, তা-ও হয়নি। ফলে পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়ের পাশাপাশি আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ চাওয়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বসন্তকালীন বৈঠকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে

আগামী ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে বাংলাদেশকে শর্তপূরণ বিশেষত সংস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নিতে আজ শুক্রবার রাতে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছে। এ বৈঠক প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ে সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, বৈঠকে দেশের অর্থনীতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হবে। চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি ছাড়ের বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, ‘কোনো সরকারই রাজস্ব খাতে এই সংস্কার করেনি। যদিও তা জরুরি ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারটি করেছিল। বর্তমান সরকারের এই সংস্কারের উদ্যোগটি বাতিল করা ঠিক হবে না। দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের স্বার্থে রাজস্ব খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখতে হবে।’

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর