বুধবার ১৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

PBI এর তদন্তে চাঞ্চল্যকর সত্য : কক্সবাজারে ৬ ভাইয়ের মৃত্যূ ‘দুর্ঘটনা’ নয় ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড

🗓 বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

👁️ ১১২ বার দেখা হয়েছে

🗓 বুধবার, ০৬ মে ২০২৬

👁️ ১১২ বার দেখা হয়েছে

কক্সবাংলা ডেস্ক :: কক্সবাজারের চকরিয়ায় এক হিন্দু পরিবারের ছয় ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হলেও, পরবর্তীতে তা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের বিশেষায়িত সংস্থা পিবিআইয়ের তদন্তে।

২০২২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট এলাকায় ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।

হাসিনাপাড়ার সুরেশ চন্দ্র সুশীলের ছয় ছেলে—অনুপম, নিরুপম, দীপক, চম্পক, স্মরণ ও রক্তিম সুশীল—একই ঘটনায় প্রাণ হারান।

ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন, আর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহত হন আরও দুই ভাই ও এক বোন, যারা পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।

ঘটনার সময় পরিবারটি তাদের পিতার মৃত্যুর দশম দিনের পূজা শেষে মহাসড়ক পার হওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল।

ঠিক তখনই একটি সবজি বোঝাই পিকআপ দ্রুতগতিতে এসে কয়েকজনকে চাপা দেয়।

প্রথম ধাক্কায় থেমে যাওয়ার পরও চালক পুনরায় গাড়ি চালিয়ে আহতদের ওপর দিয়ে পেছনে ও সামনে চালিয়ে যায় এবং পরে দ্রুত পালিয়ে যায়—তদন্তে উঠে আসে এমন ভয়াবহ বর্ণনা।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সাধারণ সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে মামলা রুজু করা হয়।

অজ্ঞাতনামা চালকের বিরুদ্ধে মামলা করে থানা পুলিশ স্বল্প সময়ের মধ্যেই একজনকে গ্রেফতার করে। এমনকি অধিকাংশ মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়।

তবে ঘটনাটি গণমাধ্যমে আলোচনায় এলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেয়। দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআইয়ের গভীর তদন্তে বেরিয়ে আসে গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে চালকের স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থলের বিশ্লেষণ এবং আচরণগত প্রমাণ মিলিয়ে দেখা যায়—এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।

তদন্তে আরও জানা যায়, সংশ্লিষ্ট পিকআপটি ছিল ফিটনেসবিহীন, চালকের ছিল না বৈধ লাইসেন্স, এবং যানবাহনটির কোনো রুট পারমিটও ছিল না।

সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে পিবিআই চালকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে।

একই সঙ্গে পিকআপ মালিকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা করা হয়।

আদালত এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত চালককে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। অন্য আসামিদের বিচার কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

পিবিআই বলছে, এই ঘটনা প্রমাণ করে—প্রাথমিকভাবে যেটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হয়, যথাযথ তদন্ত, ঘটনাস্থল বিশ্লেষণ এবং আচরণগত প্রমাণ যাচাইয়ের মাধ্যমে সেটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবেও প্রমাণ করা সম্ভব।

এই বিভাগ এর আরো খবর

সর্বাধিক পঠিত খবর

এই বিভাগের আরো খবর