সোমবার ৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভাঙাচোরা সড়কে সংস্কার, স্বস্তির মুখ দেখছে জনতা

🗓 মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

👁️ ৫৪ বার দেখা হয়েছে

🗓 মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

👁️ ৫৪ বার দেখা হয়েছে

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া :: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর মেহেরনামা চইরভাঙা এলাকায় দীর্ঘদিন অবহেলিত চইরভাঙা জামে মসজিদ থেকে পশ্চিমপাড়া কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় ২০ চেইন সড়ক সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

দীর্ঘ দুই যুগ ধরে সংস্কারবিহীন থাকা এ সড়কটি স্থানীয়দের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

জনদুর্ভোগ লাঘবে ব্যক্তিগত অর্থায়নে এগিয়ে এসেছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ইট ও বালু দিয়ে সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে সড়কটিতে ইট বিছানো হলেও এরপর আর কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি।

বর্তমানে সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে, কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ফলে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং পথচারীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।

এই সড়ক দিয়ে হরিনাফাড়ি, তেলিয়াকাটা, মচিন্যাকাটা, খাসপাড়া, চইরভাঙা (পূর্বপাড়া-পশ্চিমপাড়া)সহ আশপাশের অন্তত ৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করে।

বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ১০-১২ জন শ্রমিক ইট ও বালু দিয়ে সংস্কার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

পাশাপাশি কয়েকটি ডাম্পার ট্রাকে করে নির্মাণসামগ্রী আনতে দেখা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম নিজ উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই সংস্কার কাজ শুরু করেছেন, যা স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম বলেন, দুই যুগ ধরে সড়কটি অবহেলিত ছিল। এমন অবস্থা হয়েছে যে, হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রায় পাঁচটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে।

মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিজের অর্থায়নে কাজটি শুরু করেছি তবে স্থায়ী সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও চেয়ারম্যান মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করছি।

স্থানীয় কৃষক ফজল করিম ও বদিউল আলম বলেন, বছরের পর বছর এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে আমরা চরম কষ্ট পেয়েছি।

ধান আনা-নেওয়ার সময় অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। এখন কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।

ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম শামীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।

স্কুল শিক্ষার্থী ফাহিম, কলেজ শিক্ষার্থী তানিম ও সাকিব হোসেন বলেন, বর্ষাকালে স্কুল-কলেজে যেতে খুব কষ্ট হতো। এখন আশা করছি সমস্যার সমাধান হবে।

বায়তুন নুর জামে মসজিদের খতিব তমিজুল আলম বলেন, এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।

৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশরাফ আলী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।

অন্যদিকে আশি ঊর্ধ্ব বয়সী রাবিয়া বেগম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে হাঁটতে খুব কষ্ট হতো। এখন কাজ হচ্ছে দেখে ভালো লাগছে।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর